মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নূতন আফগানিস্থান সংক্রান্ত স্ট্র্যাটেজি পাকিস্থানে উদ্বেগের সাথে শোনা হয়েছে. দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণাতে বলা হয়েছে যে, বেশী করে পরিষ্কার ধারণা ও গ্যারান্টি পাওয়ার প্রয়োজন যে, পাকিস্থানের এতে কোন ক্ষতিকারক কিছু হবে না.

    বিষয়টি বিশদ করেছেন সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    এই রকম উদ্বেগের বোধহয় বেশ কিছু কারণ রয়েছে. অংশতঃ পাকিস্থানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যে, ন্যাটো জোট ও আমেরিকার সৈন্যদলের পরিমান পাশের আফগানিস্থানে বাড়লে, আফগানিস্থানের উগ্র পন্থীরা এর আগেও যেমন হয়েছে, তেমনই পাকিস্থানের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় অনুপ্রবেশ করে আশ্রয় খুঁজবে, সেই দক্ষিণ ওয়াজিরস্থানে, যেখানে বর্তমানে পাকিস্থানের সরকারি সৈন্যবাহিনী তালিবান বিদ্রোহী ও আল কায়দার যোদ্ধা দের সাথে বিশাল যুদ্ধে রত. সেখানে আফগানি তালিব যোদ্ধারা জড় হলে সন্দেহ নেই যে, পাকিস্থানের সৈন্য বাহিনীর জন্য যুদ্ধ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে, এমন কি অবস্থা অচল হয়ে পড়তে পারে.

    পাকিস্থানের লোকেরা আরও ভয় পেয়েছে যে, ওয়াশিংটনের এই নতুন রণ নীতি পাকিস্থানেও মার্কিন উপস্থিতি বৃদ্ধি করবে. বর্তমানে তা টের পাওয়া যাচ্ছে আফগান সীমান্তের কাছে লোকালয় ও ঘন বসতি পূর্ণ অঞ্চলে নিয়মিত পাইলট বিহীণ মার্কিন বোমারু বিমানের হানায়. কিন্তু এই নূতন নীতি অনুযায়ী মার্কিন বাহিনী পাকিস্থানের আফগান সীমান্তের কাছের অঞ্চলে সম্পূর্ণ ভাবে পদাতিক বাহিনী প্রয়োগ করে যুদ্ধ শুরু করতেও পারে. গত কিছু সময় ধরে ওয়াশিংটন পাকিস্থানের সরকারকে বেশ সক্রিয়ভাবে বোঝাতে চাইছে যে, তাদের দেশের মধ্যেই আল কায়দা ও তালিবান দলের নেতৃত্ব লুকিয়ে আছে. আমেরিকার পক্ষ থেকে যদিও এখনও কোন প্রমাণ উপস্থিত করা সম্ভব হয় নি. পাকিস্থানের সরকার এই বক্তব্যকে অস্বীকার করেই চলেছে.

    এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছাড়াও, মনে হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নূতন আফগানিস্থান সংক্রান্ত স্ট্র্যাটেজি সম্বন্ধে পাকিস্থানের এই উদ্বেগের পিছনে আরও একটা মূল কারণ লুকিয়ে আছে, যা নিয়ে পাকিস্থান এখনও কোন কথা বলতে চাইছে না.

    ইসলামাবাদ খুবই উদ্বেগে আছে, যে ওয়াশিংটন আফগানিস্থানে মনোযোগ বৃদ্ধি করে পাকিস্থানের এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করার যে প্রধান ভূমিকা আগে দিয়েছিল, তা থেকে বিরত হবে. আর তা হলেই সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য বন্ধ হবে. বেশ কয়েক বিলিয়ন ডলার আর পাওয়া হবে না, বিশেষত যে টাকায় পাকিস্থানের অর্থনীতি আজ দাঁড়িয়ে আছে তা এক লহমায় নেই হয়ে যাবে.

    এই দৃষ্টিকোণ থেকে বহু পর্যবেক্ষকই বিষয় টাকে দেখেছেন, তাঁদের সঙ্গে একমত রাশিয়ার পাকিস্থান অনুসন্ধান বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ, তিনি বলেছেনঃ

    "বিষয়টা বড় করে দেখলে, পাকিস্থানের লোকেরা ভয় পাচ্ছে যে, আমেরিকা এর পর আফগানিস্থানের যুদ্ধে বেশী মনোযোগ দেবে, আর তালিবদের বিরুদ্ধে পাকিস্থানের সামরিক বাহিনীর অভিযান হয়ে দাঁড়াবে একটা সাহায্যের মত ব্যাপার. সুতরাং পয়সা ব্যয় বেশী হবে পাকিস্থানের চেয়ে আফগানিস্থানের যুদ্ধে, যদিও রাষ্ট্রপতি ওবামা তাঁর স্ট্র্যাটেজি ঘোষণা করার সময় পাকিস্থানকে আফগানিস্থানে তালিবান বিদ্রোহী আর আল কায়দা যোদ্ধাদের সঙ্গে এই সংগ্রামের এক মূল সহায়ক এবং সাফল্যের কারণ বলে বলেছেন".