রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিদের সিঙ্গাপুরে সাক্ষাত্কারের গুরুত্বপূর্ণ ফল হয়েছে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার বিষয়ে নিজেদের অবস্থানকে কাছাকাছি অবস্থায় আনা. এই রকমই মানে করেছেন বহু পর্যবেক্ষক এই বৈঠকের শেষে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের ঘোষণা থেকে, যেখানে তিনি বলেছেন, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াও অন্য কোন পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারে, যদি ইরান তার সামনে রাখা বিশ্ব সমাজের উদ্বেগের কারণ হওয়া প্রশ্নের সদুত্তর না দেয়.

এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন যে, বৈঠক করা হয়েছে, বৈঠকের থেকে আনন্দ পাওয়ার জন্য নয় বরং বাস্তব ফল পাওয়ার জন্য. এই কাজের উদ্দেশ্য তেহরানের কাছ থেকে সঠিক গ্যারান্টি পাওয়া যে. তাদের পারমানবিক পরিকল্পনা স্বচ্ছ হবে. দিমিত্রি মেদভেদেভ ঘোষণা করেছেন, কিছু অবশ্যই সাফল্য পাওয়া গেছে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবং এই প্রসঙ্গে বিশেষ করে বলেছেনঃ

"কিন্তু আমাদের কাউকেই এই প্রক্রিয়ার গতি সন্তুষ্ট করতে পারে নি. আমরা আশা করি যে, আমাদের ইরানের সঙ্গে সম্মিলিত কাজের ফল হবে সেই সব চুক্তিতে উপনীত হওয়া, যা আগেও বলা হয়েছে. আর ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা হবে শান্তিপূর্ণ. এই লক্ষ্য পূরণের জন্য আমরা এর পরও কাজ করতে তৈরী আছি এবং আশা করি আমাদের এই ধরনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা সাফল্য লাভ করবে. কিন্তু তা যদি আমাদের পক্ষে সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে সেই সব পদ্ধতি ব্যবহারের সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে, যার কথা আগেও বলা হয়েছে, যাতে এই প্রক্রিয়া অন্যভাবে এগিয়ে যায়".

এই ঘোষণা করে দিমিত্রি মেদভেদেভ বাস্তবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি সেপ্টেম্বর মাসে নিউ ইয়র্কে বারাক ওবামা কে যা বলেছিলেন সেই অবস্থানেই রয়েছেন, অর্থাত্ ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধ আরোপ করা – আমাদের নির্বাচিত পথ নয়, কিন্তু যদি অন্য কোন ভাবেই তেহরানকে বোঝানো সম্ভব না হয়, তবে এই নিষেধ আরোপ করার পথও নেওয়া যেতে পারে. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার পররাষ্ট্র প্রধান সের্গেই লাভরভ দুই রাষ্ট্রপতির সাক্ষাত্কার সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন যে, রাশিয়া আগের মতই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ভাবে ইরানের পারমানবিক সমস্যার বিষয়ে সমাধান করতে চায়, যাতে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধ সিদ্ধান্ত ব্যবহার করতে না হয়. মস্কো এই ক্ষেত্রে ইরানের পক্ষ থেকে "ছয় দেশের" আন্তর্জাতিক ভাবে করা অক্টোবর মাসের প্রস্তাবের গঠনমূলক প্রতিক্রিয়া আশা করে. তাতে বলা হয়েছে ইরানের পারমানবিক রিয়্যাক্টরের জ্বালানী সরবরাহ করা এবং ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার অন্যান্য সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করার কথা.

অবশ্যই আমেরিকার রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা যদিও বলেছেন যে, উত্তর পাওয়ার শেষ সময় পেরিয়ে যাচ্ছে, তবুও তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাত্কারের সময় থেকেই তিনি চাইছেন সম্মিলিত ভাবে ইরানের পারমানবিক সমস্যার একটি সমাধান সূত্র গঠনমূলক ভাবে খুঁজে পেতে. হোয়াইট হাউসের প্রধান বলেছেন, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পথ নির্বাচনে সাহায্য করতে প্রস্তুত এবং অন্য দিক থেকে আলাদা কোন পদ্ধতি নেওয়ার কথাও চিন্তা করতে পারে. বর্তমানে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদ্ধতির মধ্যে একমাত্র তফাত হল কখন ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করা হবে, সেই সময়ের নির্দিষ্টকরন. এই আলোচনার সঙ্গে যাঁরা ওয়াকিবহাল, তাঁদের তথ্য অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছে ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকে, আর রাশিয়া কোন নির্দিষ্ট তারিখের কথা না বলে অবস্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে.