বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন মস্কো সময় ১২ টা থেকে সরাসরি জনগনের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এক টানা চার ঘন্টা. এই সময়ের মধ্যে তিনি রাশিয়ার লোক দের ৮৭ টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন সরকার প্রধানের উপযুক্ত ভাবেই, তাঁকে করা  বেশীর ভাগ প্রশ্ন ছিল সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে.

এই সওয়াল জবাবের সময় তাঁর কথা দিয়ে কথা রাখা লোকের যে ভাবমূর্তি ছিল, তা আরও শক্ত হয়েছে. বেশীর ভাগ স্টুডিও তে উপস্থিত অতিথি, সরাসরি যাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তাঁরা সেই সব শহর ও কারখানার লোক, যেখানে ভ্লাদিমির পুতিন নিজে গিয়েছিলেন ও তাঁদের জীবনের জন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিজে হস্তক্ষেপ করে প্রয়োজনীয় ফল পাইয়ে দিয়েছেন. তাঁকে সাধারন প্রশ্ন ও অনেক করা হয়েছে, যেগুলি অবসর ভাতা, মূল্য বৃদ্ধি, ঔষধির দাম, পুলিশ বাহিনীর কুকীর্তি, স্টালিনের ঐতিহাসিক ভূমিকা, রাশিয়া ও বেলোরাশিয়ার সম্পর্কের উন্নতি এই সব নিয়ে. প্রধানমন্ত্রী কৃত রাজনৈতিক মন্তব্যে বিশেষ করে উল্লেখ যোগ্য হল তাঁর রাজনীতি থেকে অবসর প্রসঙ্গে ও নিজের সংসার ও ব্যক্তিগত কাজের জন্য নিজেকে ব্যাপৃত রাখার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য যে,  "অপেক্ষা করে কোন লাভ নেই" – অর্থাত্ তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন না এবং আগামী ২০১২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে বক্তব্য যে, "আমি ভেবে দেখব". আর তাও বেশীর ভাগ সরাসরি কথাবার্তা হয়েছে আর্থ – সামাজিক সমস্যা গুলি নিয়ে. রাজনীতি বিদ সের্গেই মারকোভ এই ধরনের জনগণের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা সম্বন্ধে মন্তব্য করে বলেছেনঃ

"আমার মনে হয়েছে যে, সরকার সত্য কথা বলা শুরু করেছে, নিজেদের কাজের কারণ ব্যাখ্যা করছে বড় কোন জনপ্রিয় আশ্বাস বাণী না শুনিয়ে. আমাদের দেশে কি হচ্ছে, সরকার কি করবে, কি রকম দেখছে বর্তমান পরিস্থিতি ইত্যাদি. আর এই সবই মানুষের সব চেয়ে কম সময় মেলে, প্রধানমন্ত্রীর সাধারন লোকেদের সঙ্গে বহু ঘন্টা ধরে কথাবার্তা থেকে বিশেষ করে জনগনের পক্ষে বোঝা সম্ভব হয় সরকার কি করতে চাইছে. যাতে প্রতিটি ব্যক্তি মানুষ তার নিজের কাজ ঠিক করে এবং নিজের কাজের সঙ্গে সরকারের উদ্দেশ্য কে এক করে দেখতে পারে. আর সংবিধান অনুযায়ী নিজের কাজের ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির. সব মিলিয়ে যা বলা যেতে পারে তা হল রাশিয়াতে সরকারি নীতি আছে. সরকারের একটা কাঠামো রয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের একটা ধারা রয়েছে এবং সরকারের নেতৃত্ব দেশের বহু বিষয়ের খবর রাখেন এবং সেই সব বিষয়ে আদ্যোপান্ত জানেন. আর্থ – সামাজিক বিষয়ে মনোযোগ দেখে বলা যেতে পারে যে, রাশিয়াতে সরকারের রাজনীতি হল সামাজিক দায়িত্ব পালন করা".

প্রধানমন্ত্রীকে এই বিপুল পরিমান প্রশ্ন করা দেখে বোঝা গেছে যে, জনগন সরকারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে আগ্রহী, তার উপরে এ ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, উল্টো যোগাযোগ রয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে যে আশ্বাস দেওয়া হয়, তা পালন করাও হয়. সমস্ত প্রশ্নের উত্তর ই মেলে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তও করা হয়ে থাকে.

<sound>