মস্কো শহরের দক্ষিণে ১৭ ই নভেম্বর ১৯৮৪ সালে ২৫ বছর আগে একটি ছোট ডেকোরেটিভ এবং অ্যাপ্লায়েড আর্টের মিউজিয়াম দিয়ে এই অর্ধেক ভেঙে পড়া জারের প্রাসাদের একটি ছোট বাড়ীতে শুরু হয়েছিল বিশাল স্থাপত্য ও বাগানের মিউজিয়াম ও সংরক্ষিত অঞ্চল "জারিতসিনো". আজ এই জায়গা মস্কোর বাসিন্দাদের এই শহরের আরো নানা সংরক্ষিত অঞ্চলের মধ্যে একটি সবচেয়ে বেশী দেখতে যাওয়ার ও পছন্দের এলাকা হয়ে দাঁড়িয়েছে.

    মিউজিয়াম ও সংরক্ষিত অঞ্চল "জারিতসিনো" চালনা কর্তা আলেকজান্ডার বেজরুকভ বলেছেনঃ

    "আমরা বর্তমানে সোজা উপরে ওড়ার মতো অবস্থায় আছি, এই মিউজিয়াম এখন স্বাভাবিক বিবর্তনের পথে উন্নতি না করে বৈপ্লবিক উন্নতি করে চলেছে, যাতে করে আধুনিক প্রগতিশীল মিউজিয়াম গুলির একটা তে রূপান্তরিত হতে পারে. জারিতসিনো মিউজিয়ামে যাওয়া আমাদের অতিথিদের জন্য একটি পর্যটন কাজে পরিণত হয়েছে. এখানে শুধু মস্কোর লোকেরাই নন, বরং দেশের নানা জায়গার এমনকি বিদেশ থেকেও দর্শক আসেন. অবশ্যই তাঁরা শুধু মিউজিয়ামের দ্রষ্টব্যই দেখতে আসেন না, একই সঙ্গে দেখতে পান খুবই উচ্চমানের স্থাপত্য ও সংস্কৃতির উদাহরণ এবং দারুণ সুন্দর বাগান".

    আজ পুনরুদ্ধার করা জারের প্রাসাদের ভিতরে প্রাণ ফিরে এসেছে, এখানে ঐতিহাসিক দ্রষ্টব্যের স্থায়ী প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে, যেমন কি করে জারিনা ইকাতেরিনা দ্বিতীয়া ১৮ শ শতকের শেষে এই সুন্দর জায়গাটি কিনে নিয়ে মস্কোর উপকন্ঠে নতুন প্রাসাদ বানিয়েছিলেন এবং এই জায়গার নাম ও দিয়েছিলেন জারিতসিনো. এখানে মূর্তি থেকে সোজা তাকিয়ে আছেন জারিনা (সম্রাজ্ঞী) এবং দুই বিশ্ব বিখ্যাত রাশিয়ার স্থপতি ভাসিলি বাঝেনভ এবং মাতভেই কাজাকভ, যাঁদের পরিকল্পনা থেকে এখানে প্রাসাদ ও প্যাভিলিয়ন বানানো হয়েছিল. যদিও এখানে খুব একটা পরিস্কার করে বলা হয় নি কেন যে, সম্রাজ্ঞী এই প্রাসাদ ও বাগান পছন্দ করেন নি এবং কেনই বা তা এতকাল পরিত্যক্ত ছিল. বাস্তবে এক বিশাল নিও গথিক শৈলীতে বানানো অসম্পূর্ণ প্রাসাদ প্রায় দুশো বছরের ওপর ছিল নানা রকমের জিনিসপত্র রাখার কাজে ব্যবহার করে ধীরে বিপজ্জনক এক ভগ্ন সৌধে পরিণত হতে চলেছিল.

    ১৯৮৪ সালে যখন জারিতসিনো প্রাসাদে প্রথম শিল্প ও স্থাপত্যের মিউজিয়াম তৈরী করা হয়, তখন থেকেই এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যের নিদর্শন টির কপাল ভাল হতে থাকে. শুরু হয়েছিল সারাই করার কাজ, ধীরে হলেও বেশীর ভাগ প্রাসাদের জীবনের পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল, ২০০৭ সালে সব চেয়ে বড় প্রাসাদের সারানোর কাজ শেষ হলে মিউজিয়াম ও সংরক্ষিত অপূর্ব বাগান সবার জন্য খুলে দিয়ে এই কাজের একটি বড় অধ্যায়ের শেষ করা হয়েছিল.

    দেখা গেল অল্প সময়ের মধ্যেই এই মিউজিয়াম মস্কোর এক বড় সংস্কৃতি কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, গত বছরে জারিতসিনো আন্তর্জাতিক খ্যাতিও পেয়েছে. এই প্রাসাদ ও বাগানের পুনর্নিমাণ কাজে যে সমস্ত স্থপতি, উদ্ধার কাজের শিল্পী, নির্মাতা অংশ নিয়েছিলেন, তাঁরা সকলে খুবই বিখ্যাত ইউরোপের বের্নার্ড রেমার্সের নামে পুরস্কার পেয়েছেন. পুরস্কারে লেখা আছে ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত স্থাপত্য সংরক্ষণ এবং পুনরুদ্ধারের জন্য প্রশংসনীয়. জারিতসিনো রাশিয়ার প্রথম প্রকল্প, যা এই পুরস্কার পেয়েছে.