বেইজিং শহরে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অন্তর্ভুক্ত দেশ গুলির উচ্চ পদস্থ মাদক নিরোধ কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা তিন দিন ব্যাপী এক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন. ২০১০ – ২০১৫ সালের মাদকদ্রব্য পাচার নিরোধ স্ট্র্যাটেজি তৈরীর কথা হয়েছে এই সম্মেলনে এবং সম্মেলনে দেশগুলির বাস্তবিক পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা ও পরিকল্পনা হয়েছে. বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক আলেকজান্ডার রমানভ.

আফগানিস্থানের প্রতিবেশী দেশ হওয়ার কারণে এই সাংহাই সদস্য সংস্থার বেশীর ভাগ দেশই প্রয়োজন বোধ করেছে মাদক চোরাচালান ও প্রসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার. আফগানিস্থান থেকে পাচার হওয়া মাদক দ্রব্য এবং তার সাথে জড়িত অপরাধীরাই এই মধ্য এশিয়া অঞ্চলের স্থিতিশীলতার পরিপন্থী. বর্তমানে আফগানিস্থানের বেশীর ভাগ মাদক তৈরী করার ল্যাবরেটরী মধ্য এশিয়ার দেশ গুলির সীমান্তের কাছে. মাদক বিরোধী দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী আফগানিস্থানের মাদক থেকে বহু লক্ষ লোক প্রাণ হারিয়েছে এবং সেখানে ২৫ বিলিয়ন এক কালীণ ডোজ হেরোইন তৈরী করা হয়েছে.

আফগানিস্থানে তৈরী শ্বেত মৃত্যু সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে. এই নেশার বস্তু চীন, রাশিয়া ও ইউরোপে চালান হয়ে যাচ্ছে. রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বেআইনি মাদক নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের হিসেব মত বর্তমানে দেশে প্রায় ২৫ লক্ষ মাদক নেশা গ্রস্ত লোক রয়েছে (সরকারি হিসাবে প্রায় ৫ লক্ষ লোক আছে). এই বিষয়ে কয়েকদিন আগে মস্কো শহরে দপ্তরের প্রধান ভিক্টর ইভানভ সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করে বলেছেনঃ

"যদি আমাদের এই দপ্তর কাজ না করত, তবে বর্তমানে মাদক গ্রস্থ লোকের সংখ্যা কম করে হলেও ১০ গুণ বেশী হত, এমনকি ১০০ গুণ বেশী হতে ও পারত. ১৯৯০ সালের মধ্যে দেশে মাদক নেশা গ্রস্থ লোকের সংখ্যা বেড়ে ছিল শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ. তারপর থেকে আমরা দেশের সরকার কে শক্ত করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়াতে এই দপ্তর তৈরী করেছি এবং বর্তমানে মাদক ব্যবহার কারী লোকের সংখ্যা শুধুমাত্র বাড়ছে না তাই নয়, বলা যেতে পারে সংখ্যা বৃদ্ধি প্রায় থেমে গেছে".

বেইজিং সম্মেলনে যাঁরা অংশ নিয়েছেন, তাঁরা সকলেই এক বাক্যে স্বীকার করেছেন যে, চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ভুক্ত দেশ গুলির মাদক নিরোধ ব্যবস্থা সম্বন্ধে প্রচুর অভিজ্ঞতা রয়েছে. দেশ গুলির মধ্যে এই বিষয়ে যোগাযোগ বাড়ছে. এই ভাবেই পরিকল্পনা তৈরী করা সম্ভব হয়েছে আগামী পাঁচ বছরের মাদক পাচার নিরোধের. ডিসেম্বর মাস থেকেই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অন্তর্ভুক্ত দেশ গুলির সবার একসাথে তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা চালু হয়ে যাচ্ছে, যেখানে প্রত্যেক ধরা পড়া মাদক পাচার কারী ও মাদক ব্যবসায়ীর খবর থাকবে. এই তথ্য থাকলে খুব দ্রুত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার দেশ গুলি ও ব্যবস্থা নিতে পারবে এবং মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে মোকাবিলা করা সহজ হবে.

<sound>