রাশিয়ার পের্ম শহরে “লেম হর্স” নামের একটি নাইটক্লাবে গতকাল রাতে অগ্নিকাণ্ডের ফলে এ পর্যন্ত ১০২ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে.হাসপাতালে প্রায় ১৩০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে ,তবে এদের অধিকাংশের অবস্থা আশঙ্কাজনক.আতশবাজি থেকে এ আগুন লাগে বলে কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে.
রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশের পূর্ব দিকের শহর পের্ম ও উরাল পর্বতমালার সানুদেশের শহর. পের্ম অঞ্চলের প্রশাসনিক কেন্দ্র যা কামা নদীর তীরে অবস্থিত.এটি একটি বন্দর শহর হিসেবেও পরিচিত.আয়তনে এটি একটি বিশাল শিল্প নগরী বলা যায়. এখানে বিজ্ঞান গবেষনা কেন্দ্র, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং উরাল অঞ্চলে মালামাল পরিবহনের কেন্দ্র রয়েছে. পের্ম শহরের জনসংখ্যা প্রায় দশ লক্ষ.
সাপ্তাহিক কাজের শেষে শহরের লোকজন ক্লাবটিতে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য মিলিত হয়েছিল.স্থানীয় সময় রাত সোয়া ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে. দুর্ঘটনার সময় ক্লাবটির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠান চলছিল.ক্লাবের অভ্যন্তরে সকল প্রকার আতশবাজি ফোটানো নিষিদ্ধ, কিন্তু জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সেখানে আতশবাজি ফোটানো হয়. এ সময় ক্লাবে প্রায় ২৫০ জন লোক ছিল.আগুন লাগার ফলে ক্লাব থেকে দ্রুত বের হওয়ার সময় হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মারা যান অনেকে
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করা হয়েছে এবং তা চলবে পুরো দিন.ইতিমধ্যে নিহত ও আহতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে রাশিয়ার জরুরী সহায়তা মন্ত্রনালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (http://www.mchs.gov.ru/emergency/detail.php?ID=28294&).
আগুন লাগার ৩ মিনিট পরই অগ্নি নির্বাপক দলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়.এছাড়া জরুরী সহায়তা মন্ত্রনালয়ের বিশেষজ্ঞরা উদ্ধার কাজে সহায়তা করে.আহতদের অতি দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ও তাদের সবধরনের চিকিত্সা সেবা নিশ্চিত করার ঘোষনা দেওয়া হয়.
এ দিকে এ ঘটনার পর পরই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেব সরকারি একটি কমিশন গঠন করেন.তিনি দুর্ঘটনার কারণ দ্রুত খুঁজে বের করার জন্য এ কমিটিকে নির্দেশ দেন.
পের্ম অঞ্চলের সামাজিক নিরাপত্তা মন্ত্রী ইগর অর্লব বলেন,”আগুন লাগতে পারে তা জেনেও ক্লাবের অভ্যন্তরে আতশবাজি ফোটানো হয়”.রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবে জানায় যে, ঘটনার সময় কোন বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায় নি.অগ্নিকান্ডের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে.
<audio>