২৬ শে নভেম্বর মুম্বাই ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে, যখন এক দল অস্ত্র ধারী সন্ত্রাসবাদী পাকিস্থান থেকে এসে হঠাত্ করে হামলা চালিয়েছিল এই বহু লক্ষ মানুষের শহর ভারতের মুম্বাইতে. দুটি পাঁচতারা হোটেল, রেলওয়ে স্টেশন, হাসপাতাল ও আরও কয়েকটি বাড়ী দখল করে তারা নির্বিচারে বিস্ফোরণ ও গুলি বর্ষণ করে নিরীহ নিরস্ত্র মানুষদের হত্যা করে উল্লাস করেছিল. তিনটি দীর্ঘ দিন পেরিয়ে তবে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনী আয়ত্বে আনতে পেরেছিল এই ধ্বংসলীলা. এক জন সন্ত্রাসবাদী ধরা পড়েছিল আর বাকী নয় জন কে মারতে পারা সম্ভব হয়ে ছিল. প্রায় দুই শ জনের উপর দেশী ও বিদেশী লোক নিহত হয়েছিল. ভারতের আভ্যন্তরীন রাজনীতির কাঠামো এই সন্ত্রাসবাদী হামলার ফলে নড়ে উঠেছিল. দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি খুবই খারাপ হয়ে গিয়েছিল. ভারত ও পাকিস্থানের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল অনন্ত কালের জন্য. যে আলোচনা তার আগে প্রায় চার বছর ধরে ধীরে হলেও এগিয়ে ছিল উন্নতির দিকে. এই সন্ত্রাসবাদী হামলা এত দূরে পিছিয়ে নিয়ে গেছে যে, দিল্লী ও ইসলামাবাদ এখনও নিজেদের সম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে পারে নি আগের অবস্থায়.

দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ ও রাশিয়ার রাজনীতিবিদ ভ্লাদিমির সোতনিকোভের সঙ্গে আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ মুম্বাই হামলার থেকে পাওয়া শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তিনি বলেছেনঃ

  "মুম্বাই হামলার প্রধান শিক্ষা হল এই ধরনের হামলা যেন আর কখনও কোথাও না হতে পারে, তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া. এই সন্ত্রাসবাদীদের লক্ষ্য ছিল ভারত ও পাকিস্থানের মধ্যে যুদ্ধ বাধিয়ে দেওয়া, পাকিস্থানী সৈন্য বাহিনীকে এই দেশের উত্তর পশ্চিমে যেখানে তারা আফগান সীমান্তে সক্রিয়ভাবে চরম পন্থী ও সন্ত্রাসবাদী দল তালিবান ও আল কায়দার বিরুদ্ধে লড়ছে, সেখান থেকে সরিয়ে ভারত সীমান্তে নিয়ে আসা ও ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে ব্যস্ত করা".

কিন্তু এই রকম হামলার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় তার জন্য কি করা উচিত্? কারণ এটাই তো প্রথম বার নয়. মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে পাকিস্থানের লস্কর এ তৈবা দলের সন্ত্রাসবাদীদের ২০০১ সালের ভারতের লোকসভা আক্রমণ, যার পরে ভারত ও পাকিস্থানের সম্পর্ক খুবই খারাপ হয়ে গিয়েছিল.

"এর জন্য পাকিস্থানের জনগণের সরকারকে সমস্ত পক্ষেরই, যাদের এই অঞ্চলে কোন স্বার্থ আছে যেমন, আফগানিস্থানে তালিবান ও আল কায়দার বিরুদ্ধে যুদ্ধ রত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার ন্যাটো জোট, রাশিয়া ও অন্যান্য মধ্য এশিয়া ও নিকট প্রাচ্যের দেশ সকলেরই সাহায্য করা যাতে তারা এই বিপদের ঢেউ থেকে হত্যার বন্যা থেকে মাত্সান্যায় থেকে রেহাই পেতে পারে. মুম্বাই হামলার মত যে কোন সন্ত্রাসবাদী হামলা ভারত ও পাকিস্থানের মত দক্ষিণ এশিয়ার দুই টি বৃহত্ দেশকে যে কোন মুহূর্তে সশস্ত্র যুদ্ধের সামনে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে, যা একবার হতে চলেছিল ২০০১ – ২০০২ সালে, অথবা যুদ্ধ কালীণ বিবাদের সামনে. আর এই ধরনের বিবাদে কি হতে পারে তা কল্পনা করাও কঠিন, কারণ দুই টি দেশই পারমানবিক শক্তির অধিকারী. পাকিস্থানের সরকারকে পাকিস্থান ও আফগানিস্থান সীমান্তের সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করতে এখন চাই সর্ব দেশীয় সাহায্য, যাতে তারা এই সমস্যার মোকাবিলা করতে পারে". (sound)