বিমান ও মহাকাশ যান নির্মাতা ও সোভিয়েত দেশের একজন প্রথম মহাকাশচারী কনস্তানতিন ফিওকতিস্তভ এর মস্কো শহরে ৮৪ বছর বয়সে জীবনাবসান হয়েছে. তাঁর সহকর্মীরা তাঁকে বলতেন "ভগবানের পাঠানো ইঞ্জিনিয়ার", ফিওকতিস্তভ শুধুমাত্র নিজের কাজের জায়গায়ই সেরা ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রথম অসামরিক এবং নির্দলীয় সদস্য যিনি মহাকাশে যেতে পেরেছিলেন.

    রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ তাঁর পরিবারের কাছের লোকেদের কাছে সমবেদনা জানিয়েছেন. তাঁর সহকর্মীরা তাঁর এই সাফল্য মণ্ডিত জীবন এবং অত্যন্ত স্বকীয় প্রতিভায় উজ্বল ব্যক্তিগত গুণের কথা স্মরণ করেছেন. মহাকাশচারী গিওর্গি গ্রেচকো র ভাষায় কনস্তানতিন পেত্রোভিচ মহাকাশযান নির্মাণের বিষয়ে ছিলেন একজন পেশাদার নির্মাতা এবং বলা যেতে পারে ভগবান প্রদত্ত ক্ষমতার অধিকারী ইঞ্জিনিয়ার. মস্কোর বাউম্যান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর ইগর ফিওদরভ উল্লেখ করেছেন যে, ফিওকতিস্তভ প্রথম অসামরিক ইঞ্জিনিয়ার, যিনি মহাকাশে গিয়েছিলেন. ১৯৬৪ সালের ১২ ই অক্টোবর ফিওকতিস্তভ, বরিস ইগোরভ ও ভ্লাদিমির কামারভের সঙ্গে প্রথম একাধিক যাত্রী বাহী মহাকাশযান 'ভসখোদ' (প্রভাত) এ চড়ে মহাকাশে গিয়েছিলেন, তিনি নিজে এই মহাকাশযান নির্মাণেও অংশ নিয়েছিলেন. কনস্তানতিন পেত্রোভিচকে রাজী করাতে হয়েছিল মহাকাশযানের প্রধান নির্মাতা করলিয়ভ কে, যাতে তিনি তাঁকে মহাকাশে যেতে দেন, তাঁর আগে আর কেউ অসামরিক ইঞ্জিনিয়ার মহাকাশে যায় নি.

    যে দলের হয়ে তিনি মহাকাশ যাত্রা করেছিলেন, তারাই প্রথম মহাকাশের উপযুক্ত বর্ম পোষাক না পরে পৃথিবীর চারিদিকে ২৪ ঘন্টা ধরে ১৬ বার পাক খেয়ে প্রায় সাত লক্ষ কিলোমিটার ঘুরে আবার মাটিতে ফিরে আসতে পেরেছিল সুস্থ শরীরে. এই 'ভসখোদ' মহাকাশ যানের আরোহীরা বিশ্বে দুটি অনতিক্রম্য রেকর্ড গড়েছিল – মহাকাশ যানের পৃথিবী থেকে সবচেয়ে বেশী উচ্চতার অরবিটে (৪০৮ কিলোমিটার) সবচেয়ে বেশী ওজন (৫, ৩২ হাজার কিলোগ্রাম) তুলে. মহাকাশ যানে ফিওকতিস্তভ থাকায় সেখানে কাজও হয়েছিল অনেক বেশী, অ্যাস্ট্রোনমি ও জিওফিজিক্সের মত বিষয়ের নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা. মহাকাশ যাত্রা কালে তাঁর পুরুষত্ব ও বীরত্বের জন্য তাঁকে 'সোভিয়েত দেশের বীর' পদক দেওয়া হয়েছিল.

    মহাকাশ যাত্রার পরে ফিওকতিস্তভ মন দিয়েছিলেন নতুন মহাকাশ যান নির্মাণে ১৯৯০ সাল অবধি তিনি এই কাজ করে গিয়েছেন. তাঁর অবদান রয়েছে 'সইউজ', 'সইউজ – টি', 'সইউজ – টি এম', 'প্রোগ্রেস', 'প্রোগ্রেস – এম' ইত্যাদি মহাকাশযানের সূচনায়. তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বহুকাল ব্যাপী মহাকাশে বিচরন রত মহাকাশ স্টেশন 'স্যালিউট', 'মির' ইত্যাদির নির্মাণে. তাই বর্তমানের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনকেও তাঁর ভাব সন্তান বলা যেতে পারে.

    নির্মাণ কাজ শেষ করে ফিওকতিস্তভ পড়ানোর কাজও করেছেন. তিনি বাউম্যান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন এবং রেক্টরের বর্ণনা মত তিনি একজন শক্ত ও কাজ আদায় করা প্রফেসর ছাড়াও একজন অত্যন্ত ভাল শিক্ষক ও ছিলেন. তাঁকে এই বিশ্ববিদ্যালয় একান্তই নিজেদের লোক বলে জানত, কারণ তিনি এখানে নিজেও পড়াশোনা করেছিলেন. তাঁকে একজন মহা বিশ্বের ব্যক্তিত্ব বলা যেতে পারে, তাঁর নামে তাঁর জন্মস্থান ভরোনেজ শহরে শুধুমাত্র স্কুল বা রাস্তাই নেই, এমন কি চাঁদের উল্টো পিঠের একটি খাদও তাঁর নামাঙ্কিত.