দেখা গেল যে, বিশাল আর শক্তিশালী আল কায়দা দলের বিরুদ্ধে পাকিস্থানে ও আফগানিস্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যুদ্ধ করাটা নাকি প্রথম কাজ, সেই দল নাকি খুব একটা বড়ও নয়, আর তাদের ক্ষমতাও খুব একটা নেই. আমেরিকার বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা দেশের গুপ্তচর সংস্থার খবর নিয়ে জানিয়েছে যে, বর্তমানে তাদের হিসেব মত আফগানিস্থানে শ খানেক আর পাকিস্থানে শ তিনেক মত আল কায়দা যোদ্ধা রয়েছে. কেউ কিন্তু বলছে না যে, আল কায়দা দুর্বল হলেও যে আর নেই বা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার কোন দরকার নেই. কিন্তু তাদের থেকে বিপদকে এত বড় করে দেখানোর দরকারটা কি? আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস বাদের সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়টা কি ভাবে নিয়ে থাকে, আল কায়দা বা এই রকম দল গুলির বিনাশ, তাদের নেতাদের ধরা, অথবা অন্য কিছু? বিশেষজ্ঞ ভিক্টর নাদেইন রায়েভস্কি "রেডিও রাশিয়া" কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এই সম্বন্ধে যা বলেছেন, তা হলঃ

"এই মাত্র আমেরিকার "News Junkie Post" জার্নালে একটা প্রবন্ধ বেরিয়েছে প্রফেসর স্টিভেন ডুফ্রেশু এর লেখা. তিনি এই সমস্যা নিয়ে চিন্তা করে বলেছেনঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুদ্ধ করছে, নাকি যা সব এই বিষয়ে বলা হয়েছে, তা হল জনমতকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা? স্টিভেন ডুফ্রেশু মনে করেন যে, ১১ ই সেপ্টেম্বর ২০০১ সালের পর থেকে আমেরিকার প্রশাসন জেনে শুনে "ঐসলামিক চরমপন্থা" কে "সন্ত্রাসবাদের" সঙ্গে এক করে দিয়েছে, কারণ মার্কিন সরকার ঐসলামিক চরমপন্থার সঙ্গে সত্যিই লড়ছে. এই মতের সঙ্গে কি এক মত হওয়া যায়, আমি ব্যক্তিগত ভাবে অংশতঃ একমত. সত্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করার নাম করে অন্য কিছু একটা কে ঢাকার চেষ্টা করছে, কিন্তু সেটা কিছুতেই ঐসলামিক চরমপন্থার সঙ্গে নয়. উদাহরণ দিচ্ছি, যেমন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০০৩ সালে যখন ইরাকে অনুপ্রবেশ করেছিল, সেখানে আল কায়দার কোন সন্ত্রাসবাদী ছিল না, ঐসলামিক চরমপন্থী ও কেউ ছিল না. তবু ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই দেশ আক্রমণ করেছিল আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের মোকাবিলা করার নাম করে. ওদের আসল উদ্দেশ্য কি ছিল? অল্প কাল পরেই তা প্রকট হয়েছিল, এই দেশের ও তার প্রচুর জ্বালানী সম্পদের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ. আমার মতে আফগানিস্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বহু কাল ধরে সেনা বাহিনী রাখার পিছনে শুধুমাত্র তালিবান আন্দোলন বা আল কায়দার সঙ্গে যুদ্ধ করাই কারণ নয়., বরং অন্য কারণ আছে. আর সেটা হল, আফগানিস্থান প্রাকৃতিক তেল ও গ্যাসে ধনী ইরানের প্রতিবেশী দেশ এবং এই দেশে ইরান ও অন্যান্য মধ্য এশিয়ার দেশের মধ্যে তেল ও গ্যাস সরবরাহের পাইপ লাইন বসানোর কাজ ভবিষ্যতে করা গেলে প্রচুর লাভ আছে. আমি বলতে চাই না যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে একে বারে যুদ্ধ করছে না, তারা করছে, কিন্তু এই যুদ্ধের অন্তরালে নিজেদের বাস্তব প্রয়োজনের কথা খেয়াল রাখছে, একই সঙ্গে বিশ্বের সমস্ত প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ ও রাখতে চাইছে. আমেরিকার এই বিশেষজ্ঞ নিশ্চয় শুনলে রাগ করবেন না যে, তিনি যে বলছেন সন্ত্রাসবাদের নাম করে আমেরিকা ঐসলামিক চরমপন্থার সঙ্গে লড়ছে, সেটাও আসলে গা ঢাকা দেওয়ার পোষাক মাত্র".

<sound>