আজ রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের ফ্রান্স সফর শুরু হচ্ছে.

    এই সফরের সরকারি উদ্দেশ্য ফ্রান্স ও রাশিয়া সরকারের প্রশাসনিক পরিষদের সম্মেলন যেখানে ভ্লাদিমির পুতিন ও তাঁর ফরাসী সহকর্মী প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সুয়া ফিইওন সাক্ষাত্কার করবেন. কিন্তু এই সাক্ষাত্কারে সেই সব প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা হবে যেগুলি রাশিয়া ও ফ্রান্সের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রধান অর্থ হবে. যেমন, ফ্রান্সের গাড়ীর কারখানা 'রেনো – নিসান' এর সঙ্গে রাশিয়ার গাড়ীর কারখানা 'অটোভাজ' এর ভবিষ্যত সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত. এই বিষয়ে শেষ কথা বলা হবে ফ্রান্স সফরের সময়. পুতিনের সফরের সময় 'অটোভাজ''রেনো' পরিকল্পনা করেছে ভবিষ্যত চুক্তির বিষয়ে একটি পারস্পরিক বোঝাপড়ার দলিলে স্বাক্ষর করা হবে. এই দলিলে বলা হবে কি করে 'রেনো' 'অটোভাজ' কারখানায় সাহায্য করবে এবং কারখানার মূল ধনে বিনিয়োগ করবে. 'রেনো – নিসান' কারখানার সঙ্গে 'অটোভাজ' কারখানার আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্ভবতঃ অন্যতম বাস্তব সুযোগ রাশিয়ার এই বিরাট গাড়ী তৈরীর কারখানার পুনরুজ্জীবনের. রাশিয়ার লোকসভা সদস্য ও বিনিয়োগ বিষয়ের কমিটির প্রধান আলেক্সেই বাগারিয়াকভ অন্ততঃ তাই মনে করেন, তিনি বলেছেনঃ

    "আমি সরকারের কথাটা বুঝতে পারি, সরকার ক্রমাগত 'অটোভাজ' কে টাকা দিয়ে যেতে পারে না. এটা বোঝা যাচ্ছে যে, এই কারখানা পুরনো হয়েছে এবং কিছু একটা করা দরকার. আধুনিকীকরণ প্রয়োজন অথবা নতুন কোন কারখানা করা দরকার. আর ফরাসীদের মত সহকর্মী আমাদের প্রয়োজন আছে. আর প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনার অবশ্যই ভিত্তি রয়েছে, যখন তিনি বলেছেন যে, আমরাই কি শুধু এই কারখানা বাঁচাতে টাকা ঢেলে যাবো. আমার মতে ফরাসীদের কাছ থেকে কিছু একটা পেতে চাইলে তা কঠিন হবে. ফরাসীরা 'অটোভাজ' কে টাকা দেবে না. প্রযুক্তি দিতেও পারে".

    গাড়ী তৈরী শুধুমাত্র একটি অধ্যায় দুই দেশের সহযোগিতার. অংশতঃ বলা যেতে পারে যে, রাশিয়ার নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সম্ভাব্য 'মিস্ত্রাল' নামের ফরাসী জাহাজ কেনার কথাও হতে পারে. কিন্তু কেনার চুক্তি সই করার কথা এখনই উঠছে না. এখানে দুই পক্ষের যারা কথা বলবে তাদের ঠিক করা হবে, বোধহয় রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী. যদি এই কথাবার্তা সব ঠিক হয় তবে রাশিয়া দুই বছর পরে সমস্ত দলিল স্বাক্ষর করার পর 'মিস্ত্রাল' কিনতে পারে.

    আরও একটি আলোচনার বিষয় হবে জ্বালানী শক্তি বিষয়ে. বর্তমানে ফ্রান্সের 'ইলেকট্রিসিটে ডে ফ্রান্স' কোম্পানী রাশিয়ার গাজপ্রমের সঙ্গে আলোচনা করছে 'দক্ষিণ প্রবাহ' গ্যাস পাইপ লাইনের কিছু মাইনরিটি শেয়ার কিনতে, যে পাইপ লাইন দিয়ে ইউক্রেন কে এড়িয়ে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ করার কথা হচ্ছে. 'ই ডি এফ' কোম্পানীর গ্যাস সংক্রান্ত দপ্তরের ভাইস প্রেসিডেন্ট দোমিনিক ভেনেট ঘোষণা করেছেন যে, "আমরা শক্তি সরবরাহের কোম্পানী, আমাদের গ্যাস চাই. প্রথমতঃ আমাদের প্রয়োজন সরবরাহের বিষয়ে গ্যারান্টি". 'ই ডি এফ' এর মতো আরো একটি ফরাসী জ্বালানী শক্তি সরবরাহ করার কোম্পানী 'গ্যাস ডে ফ্রান্স সুইত্স' এর নেতৃত্ব রাশিয়া থেকে গ্যাস পাওয়ার পাইপ লাইনে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখিয়েছে. তাঁরা গাজপ্রমের কাছ থেকে 'উত্তর প্রবাহের' পাইপ লাইনে বিনিয়োগের শেয়ারের নয় শতাংশ কিনতে চেয়েছে. এর ফলে তাঁদের কাছে গ্যাস সরবরাহের গ্যারান্টি থাকবে.

    উচ্চ প্রযুক্তি এই রাশিয়া ফ্রান্স প্রশাসন সহযোগিতা পরিষদের আলোচনার বিষয় হতে চলেছে. ২০১০ সালে আশা করা হয়েছে যে, রাশিয়ার রকেট 'সইউজ' ফ্রান্স অধিকৃত বিষুবরেখার কাছের আফ্রিকার 'কুরু' কসমোড্রম থেকে পাঠানো হবে. ফ্রান্সের উদ্দেশ্য হল রাশিয়াতে তাদের প্রযুক্তি প্রসারের জন্য শিল্পের সংখ্যা বাড়ানো.

    আগামী বছর ফ্রান্স রাশিয়া বছর উদযাপনের আগে এই বৈঠকের একটি আলাদা তাত্পর্য রয়েছে. ফরাসী আয়োজক কমিটির জেনেরাল কমিসার নিকোল্যা শিবায়েফ জানিয়েছেন যে, দুই পক্ষের শুধু জাতীয় পর্যায়েই প্রায় ৪০০ টি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, আঞ্চলিক পর্যায়ে এর সংখ্যা হবে আরো অনেক বেশী. বড় প্রযোজনা গুলির মধ্যে আছে ফ্রান্সের লুভ্যর মিউজিয়ামে রাশিয়ার বৃহত্ প্রদর্শনী 'পবিত্র রুশ দেশ', যা মার্চ মাসে উদ্বোধন করা হবে. এই প্রদর্শনীর আয়োজনে অংশ নিয়েছে মস্কোর অর্থোডক্স চার্চের কমিটি এবং রাশিয়ার বহু নামী জাদুঘর. জুন মাসে প্যারিসের গ্র্যান্ড প্যালেস এ রাশিয়ার জাতীয় প্রদর্শনী হবে. সুতরাং এই সমস্ত বিষয়ের কথা যোগ করলে রাশিয়া ও ফ্রান্সের সহযোগিতার সম্পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে নূতন পারস্পরিক ভাবে লাভজনক সহযোগিতাতে পরিণত হওয়ার.