রাশিয়া ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার প্রসারের ঘোষণাতে খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েছে, পররাষ্ট্র দপ্তরের উত্স থেকে এই ঘোষণা করা হয়েছে.

    ইরান সরকার দশটি ইউরেনিয়াম উন্নত মানের করার জন্য কারখানা তৈরী করবে বলে ঘোষণা করেছে, দেশের পারমানবিক শক্তি সংস্থাকে আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে নাতাঞ্জে ও কুম শহর ছাড়া আরও পাঁচটি নতুন আণবিক কারখানা তৈরী করতে বলা হয়েছে এবং পাঁচটি নতুন কারখানা করার জন্য জায়গা বাছতে বলা হয়েছে. ইরানের সরকার বছরে ২৫০ থেকে ৩০০ টন আণবিক জ্বালানী তৈরী করার পরিকল্পনা করেছে. বুধবারে ইরানে মন্ত্রীসভার বৈঠক বসবে ইউরেনিয়াম শতকরা ২০ ভাগ উন্নত করে উত্পাদন করা সম্ভব কিনা তা যাচাই করে দেখতে.

    তেহরানের এই সিদ্ধান্ত গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পরিষদের সিদ্ধান্তে যে নিষেধাজ্ঞা গ্রহণ করা হয়েছে, তারই পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে. সেই সিদ্ধান্তে অবিলম্বে ইরানকে তার পারমানবিক পরিকল্পনা যে, শান্তিপ্রিয় সেই প্রয়াসের প্রমাণে স্বচ্ছ হতে বলা হয়েছে. অংশতঃ সেখানে অবিলম্বে কুম শহরে নির্মীয়মান ইউরেনিয়াম উন্নত করার কারখানার নির্মাণ বন্ধ করতে বলা হয়েছিল. যদি ইরানের পক্ষ থেকে দেশের বাইরে জ্বালানীর জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম উন্নত করার প্রস্তাবে নীরবতা কে মনোযোগ দিয়ে দেখা যায়, তবে দেখা যাবে যে, ইরানের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আশা করা হয়েছে যে, তেহরানে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পরিষদের সিদ্ধান্তে ইরানকে কুম শহরে আণবিক কারখানা নির্মাণের সংবাদ লুকিয়ে রেখে পরে জানানোর বিষয়ে যে সতর্ক হতে বলেছে, সেই বিষয়কে মনোযোগ দিয়ে পর্যালোচনা করবে.

    বোঝাই যাচ্ছে ঐসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যে সব দেশ কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে, তারা এখন ইরানের এই নতুন ঘোষণাতে বেশী করে কঠোর নীতি নেওয়ার কথা বলবে. তেহরানের বর্তমানের পারমানবিক পরিকল্পনার বিষয়ে দ্রুত উন্নতি করার প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক সমাজের সামনে যে সব দায়িত্ব আছে তার বিরুদ্ধ পথে চলেছে এবং ফলে ঐসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান যে একঘরে হতে চাইছে তার প্রমাণ হয়েছে. এই ঘোষণা করেছেন হোয়াইট হাউসের তথ্য দপ্তরের প্রধান রবার্ট গিবস. গ্রেট ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দপ্তর ইরানের এই ঘোষণাকে রাষ্ট্রসংঘের প্রতি যুদ্ধ ঘোষণার সঙ্গে তুলনা করেছে.

    এখন প্রশ্ন হল নিষেধাজ্ঞা কতটা ফলপ্রসূ হবে. রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর পূর্ব দেশীয় অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির ইসায়েভ নিষেধাজ্ঞার ফলে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেনঃ

    "ইরানের পক্ষ থেকে বিপদের আশংকা করে অনেক দিন ধরেই বৈঠক চলছে. সত্যি করে বলতে গেলে ইরানের এই শিল্পে কি যে হচ্ছে তা ঠিক করে কেউই জানে না. যদি ওরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওদের দেশের উপর সারাক্ষণ ঝুলে থাকা স্যাটেলাইটকে এড়িয়ে একটা কারখানা বানিয়ে থাকতে পারে, তবে দশটাও বানাতে পারে. এই দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা করে যে কোন ফল হয় না তা অতীতেও দেখা গেছে. আমি বলতে চাই না যে, ইরানের ওপর প্রভাব ফেলার মত কোন উপায় আছে. আশা করব যে, ইরান আলোচনায় বসতে রাজী হবে এবং তাদের ওপর কোন নিষেধাজ্ঞা বহাল করতে হবে না. তার ওপর সামরিক শক্তি প্রয়োগের ব্যবস্থা তো নয়ই".

    ধরে নেওয়া যেতে পারে যে, তেহরানের শেষ ঘোষণা একটি আবেগের বহিঃপ্রকাশ মাত্র, তার জায়গায় অবশ্যই আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অবস্থানের সঙ্গে সমঝোতা আসবে.