পের্ম শহরের কাফে "ল্যাংড়া ঘোড়াতে" যারা শুক্রবার রাত্রে ছিলেন, তারা এখনও আতংকের ঘোরে রয়েছেন, মনে করছেন আতস বাজী জ্বালানোর পর কি করে ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়েছিল আর সেই আগুনের বিষাক্ত ধোঁয়ায় দম বন্ধ হওয়া লোকেরা ভয়ে ছুটোছুটি করে পথ খুঁজছিল কাফের বাইরে পালাবার, কিন্তু অনেকেই সেই কাজের লোকেদের জন্য দরজাটা কোথায় তা জানত না. এখন পোড়া জায়গায় যেখানে পুলিশের গোয়েন্দারা অনুসন্ধান করছেন, সেখানে ফেলে যাওয়া অনেক মোবাইল টেলিফোন সমানে বেজে চলেছে. "ভীষণ ভয়ঙ্কর গন্ধ বেরিয়েছিল, সমস্ত কাঁচের জানলা ভেঙে গিয়েছিল, কোলে করে অল্পবয়সী পুড়ে যাওয়া মেয়েদের বার করে নিয়ে যাচ্ছিল — একটি রক্ষা পাওয়া মেয়ে এই কথা বলেছে, রিয়া নোভস্তি সংবাদ সংস্থার কাছে. "উত্সবের সময় ঠাণ্ডা আতস বাজী জ্বালানো হয়েছিল, স্টেজের কাছেই প্রথম আগুন লাগে, মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন ছড়িয়ে গিয়েছিল সব জায়গায় আকর গলগল করে বিষাক্ত ধোঁয়া বেরিয়ে চারদিক ঢেকে দিয়েছিল. যাদের কপাল ভাল তারা পালাতে পেরেছিল, বেশীর ভাগ লোকই মারা গিয়েছে, বিষাক্ত ধোঁয়া আর ভিড়ের চাপে"  বলেছে আরো একজন রেহাই পাওয়া লোক.

এই ট্র্যাজেডি ৯৪ জন লোকের মৃত্যুর কারণ হয়েছে, ১১৭ জন আহত হয়েছে বলে রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে. ঘটনাটি ঘটেছে মস্কো সময় রাত এগারোটা বেজে পনেরো মিনিটে. কাফে "ল্যাংড়া ঘোড়ার" আট বছর উদ্বোধনের উত্সব করা হচ্ছিল, ভিতরে ছিল বর্তমানের হিসেব মত ২২৩ জন. কাফের ভিতরে উত্সবের জন্য নানারকমের বাজী পোড়াবার বন্দোবস্ত করা হয়েছিল, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্ধ জায়গার জন্য এত বড় বাজী পোড়াবার ব্যবস্থা খুবই বিপজ্জনক, খোলা জায়গায় তা পোড়ানো যেতে পারে, কিন্তু বন্ধ জায়গায় নয়.

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার বিস্ফোরণ বিশেষজ্ঞরা এর মধ্যেই জায়গাটি পরীক্ষা করে রায় দিয়েছেন যে, এখানে কোন সন্ত্রাসবাদী কাণ্ড হয় নি. এই দুর্ঘটনার জন্য একটি ফরিয়াদি মামলা দায়ের করা হয়েছে, বিস্ফোরক দ্রব্যের অ সাবধানী ব্যবহারের জন্য.

এই ট্র্যাজেডি জানতে পেরে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ দেশের প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তার উপর ভিত্তি করে তিনি অবিলম্বে একটি বিশেষ প্রশাসনিক পরিষদ তৈরী করেছেন ও পরিষদের নেতৃত্ব করছেন বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রী সের্গেই শইগু. রাশিয়ার প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর ইউরি চাইকা এই ঘটনা অনুসন্ধানের দায়িত্ব নিজের হাতে নিয়েছেন. সের্গেই শইগু, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রশিদ নুরগালিয়েভ এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রী তাতিয়ানা গোলিকভা পের্ম উড়ে গেছেন, ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে সমস্ত ক্ষতিগ্রস্থ দের সাহায্য করতে ও এই ট্র্যাজেডির কারণ অনুসন্ধান করতে. একই সঙ্গে পের্ম শহরে দুইটি ই এল ৭৬ বিমান বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয় থেকে পুনরুজ্জীবনের উপযুক্ত যন্ত্রপাতি সমেত প্রচণ্ড ভাবে পুড়ে যাওয়া লোকেদের স্থানান্তর করবার জন্য পাঠানো হয়েছে.

মস্কো শহরে জাতীয় চিকিত্সা কেন্দ্র গুলিতে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি শয্যা সম্ভাব্য আহতদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রীর সহকারী সোফিয়া মালিয়াভিনা. তিনি আরও বলেছেন যে, আহতদের স্থানান্তর করার দরকার কিনা সেই সিদ্ধান্ত পের্ম শহরেই নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে এই সব জায়গা তৈরী থাকবে আহতদের নিতে. পের্ম অঞ্চলের রাজ্যপাল ওলেগ চিরকুনভ এর মধ্যেই মন্তব্য করেছেন যে, স্থানীয় চিকিত্সকেরাই নিজেরা আগুনে আহত দের চিকিত্সা করতে পারবেন.

 "ল্যাংড়া ঘোড়া" কাফের পাশে পের্ম শহরের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্য কেন্দ্রে বর্তমানে আহতেরা এবং নিহত ও ক্ষতিগ্রস্থদের আত্মীয়রা রয়েছেন. মনস্তত্ববিদেরা তাঁদের সাহায্য করছেন. এই কেন্দ্রে ক্ষতিগ্রস্থ ও নিহতদের তালিকা তৈরী করা চলছে. পের্ম শহরের প্রশাসন একটি হট লাইন চালু করেছে, যেখানে নিকটাত্মীয়দের সম্বন্ধে জানা যাবে. এই ফোনের নম্বর – (৩৪২) ২৬৩- ১২- ১২.