রাশিয়া আজ শোক দিবস পালন করছে. আজ সারা দেশে পের্ম শহরের নাইট ক্লাব কাফে "ল্যাংড়া ঘোড়াতে" ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ডে যারা শুক্রবার রাত্রে নিহত হয়েছেন, তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে শোক দিবস পালন করা হচ্ছে. নিহত ১১১ জন আহত প্রায় ১৪০. সারা দেশে জাতীয় পতাকা অর্ধ নমিত রাখা হয়েছে.

ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া লোকেদের সংখ্যার হিসাবে এটি রাশিয়ার নূতন তম ইতিহাসে বৃহত্তম ট্র্যাজেডি. অনুসন্ধান কার্যে যাঁরা অংশ নিয়েছেন, তাঁরা মনে করছেন বন্ধ জায়গায় নিষিদ্ধ আতস বাজী জ্বালানোর পর এই ঘটনা ঘটেছে. আতস বাজীর স্ফুলিঙ্গ পাতলা কাঠের ছাদের ডেকোরেশনে লেগে আগুন ধরে যায়, আর সেই আগুনের বিষাক্ত ধোঁয়ায় দম বন্ধ হওয়া লোকেরা ভয়ে ছুটোছুটি করে ভিড়ের মধ্যে প্রাণ হারায়.

পের্ম শহরের ঘটনা সকলকেই আতঙ্কে অভিভূত করেছে. ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্যের জন্য সারা দেশ এগিয়ে এসেছে. সমস্ত গুরুতর আহতদেরই মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গ ও চেলিয়াবিনস্ক শহরের বিশিষ্ট হাসপাতাল গুলিতে শনিবার ও রবিবার নিয়ে যাওয়া হয়েছে বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের বিমানে করে. পের্ম শহরেও আহতদের জীবন সংরক্ষণের জন্য চিকিত্সকেরা লড়াই করছেন. এখানে স্থানীয় ডাক্তার দের সাথে কাজ করছেন মস্কো থেকে যাওয়া চিকিত্সকেরা. এঁরা পুড়ে যাওয়া ও পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ. শহরের লোকেরা রক্ত দান করছেন. কেউ অর্থ সাহায্য করছেন. শহরের প্রশাসন নিহতদের পরিবারের জন্য অর্থ সাহায্য করছেন, লোকেরা ঘটনা স্থলে ফুল নিয়ে আসছেন.

আজ পের্ম শহরে প্রথম গণ কবর দান করা হবে, আজ ১৭ জনকে কবর দেওয়া হবে বলে প্রাথমিক খবরে প্রকাশ. মধ্য দিনে স্থানীয় পূণ্য ত্রইত্স্ক গির্জাতে নিহতদের জন্য প্রার্থনা করা হবে. রাশিয়ার অর্থোডক্স গির্জা এই ভয়ঙ্কর ট্র্যাজেডিতে নিহত দের শান্তি প্রার্থনা করছে. পের্ম ও সলিকামস্কের এপিস্কপ ইরিনার্খ সমস্ত বিশ্বাসী ও দয়াবান লোকদের খ্রীষ্ট ধর্ম বিশ্বাসীদের উপযুক্ত সহায়তা করতে বলেছেন এবং এই শোক ও দুঃখ সমানভাবে ভাগ করে নিতে বলেছেন, নিজেদের ঐতিহ্য মেনে মুসলমান, বৌদ্ধ ও ইহুদী রাও শোক প্রকাশ করছেন.

পের্ম এর এই ভয়ঙ্কর ট্র্যাজেডি থেকে উপযুক্ত শিক্ষা ও নেওয়া হবে. এই ঘটনার জন্য যারা দায়ী তাদের শাস্তিও পেতে হবে. বর্তমানে এই ঘটনার জন্য চারজনকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে. প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছেন তাঁর উদ্যোগে ঘটনার অনুসন্ধান ও সমাধানের জন্য প্রশাসনিক পরিষদের সঙ্গে এই বিষয়ে টেলিভিশন আলোচনার সময়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ.

"যা ঘটেছে তার সবটাই অপরাধ ছাড়া অন্য কিছু বলা যেতে পারে না. আমার তো মনে হয় এটা সম্পূর্ণ পরিষ্কার ভাবে দেখা যাচ্ছে. আপনি বলেছেন যে, ফরিয়াদি মামলা দায়ের করা হয়েছে, অবশ্যই এটা ইচ্ছাকৃত অপরাধ নয়, তবুও এই ঘটনার ভয়ঙ্কর ভার তার জন্য কমে তো যায় না".

পের্ম শহরের ট্র্যাজেডি দেখে শুনে মনে হচ্ছে দেশে আইনের ধারাতে পরিবর্তন আনবে. মনে করা হয়েছে যে, আগুন লাগা বন্ধ করার জন্য যে সব আইন আছে তা ভঙ্গ করলে কঠোর হবে শাস্তি. সারা দেশে বেআইনি ভাবে জমা করা ও বিক্রী করা আতস বাজী পরীক্ষা শুরু হয়েছে.

<sound>