রবিবার জার্মানীর বার্লিনে আর্টিস্টিক জিমন্যাসটিকস প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড প্রিক্স ফাইনালে অ্যাবসলিউট চ্যাম্পিয়নের খেতাব পেয়েছেন রাশিয়ার ইভগেনিয়া কানায়েভা. ১৯ বছর বয়সী কানায়েভা এক সঙ্গে সমস্ত বিষয়ে ও আলাদা করে প্রতিটি বিষয়ে সোনা পেয়েছেন.

    সম্ভাব্য ছটি মেডেলের ছটি তিনি জিতেছেন. কেউ কখনো এই ফল অতিক্রম করতে পারবে না কারণ সম্ভব শুধুমাত্র এই ফল আবার পুনরাবৃত্তি করা. কিন্তু তার জন্য ইভগেনিয়া কানায়েভার চেযে ভাল হতে হবে, যা আজ সম্ভব নয়. ২০০৭ সালে ইভগেনিয়া দ্রুত গতিতে আর্টিস্টিক জিমন্যাসটিকস প্রতিযোগিতার সেরা দের মধ্যে ঢুকে পড়েন, এর আগে রাশিয়ার জাতীয় দলের বদলী খেলোয়াড় দের মধ্যেই শুধু তাঁর জায়গা মিলত. কিন্তু ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে তিনি একই সঙ্গে বহু বিষয়ের প্রতিযোগিতায় সোনা জেতেন. তারপর থেকে কখনোই আর হারেন নি. অংশতঃ জাপানে সেপ্টেম্বরে তিনি জিতেছেন ৬টি সোনার মেডেলের মধ্যে ছটি. এই বছর রাশিয়ার এই খেলোয়াড়ের জন্য ছিল সোনার বছর, তিনি একটি প্রতিযোগিতাতেও হারেন নি, তাঁর ট্রেনার ভেরা শ্টেলবাউমস বলেছেনঃ

    "এই সিজনে ইউনিভার্সিয়াডে সে পাঁচটা মেডেলের সব কটাই জিতেছে, ইউরোপের চ্যাম্পিয়নশীপে যে কটা ছিল সব কটা. বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে যে চারটে ছিল সেই চারটেই. মোদ্দা কথা হল এ বছরে একটাও হার নেই".

         সুতরাং রাশিয়ার এই সুন্দরী জিমন্যাস্টের জিমন্যাসটিকস গ্র্যান্ড প্রিক্স টুর্নামেন্টে ও জাপানের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপের মতই ইতিহাসে সেরা হয়েছে. এর আগে রাশিয়ার জিমন্যাস্ট অক্সানা কোস্তিনা ১৯৯২ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে ৫টি সোনার মেডেল পেয়েছিল.

    ২০০৯ সালের জাপানের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে ইভগেনিয়া কানায়েভা তাঁর কলা কুশলের সেরা প্রদর্শনী করে তবেই সোনা জিতেছেন. জাপানের ইসে শহরে রাশিয়ার দলের ও নিজের জন্য শেষ দুটি সোনা তিনি একমাত্র তাঁর মানসিক জোরের ফলেই বাকি প্রতিযোগী দের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে পেরেছেন. তারপর প্রায় দুই মাস কেটে গেছে, আবার কানায়েভা তাঁর সুললিত ভঙ্গী ও মানসিক শক্তিতে বিশ্বের সবাইকে পরাহত করতে পেরেছেন. বার্লিনের গ্র্যান্ড প্রিক্স প্রতিযোগিতা দিয়ে এই খেলার বছর শেষ হয়েছে, শেষ হয়েছে বছর কানায়েভার কৃতিত্বে রাশিয়ার জন্য সোনার বছর হয়ে. অবশ্যই বলা উচিত্ হবে যে রাশিয়ার দলের অন্য জিমন্যাস্টরাও গ্র্যান্ড প্রিক্স এর ফাইনালে দারুণ ফল করেছে, যেমন, আগামী দিনের স্টার জিমন্যাস্ট দারিয়া কন্দাকোভা দলের জন্য তিনটে রুপো এনেছে. আর ফাইনালে যেতে পেরেছিল দেশের দলের চারজন জিমন্যাস্ট.

    ৫ বছর বয়স থেকে যে শহরে কানায়েভা জিমন্যাসটিকস করতে শুরু করেছিলেন, সেই নিজের ওমস্ক শহরে বিশেষ করে সবাই খুব খুশী. আজ তাঁকে প্রায়ই এই বিষয়ের আরও একজন বিশ্ব সেরার সঙ্গে তুলনা করে থাকে – তিনি আলিনা কাবায়েভা. খেলার বর্ণনা যাঁরা দিয়ে থাকেন, তাঁরা তো প্রায় সময়ই পুনরাবৃত্তি করেছেন যে, রাশিয়ার দলের প্রধান ট্রেনার ইরিনা ভিনের শুধু কাবায়েভার '' এর জায়গায় '' লেখাতেই দেশে আরও একজন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উঠে এসেছে. গ্র্যান্ড প্রিক্স প্রতিযোগিতায় তাঁর নতুন বিজয়ের পর আরও একটা জিনিস বোঝা গেল যে, দেশে এক প্রজন্ম থেকে আর এক প্রজন্মের জিমন্যাস্ট বদল সম্ভব হয়েছে বিনা ক্ষতিতে. গত দিনে যারা বদলী হয়ে দলে ছিল, তারাই আজ নতুন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে. নানা প্রতিযোগিতার মেডেল পাওয়ার সোপানের উপরের ধাপ দখল করতে পেরেছে. তাই 'রাশিয়া''রাশিয়া এগিয়ে চল' আওয়াজ জিমন্যাসটিকসের কার্পেটের উপর শোনা থেমে যায় নি.