১১ ই সেপ্টেম্বর ২০০১ সালের নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনের সন্ত্রাসবাদী হানার পুনরাবৃত্তি কি আল কায়দা করতে পারে? আমেরিকার উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা, যাঁরা আল কায়দার পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তার বিপদ আশংকা করেছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই তা মনে করেন. তাঁরা আল কায়দা এবং তাঁদের নেতা ওসামা বেন লাদেন কে মনে করেন অন্যতম শত্রু, যাদের সঙ্গে ক্ষমাহীণ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে. কিন্তু আল কায়দা সম্বন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের সম্বন্ধে ধারণার একটা অন্য দিকও আছে. যেমন, পাকিস্থানের সংবাদপত্র "The Frontier Post"  কয়েকটি অন্যরকম ঘটনার দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে. সংবাদ পত্র লিখেছে, ১১ ই সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসবাদী হানার প্রস্তুতি নিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সন্ত্রাসবাদীরা. কিন্তু আমেরিকার প্রবল ক্ষমতা সম্পন্ন গুপ্তচর সংস্থা এদের কোন খবরই পায় নি! এর পর সংবাদপত্র লিখেছে, যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওসামা বেন লাদেন কে তাদের অন্যতম শত্রু বলে ঘোষণা করেছে, তবুও তারাই ২০০৫ সালে যে বিশেষ ফৌজ কে লাদেন কে জীবিত বা মৃত, যে কোন অবস্থায় ধরার জন্য নিযুক্ত করেছিল, তাদের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে. আর সর্বশেষ খবর হিসাবে সংবাদপত্রে লেখা হয়েছে যে, যদি মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সঠিক ভাবে জানে পাকিস্থানের কোথায় বিন লাদেন লুকিয়ে আছে এবং যে সংবাদ পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন নিজে বলেছেন, তাহলে কেন তাকে এতদিনে পাইলট বিহীণ বিমানের হামলা করে মারা সম্ভব হল না? সত্যই প্রশ্ন জাগে কেন হল না? আর সত্যই কি আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা আগে থেকে ১১ ই সেপ্টেম্বরের হামলার কথা জানতে পারে নি? অন্যান্য রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আল কায়দার সম্পর্ক নিয়ে কি ভাবেন? "রেডিও রাশিয়া" কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রাশিয়ার সমীক্ষক ভ্লাদিমির সোতনিকোভ বলেছেনঃ

    "আমি সত্যই মনে করি যে, আল কায়দা সম্বন্ধে মার্কিন প্রশাসনের মত দ্বিমুখী. আর তা যেমন, আফগানিস্থানে, তেমনই পাকিস্থানে. এই পরিস্থিতি সেই ২০০১ সাল থেকেই চলে আসছে, যখন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্থানে প্রবেশ করেছে. আমার মনে হয়, আমেরিকার প্রশাসনের একাংশের জন্য আল কায়দার উপস্থিতি প্রয়োজনীয়, এক স্থায়ী বিপদ সংকেত হিসাবে. এটা কাজে লাগিয়ে প্রশাসনের এবং সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বের পক্ষে তুলনামূলক ভাবে বেশী পরিমানে অর্থ চাওয়া সম্ভব হয়. এটা দিয়ে বোঝানো সম্ভব কেন আফগানিস্থানে এত দিন ধরে যুদ্ধ হচ্ছে. আমরা, দেখছেন না, বেন লাদেন কে ধরার চেষ্টা করছি, খবর পাওয়া গিয়েছিল যে লাদেন মারা গেছে, কিন্তু দেখা গেল, সে বেঁচেবর্তে আছে, সুতরাং ওকে ধরতে আর ওর নেতৃত্বে চলা আল কায়দার শেষ করতে শক্তি প্রয়োগ করতেই হবে. অবশেষে সন্ত্রাসবাদীদের বিপদের কথা মনে করিয়ে দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই আপফাক নামে অভিহিত অঞ্চলে থাকা সম্ভব. আমি মনে করি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দরকার থাকলে বহু আগেই বিন লাদেন ও তার আল কায়দাকে নির্মূল না করতে পারলেও তাদের গোষ্ঠীর কাজ কারবার অনেক কমিয়ে দিতে পারত".

    ভ্লাদিমির সোতনিকোভ কে আরো একটা প্রশ্ন করা হয়েছিল, অনেক পর্যবেক্ষকই বিশ্বাস করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর সংস্থা সি. আই. এ. শুধুমাত্র আল কায়দার সৃষ্টির সময়ই তার দোলনার সামনে ছিল না, যাতে সোভিয়েত অনুপ্রবেশের সময় তার প্রতিরোধ করা যেতে পারে, বরং এখনও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে. আপনি এই মতের সঙ্গে এক মত?

         "এক্ষেত্রে মনে করা ঠিক হবে, ১১ ই সেপ্টেম্বর দুনিয়া কাঁপানো সন্ত্রাসবাদী হানার পর এর আয়োজক দের সম্বন্ধে অনেক রকম মত ছিল. এর মধ্যে এক অভিভূত করার মতো ধারণা ছিল যে, এই আল কায়দার সঙ্গে আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থাও জড়িত. আমি এই দৃষ্টিকোণ কে সমর্থন করি না, কিন্তু মনে করি যে, সি. আই. এ. সংস্থার আলাদা কোন দলের সাথে আল কায়দার যোগাযোগ এখনও অব্যাহত আছে. যাতে করে আমেরিকার জনগনকে সারাক্ষণ বিপদের ভয় দেখানো যায় এবং আপফাক অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির কারণ দেখানো সম্ভব হয়".