মস্কো শহরে ১৮ – ১৯ নভেম্বর ভারত ও রাশিয়ার সমাজের প্রতিনিধিরা এক সম্মেলনে জমা হয়েছেন, এখানে দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়ে বহু বছর ধরে কর্মরত মানুষেরা, যুব সমাজের সক্রিয় কর্মীরা, দুই দেশের সরকারের প্রতিনিধিরা সকলেই এসেছেন. প্রায় দ্বিশত অংশগ্রহণকারী এই সম্মেলনে আলোচনা করছেন বর্তমান ও ভবিষ্যতের সহযোগিতার বিষয়ে.

জওহরলাল নেহরু যে রকম পোষাক পরতেন, সেই রকমই কালো আচকান পরে তার উপর রাশিয়া থেকে পাওয়া মৈত্রী পদক লাগিয়ে আন্তর্জাতিক ঐক্য তহবিলের প্রেসিডেন্ট এবং ভারতের রাজনীতির বহু দিনের কর্মী, পাঁচটি রাজ্যের এক সময়ের রাজ্যপাল ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী শ্রী ভীষ্ণ নারায়ণ সিংহ গর্বিত ভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন. তিনি রাশিয়া থেকে পাওয়া এই পদকের জন্য খুবই খুশী. "রেডিও রাশিয়ার" সাংবাদিক নাতালিয়া বেন্যুখ কে তিনি বলেছেনঃ

"কয়েকদিন আগে ভারত সফরের সময় রাশিয়ার উপ প্রধান মন্ত্রী সের্গেই সবিয়ানিন আমাকে এই পদক দিয়ে সম্মানিত করেছেন, এই রকম একটি বিখ্যাত পুরস্কার পাওয়া খুবই সৌভাগ্যের বিষয়. আমি খুশী যে, ভারত এবং রাশিয়ার বন্ধুত্ব বৃদ্ধি হয়েছে, বিশ্বাস করি ভোলগা ও গঙ্গা নদীর জলের প্রবাহের মতই এই দুই দেশের সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে".

 উপ পররাষ্ট্র মন্ত্রী আলেক্সেই বরদাভকিন নিজের বক্তৃতায় বলেছেন ভারত ও রাশিয়ার বিশেষ বন্ধুত্বের কথা.

"আমাদের দুটি দেশকে শক্ত ভাবে বেঁধেছে দুই দেশের সহযোগিতার বন্ধন, এ ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব কখনও দেখা দেয় নি. রাশিয়া ও ভারত রাষ্ট্রসংঘ, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং ব্রিক দেশ গুলির মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে. বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক এক অন্যতম বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে".

আলেক্সেই বরদাভকিন বিশ্বাস করেন যে, আগামী কিছু দিনের মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহের রাশিয়া সফর দুই দেশের সম্পর্ককে এক নতুন স্তরে উন্নত করবে.

ভারতের রাশিয়ায় রাজদূত শ্রী প্রভাত শুক্লা দিল্লী ও মস্কোর সম্পর্কের গতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন. তিনি বলেছেনঃ

 "আমাদের দুই দেশের স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতা খুবই ভাল আর তা ২০০০ সাল থেকে দ্রুত উন্নতি করেছে, ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম দিক হল আর্থ বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতি, এই বছরে দুই দেশের বাণিজ্যের মোট পরিমান সাড়ে আট বিলিয়ন ডলার হবে বলে মনে করা হচ্ছে. আগামী ২০১৫ সালে এই পরিমান বেড়ে ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে".

এই সম্মেলনে অংশ নিতে এসে রাশিয়ার উপ সংস্কৃতি মন্ত্রী আন্দ্রেই বুসিগিন বলেছেন তাঁর মতে অর্থনৈতিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সব ক্ষেত্রে সহযোগিতার ভিত্তি সংস্কৃতির ক্ষেত্রে যোগাযোগের উপর নির্ভর করে. এই সম্পর্ক তৈরী হয়েছিল মহাত্মা গান্ধী ও লেভ তলস্তয়ের মধ্যে চিঠি আদান প্রদানের মাধ্যমে. এই সম্পর্ক পরে আরও বিকশিত হয়েছে যখন সোভিয়েত দেশের লোকেরা রাজ কাপুরের সিনেমা দেখেছে আর ভারতের লোকেরা দেখেছে সের্গেই বনদারচুক, সের্গেই আইজেনস্টাইনের সিনেমা. ২০০৮ সালে ভারতে রাশিয়া বর্ষ পালনের সময় এবং এই বছরে রাশিয়াতে ভারতের বছর পালনের সময় এই সম্পর্ক আরও উন্নত হয়েছে. আমরা চাই ভারত ও রাশিয়ার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও প্রসারিত হোক.

এই সম্মেলনের বয়স্ক প্রতিনিধিদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলের যুব বিভাগের প্রতিনিধি ও সেক্রেটারী কুমারী আল্কি লাম্বার সাদা শাড়ী পরে আত্ম বিশ্বাসের সঙ্গে গভীর বোধের পরিচয় দিয়ে বক্তৃতা. তিনি বলেছেনঃ

"ভারতের জন্য রাশিয়া এক গুরুত্বপূর্ণ দেশ, দুই দেশেই যুব সমাজ দেশের পরিবর্তনে সক্রিয় ভাবে অংশ নিয়েছে. এক সময়ে ভারতের প্রয়াত প্রধান মন্ত্রী রাজীব গান্ধী ভারতের যুব সমাজকে দেশের উন্নতির জন্য সক্রিয় অংশ নিতে বলেছিলেন এবং যাদেরই ১৮ বছর বয়স, তাদের সকলের জন্য দেশের লোকসভা ও বিধান সভাতে নির্বাচিত হওয়ার ক্ষমতা দিয়েছিলেন. উনি আন্তর্জাতিক যুব সমাজের যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্যও কাজ করেছিলেন. ১৯৮৯ সালে ভারত ও রাশিয়ার আন্তর্জাতিক যুব ক্লাবের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, আজ এই সংস্থার ২০ বছর হয়েছে. এই সংস্থা দুই দেশের যুব সমাজের সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য কাজ করে চলেছে. দুই দেশের জাতীয় বর্ষ উপলক্ষে যুব সমাজ বহু সেমিনার ও সিনেমা উত্সবের আয়োজন করেছে. এখন আমরা সক্রিয় ভাবে দুই দেশের খেলাধূলা, পর্যটন এবং পেশাগত শিক্ষার বিষয়ে সহযোগিতা করছি. ভারত ও রাশিয়ার যুব সমাজ দুই দেশের আগামী দিনের দায়িত্ব নিতে তৈরী হচ্ছে. আমরা সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাবে সম্পর্কের উন্নতি ও দুই দেশের যোগাযোগ কে আরও ঘনিষ্ঠ করার জন্য সক্রিয় ভাবে অংশ নেবো".

এই সম্মেলনের কিছু ঘটনার বিবরণ আজ দেওয়া হল, ভারত ও রাশিয়ার আর্থ বাণিজ্যিক সম্পর্ক, মানবিক সম্পদ সংক্রান্ত সহযোগিতা, সংবাদ মাধ্যমের সহযোগিতা আলোচনা চালু রয়েছে. এর বিবরণ ক্রমশ প্রকাশ্য. (sound)