পঞ্চাশ কিলোগ্রাম আণবিক শক্তি সম্পন্ন ইউরেনিয়াম পেলেই নাকি সাধারন একটা সরাইতে বসে এক দিনে আণবিক বোমা বানানো সম্ভব. এই রকম একটা মন্তব্য করেছেন পর্তুগালের লেখক জোসে রডরিগেজ দুস স্যানতুস, আণবিক সন্ত্রাস সম্বন্ধে একটা শোরগোল তোলা বইতে লিখে. উনি মনে করেন যে, সন্ত্রাসবাদীদের হাতে এই রকম বোমা পড়ল বলে. দুস স্যানতুস আমেরিকার সি. আই. এ. সংস্থার বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ণ আর একজন প্রাক্তন আল কায়দা যোদ্ধার সঙ্গে কথা বলে এমনটি বুঝেছেন. পর্তুগালের লেখকের মতের সাথে একমত হওয়া কি উচিত্? এই রকম প্রশ্নের উত্তরে "রেডিও রাশিয়ার" সঙ্গে সাক্ষাত্কারে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের বিশারদ ভিক্টর নাদেইন রায়েভস্কি বলেছেনঃ

"আমার মতে, সমস্ত মানব সমাজের জন্য মৃত্যুর সমান হবে যদি পারমানবিক অস্ত্র বা এই রকম কোন ভয়ঙ্কর যৌগ সন্ত্রাসবাদীদের হাতে পৌঁছায়. এমনকি শুধুমাত্র আপনা হতে বিকীরণ কারী কোন পদার্থ যদি সন্ত্রাসবাদীরা পায়, তাহলে শুরু হবে বিশ্ব জোড়া ধ্বংসের শুরু. তাই আমিও পর্তুগালের লেখকের সাথে সমানভাবেই উদ্বিগ্ন এবং আরও অনেকের সাথে, যেমন, বিজ্ঞানী, রাজনীতি বিদ ও যাদের সাধারন মানুষ বলা হয় তাঁদের সবার সাথে চিন্তিত. প্রশ্ন এখন একটাই কবে ও কোথায় এই অস্ত্র তারা পেতে পারে. প্রথম প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন, আর দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে বেশীর ভাগ বিশেষজ্ঞরাই একমত যে, সম্ভবতঃ পাকিস্থানে. নিজেদের উত্তরের পক্ষে তাঁরা বলেছেন যে, এই দেশের পরিস্থিতিতে ও সেখানে সন্ত্রাসবাদীদের মাথাচাড়া দেওয়া দেখে মনে হয়েছে, তা সম্ভব. সন্ত্রাসবাদীরা একাধিক বার পাকিস্থানের পারমানবিক প্রকল্প গুলিতে হানা দিয়েছে. এমন কি কয়েকজন পাকিস্থানি বিজ্ঞানী যে পারমানবিক অস্ত্রের গোপন তথ্য আল কায়দার হাতে তুলে দিয়েছেন, তাও জানা গেছে. অবশ্যই পাকিস্থানের পারমানবিক অস্ত্র পাহারা দেওয়া হচ্ছে, তাও আমরা জানি যে, সন্ত্রাসবাদীরা কত প্রচণ্ড জোর দিয়ে এমনকি কঠিনতম পাহারার মধ্যে ছিদ্র খোঁজার চেষ্টা করছে এবং তা পেয়েও যাচ্ছে. আরও প্রশ্ন হল, এই চরমপন্থীরা কে? প্রশ্ন তুলে তার উত্তরে দুস স্যানতুস বলেছেন, এরা হল যারা কোরান কে আক্ষরিক ভাবে মানে করেছে, কারণ সেখানে লেখা আছে, শক্তি প্রয়োগের কথা, তথাকথিত "অবিশ্বাসী" দের ধ্বংস করার কথা. পর্তুগালের লেখক মনে করেন যে, চরমপন্থীরা কোরানের এই কথাকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে চায়. আমি মনে করি, এই ধারণা অতি সরলীকরণ. চরমপন্থার সূত্র খুঁজতে গিয়ে সন্ত্রাস বাদের শুরু হিসাবে যেটা মনে রাখা দরকার তা হল, বর্তমানের ঐসলামিক বিশ্বে পৃথিবীর বর্তমান যে বিভাজন রয়েছে তা মান্য করা সম্ভব হচ্ছে না. এই বিভাজনের তারা বিরুদ্ধে. তাদের চিন্তাধারা ও জীবন সম্বন্ধে বোধ কে আক্রমণ করে পাশ্চাত্যের চিন্তা ও বোধ তাদের নিয়ম ও রীতি নীতি জড়াতে চাইছে. মুসলমানেরা ইসলামের বাইরের ধারণা যে, তারা আসলে মানুষকেই ঘৃণা করে – এ কথা মানতে কখনোই তৈরী নয়. তার ওপরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক আক্রমণ তাদের জন্য একটা স্বাভাবিক প্রতিবাদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে. এই ধরনের প্রতিবাদী মতবাদ কে ইস্তেমাল করে সন্ত্রাসবাদীরা তাদের দলে লোক ভেড়াচ্ছে এবং নিজেদের চরমপন্থী মতবাদ প্রচার করতে সুযোগ পাচ্ছে. পারমানবিক অস্ত্র দখল করার ব্যাপারটাকেও তারা দেখাতে চেষ্টা করছে শক্তির সমতা আনার প্রচেষ্টা হিসাবে. যা দিয়ে তারা বিশ্বে খলিফাত আনবে. বোঝাই যায়, যে এগুলো কখনোই সম্ভবপর হবে না, খলিফাত বিশ্বে আসতে পারে না. আসলে সন্ত্রাসবাদীরা চায় ক্ষমতা দখল করতে. তাদের কার্যকলাপে যদি কারও সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়, তবে তা হচ্ছে মুসলমানদেরই".