মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিকট প্রাচ্যে প্রচুর বাধার সম্মুখীন হতে চলেছে. এই দৃষ্টিকোণ থেকে বক্তব্য রেখেছেন ওয়াশিংটনের নিকট প্রাচ্য ইনস্টিটিউটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপ পররাষ্ট্র সচিব উইলিয়াম বের্নস. তাঁর কথা মতো আগামী দিনে "অসংখ্য সমস্যা ও বিফল হওয়ার সম্ভাবনা" রয়েছে এই অঞ্চলে.

এই রকম নেতিবাচক মনোভাবের কারণ আছে. নিকট প্রাচ্যের সমস্যা সমাধানের কাজ বর্তমানে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে. বিরোধী পক্ষেরা সমস্ত বিশ্ব সমাজের যাবতীয় প্রচেষ্টার পরও অনেকদিন ধরেই আলোচনা আবার শুরু করার জন্য একমত হতে পারছে না. প্রত্যেক পক্ষ থেকেই প্রতিবারই নতুন করে এমন সব দাবী জানানো হচ্ছে আলোচনা শুরুর আগে, যা অন্য পক্ষের পক্ষে মানা সম্ভব নয়. বর্তমানে গলার কাঁটা হয়ে আছে ইজরায়েলের পক্ষ থেকে জর্ডন নদীর পশ্চিম পারে বেআইনী ভাবে বাড়ী ঘর বানিয়ে লোক বসতি তৈরী করার কাজ. তারা সেখানে লোক বসতি বানাবার কারণ হিসাবে দেখাচ্ছে দেশের লোকসংখ্যা বৃদ্ধি, আর প্যালেস্তানীয় জাতীয় প্রশাসনের নেতারা এই বিষয় টা নতুন করে কলোনি সৃষ্টি করা ছাড়া আর কিছু বলে মেনে নিতে পারছেন না. এই বিষয়ে রাশিয়ার নিকট প্রাচ্য বিশারদ আনাতোলি ইগোরিন বলছেনঃ

"এই বসতি তৈরী করা হচ্ছে প্যালেস্তানীয় জমিতে প্যালেস্তানীয় দেশের সীমানার ভিতরে. এর ফলে পরে প্যালেস্তানীয় দের থাকার কোন জায়গা থাকবে না, কারণ সমস্ত ভাল জায়গা ইজরায়েল দখল করে নিচ্ছে. রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন পড়েছে, যাতে করে এই দখল করার কাজের গতি মন্থর করা সম্ভব হয়. যা এখনো কেউ করে উঠতেই পারে নি. যদিও ভাল করে ভেবে দেখলে তা করা সম্ভব ছিল".

বর্তমানে এই থেমে যাওয়া পরিস্থিতির থেকে বেরোনোর পথ খোঁজা হচ্ছে. জর্ডনের রাজা আবদাল্লা যেমন মনে করেন যে, প্যালেস্তানীয় দের জন্য আন্তর্জাতিক ভাবে আর বসতি করা হবে না বলে প্রতিজ্ঞার প্রয়োজন আছে, আবার কোন আলোচনাতে বসার আগে. তাঁর মতে এটা দরকার কারণ বেনিয়ামিন নেতানিয়াখু ও তাঁর প্রশাসন উক্ত জায়গায় ইহুদী দের বসতি তৈরী বন্ধ করার কথা মানতে চাইছে না. সমগ্র আরব দেশ গুলির সংবাদ পত্র "আল হায়াত" কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রাজা আবদাল্লা বলেছেন, যে এই প্রতিজ্ঞা করা উচিত্ রাষ্ট্রসংঘ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে এবং তা হওয়া উচিত্ লিখিত এবং সেই প্রতিজ্ঞা পত্রে উল্লেখ করা উচিত্ সীমানা সমস্যার কথা, উদ্বাস্তু প্রসঙ্গ এবং জেরুজালেমের অধিকার প্রসঙ্গ. এই কথা উঠলেই প্যালেস্তানীয় দেশ সৃষ্টি প্রক্রিয়া সমাপ্ত হবে. প্রশ্ন হল ইজরায়েল কি এর জন্য তৈরী আছে? যখন ওয়াশিংটনেই বর্তমানে তেল আভিভ এর বসতি বিস্তার নিয়ে মেনে মানিয়ে নেওয়ার নীতির সুর শোনা যাচ্ছে.

ইজরায়েল ও প্যালেস্তানীয় যোগাযোগের এই থমকে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ফলে প্যালেস্তানীয় জাতীয় প্রশাসনের নেতা মাহমুদ আব্বাস ঘোষণা করেছেন যে তিনি আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী পদে থাকছেন না. গতকালই এই ইতিহাসে নতুন সংযোজন হয়েছে. প্যালেস্তানীয় পক্ষ থেকে ইজরায়েলের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রতিনিধি দলের নেতা সাইব আরিকাত মনে করেছেন যে আব্বাস ২৪ শে জানুয়ারী ২০১০ সালের সার্বজনীন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগেই ইস্তফা দিতে পারেন রাষ্ট্রপতি পদ থেকে. প্যালেস্তানীয় প্রতিনিধির বক্তব্য অনুযায়ী ইজরায়েল শেষ অবধি হামাস আন্দোলনের সঙ্গে টক্কর দিতে বাধ্য হবে, যদি না শান্তি আলোচনার প্রসঙ্গে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে. এর একটাই অর্থ, তা হল সব আবার প্রথম থেকে শুরু করতে হবে এই মনে রেখে যে, ঐসলামিক চরমপন্থীদের ইহুদী দেশের প্রতি অবস্থান আর প্যালেস্তানীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মাহমুদ আব্বাসের ইহুদী দেশ সম্বন্ধে অবস্থান সম্পূর্ণ অন্যরকম.