আজ ২৭ শে নভেম্বর কুরবান বৈরাম (অথবা ইদ আল-আধা) পালন করছেন সারা বিশ্বের মুসলমানেরা. এঁদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার মুসলমানেরাও. এই উত্সব মুসলমানদের বছর ভর প্রতীক্ষার পর এক বড় উত্সব.

    ঐতিহ্য বাহী কুরবান বৈরাম হজের একটি অংশ. মুসলমানেরা এই দিনে মক্কা ও মদিনা ভ্রমণে আসেন. কিন্তু সমস্ত কোরান বিশ্বাসী লোকই হজ করতে পারে না. যেমন, এই বছরে রাশিয়া থেকে ঐসলামিক বিশ্বের পবিত্র ভূমিতে হজ করতে গিয়েছেন মাত্র ২০ হাজারের সামান্য বেশী লোক. তা হলেও সমস্ত হজরত মহম্মদের শিক্ষায় বিশ্বাসী মুসলমান বাড়িতে থেকেও এই উত্সবের সঙ্গে জড়িত সমস্ত রকমের আচার পালন করে থাকেন.

    "কুরবান বৈরাম – এটি এমন এক উত্সব যে দিন আমরা মনে করি আল্লা আমাদের প্রতি কতটা ক্ষমা শীল ও দয়ালু এবং আমরাও সকলের প্রতি ক্ষমা ও দয়া প্রদর্শন করতে বাধ্য". আমাদের রেডিও স্টেশনের সাক্ষাত্কারে এই কথা বলেছেন রাশিয়ার মুফতি সংসদের উপপ্রধান দামির গিজাতুল্লিন. তিনি বলেছেনঃ

    কুরবান বৈরাম দিনে প্রতি ধার্মিক মুসলমান উত্সবের প্রার্থনা করতে মসজিদে আসেন. তারপর পরবর্তী তিনটি সৌর দিনে সেই ব্যক্তি ভেড়া বা পাঁঠা উত্সর্গ করতে বাধ্য. সাত জনের জন্য একটি দুই বছরের গরু, ষাঁঢ় এমন কি উট জবাই করে দেওয়া চলতে পারে. জবাই এর মাংস তিন ভাগে ভাগ করা হয়, এক ভাগ গরীব দের দেওয়া হয়ে তাকে, এক ভাগ নিজের পরিবারে রাখা চলে আর শেষ ভাগ থেকে অতিথি ও প্রতিবেশীদের জন্য রান্না করা হয়ে থাকে. এই উত্সবে সবাই এটা মানতে বাধ্য.

    আজ রাশিয়ার কয়েকটি মুসলিম প্রধান অঞ্চলে যেমন, তাতারস্থান, বাশকর্তোস্তান, চিচনিয়া, ইঙ্গুশেতিয়া, দাগেস্তান ও অন্যান্য জায়গায় সরকারি ভাবে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে. এমন কি যে সব অঞ্চলে কম মুসলমান থাকেন, সেই সব জায়গাতেও আজ নানা রকমের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন হজরত মহম্মদের শিক্ষায় বিশ্বাসীরা এবং এই সব অনুষ্ঠানে অন্য ধর্মের লোকেরাও অংশ নিয়েছেন. এই বিশেষ উত্সর্গ করার দিনে রাশিয়াতে বর্তমানের বিশ্বমারী রোগ সোয়াইন ফ্লু বা A H1N1 বিশ্বাসীদের উত্সব করার বিষয়ে কোন রকম প্রভাব ফেলতে পারবে না.  তবে সত্য যে, যে সব শহরে বর্তমানে এই রোগের ভাইরাস বর্তমানে বাস্তবেই বিপজ্জনক, সেখানে উত্সব বন্ধ না করে ছোট ভাবে পালন করা হবে.

    আজ কয়েক বছর ধরে প্রতিবারই এই উত্সবের আগে মসজিদে বড় মালগাড়ীতে করে জবাই এর পশু নিয়ে আসা হয়, যাতে সমস্ত বিশ্বাসী তাঁদের আচার পালন করতে পারে. যদিও উত্সবের দিনের আগে পাঁঠা ও ভেড়ার দাম অনেক বেড়ে যায়, তাও সকলেই দামের দিকে না তাকিয়ে এই দিনে সব কিনে ফেলেন, কারণ এই দিনে দরাদরি করা বারণ. মুসলমানেরা এই দিনে বড় দেখে জবাই এর পশু কেনেন, কারণ বিশ্বাস করেন যে, বিচারের দিনে এই পশু তার ভাল কাজের দিকের পাল্লাতে চড়ানো হবে.