মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা তাঁর আফগানিস্থানের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন. এই প্রথম উনি আফগানিস্থান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন – ২০১১ সালের জুলাই মাস. ওয়েস্ট পয়েন্ট সামরিক ক্যাডেট কলেজে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট যে বক্তব্য রেখেছেন তাতে তিনটি মুখ্য বিষয় ছিল আমেরিকার নূতন স্ট্র্যাটেজির বিষয়ে.

    এই বিষয় গুলি বর্তমানের আফগানিস্থানের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রশাসনকে সহায়তা করা, সমাজের পক্ষ থেকে সমর্থন আদায় এবং পাকিস্থানের সঙ্গে ফলপ্রসূ সহযোগিতা করা. এই কাজের সমাধানের হলে ওবামার মতে আফগানিস্থান ও পাকিস্থানে সন্ত্রাসবাদী দল আল কায়দা কে জয় করা সম্ভব হবে, আমেরিকা ও তার জোট ভুক্ত দেশগুলির উপর আল কায়দার পক্ষ থেকে বিপদ কমানো সম্ভব হবে এবং তার সঙ্গে আফগানিস্থানের আইন সম্মত প্রশাসনকে যাতে তালিবান আন্দোলন উল্টে দিতে না পারে তার ব্যবস্থা করা যাবে.

    এই লক্ষ্য নিয়ে আফগানিস্থানে নিযুক্ত ৬৫ হাজার মার্কিন সৈন্য দলকে সহায়তা করতে আরও তিরিশ হাজার আমেরিকার সৈন্য ও অফিসার পাঠানো হবে. ওয়াশিংটন ন্যাটো জোটের সহকর্মী দেশ গুলি থেকেও এই কাজে সহায়তা আশা করেছে, যাতে তারাও আফগানিস্থানে এবং মধ্য এশিয়াতে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করে. অতিরিক্ত যোগাড় দেওয়ার প্রয়োজন যাতে নিজেদের হাতে উদ্যোগ নেওয়া যায়, বলে আমেরিকার নেতা মনে করেছেন. নতুন সামরিক দল কাজ করলে আফগানিস্থানের সামরিক বাহিনীর হাতে দেশের নিরাপত্তার ভার তুলে দেওয়া সহজ হবে এবং ২০১১ সালের জুলাই মাস থেকে আফগানিস্থান থেকে মার্কিন সৈন্যবাহিনী প্রত্যাহার করা সম্ভব হবে.

    সবটাই সদিচ্ছা, এখন প্রশ্ন হল তা করা কি সম্ভব হবে? গত আট বছর ধরে আফগানিস্থানে মার্কিন ও ন্যাটো জোটের সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি তো কম বার করা হয় নি, তবুও পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার কোন লক্ষণ দেখা যায় নি. সুতরাং কোন ভিত্তি নে বলার যে, এবারে তিরিশ হাজার সৈন্য বেশী পাঠালেই পরিস্থিতি পাল্টাবে. এ ক্ষেত্রে ভুলে গেলে চলবে না যে, অনেকটাই প্রতিপক্ষের উপর নির্ভর করছে. রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ এই বিষয়ে তাঁর মত বলেছেনঃ

    বারাক ওবামা যে ভাবেই তা পেশ করে থাকুন না কেন, নূতন স্ট্র্যাটেজি কোন গ্যারান্টি দিতে পারে না যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই আফগানিস্থানের কোন্দল শেষে বিজয়ী হয়ে বেরিয়ে আসতে পারবে. গুরুত্ব পাল্টানো সম্ভব, অতিরিক্ত সৈন্য দল পাঠানো সম্ভব, আল কায়দা বা তালিবানের সঙ্গে যুদ্ধের নীতিও পাল্টানো সম্ভব. মুখ্য যা হল তা মার্কিন বাহিনী এখনও আফগানি লোকেদের বুদ্ধি ও হৃদয়কে জয় করতে পারে নি এবং তারা প্রমাণ করতে পারে নি যে, তারা আফগানিস্থানের লোকেদের নিজের রাষ্ট্র গঠনে সাহায্য করতে এসেছে. যে প্রশাসন তালিব মুক্ত.

    বোঝাই যাচ্ছে যে, ওয়াশিংটনে আফগানিস্থান সম্বন্ধে স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তন কোন ভাল পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে করা হয় নি এবং কবে বাহিনী ফেরত আসবে তা বলতে বাধ্য হতে হয়েছে. কারণ হল আমেরিকার জনতার যুদ্ধ বিরোধী মনোভাবের বৃদ্ধি. তার ওপরে এই আফগানিস্থানের যুদ্ধের জন্য যা খরচ তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত এত ধনী দেশের পক্ষেও বাড়াবাড়ি রকমের. বারক ওবামা নিজেও তা স্বীকার করেছেন. তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিগত কয়েক বছরে আমেরিকা দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির মধ্যে ভারসাম্য হারিয়েছে. আর দেশ ইরাক বা আফগানিস্থানে যুদ্ধের খরচ হিসেব না করে পারছে না.