ইজরায়েলের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সম্পাদক নিকোলাই পাত্রুশেভ বলেছেন যে, রাশিয়া ইরানে আণবিক অস্ত্র উত্পত্তির বিরুদ্ধে, কিন্তু সেই দেশের সম্পূর্ণ ভাবে অধিকার আছে শান্তিপূর্ণ বিষয়ে পারমানবিক শক্তির ব্যবহারে. যদিও ইরান ঘোষণা করেছে যে, তারা নিজেদের দেশে ইউরেনিয়াম উন্নত করার জন্য দশটি নতুন কারখানা স্থাপন করার পরিকল্পনা করেছে, তাও রাশিয়া তাদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাবে, যাতে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল থাকে.

    নভেম্বর মাসের শেষে ইরানের রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনিজাদ খুবই কড়া ভাষায় আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থাকে সমালোচনা করেছেন, তাদের ইরানকে পারমানবিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ থাকার দাবীর প্রসঙ্গে. একই সঙ্গে তেহরান ঘোষণা করেছে যে, তারা পারমানবিক অস্ত্র নির্মাণ করতে চায় না, কিন্তু কারখানা তৈরী করবে এবং সম্ভবতঃ আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকবে.

    বিশ্ব সমাজের মতকে উপেক্ষা করে মাহমুদ আহমাদিনিজাদ মস্কোর পক্ষ থেকে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার বিষয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রচেষ্টাতে ও একই সঙ্গে রাশিয়া সহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, গ্রেট ব্রিটেন, জার্মানী ও ফ্রান্স এই ছয় দেশের সহকর্মীদের কাজে জল ঢেলে দিয়েছেন. তাই বোঝা যাচ্ছে না এই উল্টো রথে চড়ে ইরান কি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সফল করতে চলেছে. পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে যে, অদূর ভবিষ্যতে দশটি কারখানা তারা তৈরী করতে পারবে না. আর এত গুলি কি জন্যই বা দরকার হবে? যে সব দেশের এলাকা অনেক বেশী ও শক্তির প্রয়োজনও অনেক তাদেরও এত কারখানার দরকার পড়ে না, যেমন, রাশিয়াতে আণবিক বিদ্যুত উত্পাদন কেন্দ্রের সংখ্যা ৩০, কিন্তু ইউরেনিয়াম উন্নত করার জন্য কারখানার সংখ্যা মাত্র চার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ১০০ টি রিয়্যাক্টর কিন্তু কারখানা মাত্র ৮ টি. আর সব চেয়ে বড় কথা হল মস্কো, বেইজিং ও তাদের সহকর্মীদের শান্তির প্রয়াসকে এই ভাবে লোক দেখিয়ে ত্যাগ করার পেছনে উদ্দেশ্য আসলে কি? কারণ রাশিয়া ও চীন বিশেষ করে পরম্পরা বজায় রেখে ইরানের প্রতি নিষেধ সিদ্ধান্তের বরাবর প্রতিবাদ করে এসেছে. রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আলেক্সেই আরবাতভ এই প্রসঙ্গে বলেছেনঃ

    "কোন সন্দেহ নেই যে, ইরানের রাষ্ট্রপতির একটি উদ্দেশ্য হল, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে খুনই ঘোরালো করে তোলা, যাতে নিজের চারপাশে দেশের সমাজকে জড়ো করে যে কোন রকমের প্রতিবাদী পক্ষ থেকে নিজেকে আলাদা করে ফেলা যায়. জানাই আছে যে, বাইরের যে কোন বিপদের ক্ষেত্রে দেশের জনগন এক হয়ে থাকে. যথেষ্ট হবে একটা ঘোষণার আর সারা দেশের মানুষ এক হয়ে রুখে দাঁড়াবে. এটাই মূল উদ্দেশ্য. কিন্তু অন্য উদ্দেশ্যও আছে কিন্তু মনে হয়, আহমাদিনিজাদ নিজের অবস্থানকে বেশী শক্ত করে বোধহয় দেখছেন".

    বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করেছেন, ইরানের নেতৃত্ব খুবই বিপজ্জনক রাজনৈতিক খেলা শুরু করেছেন. আন্তর্জাতিক ভাবে ছয় দেশের আলোচনা সভা থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং দেশে ১০টি নতুন ইউরেনিয়াম উন্নত করার কারখানা তৈরীর ঘোষণা করে তেহরান আন্তর্জাতিক পরিষদকে বাধ্য করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার. একই সঙ্গে তারা ধরে নিয়েছে যে, তাদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ কেউ করবে না, কারণ বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের ও আফগানিস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট জেরবার. কিন্তু পর্যবেক্ষকেরা  মনে করেন যে, তেহরান সব চেয়ে বড় ভুল করতে চলেছে, সেখানে হিসেব করা হয় নি যে, তেল আভিভ ইরানের পারমানবিক প্রকল্প গুলির উপরে আগে থেকেই থামানোর জন্য আঘাত হানতে পারে. বৃহস্পতিবারে ইজরায়েলের নেতৃত্বের সাথে বৈঠকের পর রাশিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় দেশের নিরাপত্তা পরিষদের সম্পাদক নিকোলাই পাত্রুশেভ উল্লেখ করেছেন যে, ইজরায়েল ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার বিষয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন এবং "এটা বোঝা সম্ভব", যদিও আমাদের "মতের অমিল" আছে. আমরাও চাই না যে, ইরান পারমানবিক বোমা বানিয়ে ফেলুক, কিন্তু আমরা বলতে পারি না যে, ইরানের শান্তিপূর্ণ প্রয়োজনে পারমানবিক শক্তির ব্যবহারের অধিকার নেই. "এই বিষয় গুলিকে আলাদা করা উচিত", বলে তিনি বলেছেন.