কার কাছে পাকিস্থানের পারমানবিক বোমার সুইচ? বর্তমানে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন অনেকেই. জানা আছে যে, গত শনিবারে বিরোধী পক্ষের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারী পারমানবিক অস্ত্র ভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ গিলানির হাতে তুলে দিয়েছেন. দেশে আবার একটা ক্ষমতার রদবদল হতে চলেছে ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি অশান্ত হল বলে মনে করেছেন বহু পর্যবেক্ষক. রাশিয়ার পাকিস্থান বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকোভের সঙ্গে কি ধরনের পরিস্থিতির বদল হতে পারে তাই নিয়ে আলোচনা করেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    পাকিস্থানের পারমানবিক অস্ত্র ভান্ডারের ভবিষ্যত নিয়ে নানা রকমের ধারণার কথা জানা আছে. এই দেশে পরিস্থিতির অবনয়ন ঘটলে এই অস্ত্র ভান্ডার ঐসলামিক চরমপন্থী, তালিবান, এমন কি আল কায়দা র হাতে পড়তে পারে. পাকিস্থান থেকে বিদেশে যেমন চীনে পাঠিয়ে দেওয়ার কথাও হয়েছে. আমেরিকার প্রশাসন থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদীদের হাতে পড়ার সম্ভাবনা দেখলে তারা বিশেষ বাহিনীকে আকাশ পথে পাঠাবে এই ভান্ডার রক্ষা করতে. সম্মানিত বিশেষজ্ঞ, আপনি পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতির দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে পারমানবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া কে কি চোখে দেখছেন?

    আমি মনে করি, এটা একটা আনুষ্ঠানিক ব্যাপার. কারণ সত্যিকারের পারমানবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে পাকিস্থানের সামরিক বাহিনীর হাতে. এমনকি যখন পাকিস্থানের সরকারের প্রশাসন ছিল নিহত প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর হাতে এবং পাকিস্থান এগোচ্ছিল গণতান্ত্রিক পথে, তখনও পাকিস্থানের পারমানবিক অস্ত্র ভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ ও সেই সব বিষয়ে পরিকল্পনা নিঃশব্দে করে যাচ্ছিল পাকিস্থানের সামরিক নেতৃত্ব.

    পরিস্থিতি খারাপ হতে দেখলে, দেশে একটা মাত্সান্যায় ও দেশকে ভেঙে টুকরো হতে দেখলেও আমার তো মনে হয় না যে, পাকিস্থানের পারমানবিক অস্ত্র চীন বা অন্য কোন দেশে রাখতে দেওয়া হবে, অন্ততঃ পাকিস্থানের সামরিক বাহিনী তা কিছুতেই হতে দেবে না, তারা নিজেদের হাতেই পারমানবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ রেখে দেবে. আর প্রযুক্তিগত ভাবে এটা করা খুব সোজা নয়. পাকিস্থানের নানা জায়গায় ছড়ানো পারমানবিক অস্ত্রের নানা অংশ একসাথে করে চীনে পাঠানো সম্ভব হবে না.

সেই রকম হতে পারত শুধু একটি ভাবে, যদি ঐসলামিক কট্টর পন্থীরা সরকারে আসে. কিন্তু কট্টর পন্থীরা দেশে ক্ষমতায় আসতে পারে শুধুমাত্র এক ভাবে, যদি দেশে সম্পূর্ণ অরাজকতা সৃষ্টি হয় এবং দেশ ভেঙে অনেক গুলি টুকরো ছদ্ম ঐসলামিক গোষ্ঠীর আমির শাহী রাজত্ব তৈরী হয় তবেই. কিন্তু এমন কি এ ক্ষেত্রে আমার মনে হয়েছে যে, সামরিক বাহিনী তাও পারমানবিক অস্ত্রের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখার চেষ্টা করবে, যদি না তাদের বেশীর ভাগ ঐসলামিক কট্টর পন্থী দের সাথে হাত মেলায়.

আমেরিকার সাংবাদিকেরা লিখেছে যে, আমেরিকার সামরিক বাহিনী আকাশ পথে গিয়ে পাকিস্থানের পারমানবিক অস্ত্র ভান্ডার গুলির নিয়ন্ত্রণের জন্য নামার সম্ভাবনা বাস্তবেই রয়েছে. কিন্তু আমার মতে তা হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ পাকিস্থানের সেনাবাহিনী মোটেও চাইবে না, আমেরিকার সৈন্যদের নিজেদের পারমানবিক গোপনীয় তথ্য তুলে দিতে. আর আমি যত দূর জানি আমেরিকা বর্তমানে পাকিস্থানের সমস্ত পারমানবিক প্রকল্প গুলি সম্বন্ধে সম্পূর্ণ তথ্য জানে না আর আকাশ পথে সৈন্য নামাতে হলে, সেই খবর সম্পূর্ণ ভাবেই থাকা উচিত্.

তাও আপনি তো বাতিল করে দিতে পারেন না এমন সম্ভাবনা যে, পাকিস্তানের পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে পারমানবিক অস্ত্র স্থানীয় কট্টর পন্থী বা তালিবদের হাতে পড়তে ও পারে. তখন এই অঞ্চলের দেশগুলির জন্য এর প্রভাব কি হবে, অংশতঃ ভারতের জন্য? রাশিয়ার জন্য সে ক্ষেত্রে সরাসরি কোন বিপদ আছে কি, অথবা অন্যান্য দক্ষিণের প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের প্রজাতন্ত্র গুলির জন্য? আমাদের সে ক্ষেত্রে কি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত্ হবে, যাতে করে এই ধরনের বিপদ এড়ানো যায়?

কাশ্মীরের সমস্যার জন্যই ভারতের জন্য পাকিস্থানের পারমানবিক অস্ত্র একবার ঐসলামিক কট্টর পন্থী দের হাতে পড়লে বিপদের কারণ হতে পারে. আমেরিকার ও ন্যাটো জোটের সৈন্যদের জন্য আফগানিস্থানেও তা বিপদের কারণ হতে পারে.মধ্য এশিয়ার দেশ গুলিতে ঐসলামিক আন্দোলনের সহায়তা করার জন্য ঐসলামিক কট্টর পন্থীরা যে পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না. তার গ্যারান্টি ও কেউ দিতে পারে না. সুতরাং এই সব কিছু মিলিয়ে রাশিয়ার দক্ষিণ সীমান্তে উদ্বেগের পরিমণ্ডল তৈরী হয়েছে. সে ক্ষেত্রে আমার মতে, রাশিয়ার উচিত্ পাকিস্থানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ও গণতান্ত্রিক প্রশাসনকে উন্নতির জন্য সর্বতোভাবে সাহায্য করা দরকার. আমাদের উচিত্ পাকিস্থানের সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালু রাখা, আমি বিশেষ করে বলতে চাই যে, পাকিস্থানের সঙ্গেই তা করা দরকার, পাকিস্থানের ভিতরের ঐসলামিক বিপদ ও কট্টর পন্থী ঐসলামিক দলগুলির সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য.