সোমবারে জেনেভা শহরে এই নিয়ে অষ্টম বার এবং সম্ভবতঃ শেষবার রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করতে বসছেন স্ট্র্যাটেজিক রণনৈতিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা সংক্রান্ত নূতন চুক্তির বয়ান সম্বন্ধে. দুই পক্ষই এই নূতন দলিল নিয়ে আলোচনা করবে, যা এর আগের দলিলটির জায়গা নেবে.

    ৫ ই ডিসেম্বর স্ট্র্যা. র. আ. অ. -১ চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, তাই বিশেষজ্ঞদের হাতে এক মাসের চেয়ে কম সময় আছে. বর্তমানের চুক্তিটির ফলে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমানবিক অস্ত্রের সংখ্যা কমে হয়েছে একের তিন ভাগ. আগামী চুক্তিটি সম্পাদিত হলে এই পরিমান আরো অনেকটাই কমে যাবে. আগামী রাউন্ডে বৈঠকের আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ জার্মানির জার্নাল "স্পীগেল" কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন যে, অনেক সম্ভাবনা আছে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর পক্ষে বছর শেষ হওয়ার আগেই নূতন চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারার. তাঁর কথা মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমানের প্রশাসন তাদের কর্মসূচীতে এই বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছে. তাই সমস্ত রকম সম্ভাবনা আছে স্ট্র্যাটেজিক অস্ত্রের নতুন সংখ্যা নির্ধারণ করার, সেগুলির নিয়ন্ত্রণ সম্বন্ধে ব্যবস্থা করার এবং একটি আইন সিদ্ধ পারস্পরিক ভাবে মানতে বাধ্য করার মতো দলিলে রূপান্তর করার. একই সঙ্গে মস্কো জোর দিয়ে যাচ্ছে যে, দলিলে আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষা মূলক অস্ত্রের মধ্যবর্তী যোগের বিষয়ের সম্বন্ধে সঠিক সংজ্ঞা দিতে হবে. আর এর সাথে অন্য কয়েকটি সমস্যার সমাধান করতে হবে, অংশতঃ ফেরত যোগ্য পারমানবিক অস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়ে, অর্থাত্ যে সমস্ত অস্ত্র বর্তমানে গোদামে রাখা হয়েছে এবং যা দ্রুত রকেটের সঙ্গে লাগিয়ে ফেলা যায়, সেগুলির বিষয়ে.

    পরবর্তী বৈঠক শুরু হওয়ার আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র আন্দ্রেই নেস্তেরেঙ্কো আশা প্রকাশ করেছেন যে, নূতন দলিল ৫ ই ডিসেম্বরে পারস্পরিক ভাবে গৃহীত হবে, যদিও বর্তমানে অনেকগুলি সমস্যা বহাল রয়েছে. দুই পক্ষের প্রতিনিধি দলেরই এই বিষয়ে দুই দেশের রাষ্ট্রপতিদের কাছ থেকে পাওয়া নির্দিষ্ট কর্মসূচী রয়েছে এবং তা অবশ্যই কার্যে পরিণত হবে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধির মতে দুই পক্ষই তাদের উপর যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই বিষয়ে ওয়াকিবহাল এবং সব কিছুই করবে যাতে দেশের প্রধান নেতাদের দাবী মানতে পারা যায়. এই সময়ে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ নূতন চুক্তির গুরুত্ব অনুধাবন করে সময়ের বিষয়টির আলোচনা করতে গিয়ে নির্দিষ্ট কোন সময় স্থির করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন নি. তাঁরা বলেছেন গুরুত্বপূর্ণ হল সমস্ত সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা বিষয়ে অনুসন্ধান কেন্দ্রের উপ প্রধান পাভেল জোলোতারেভ বলেছেনঃ

    "রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে বর্তমানের চুক্তি ছাড়াই চলতে পারত. অন্য কোন স্বচ্ছতা বা পরীক্ষনীয়তা সংক্রান্ত চুক্তি করে নিলেই হত. শেষ অবধি চিন্তা করলে দুই পক্ষের কারোরই বর্তমানে পারমানবিক শক্তির উপর ভরসা করে কোন সমস্যা সমাধান করার মতো নেই. এই চুক্তি থেকে যেটা সবচেয়ে বেশী আশা করা হচ্ছে তা হল, পারমানবিক অস্ত্রের প্রসার নিরোধ সম্বন্ধে ব্যবস্থা করা".

    বোঝাই যাচ্ছে, বর্তমানে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নূতন চুক্তি স্বাক্ষরের পট ভূমিকায় যা চাইছে. তা হল পারমানবিক শক্তি সম্পন্ন ও যারা এই শক্তি দখল করার কাছাকাছি পৌঁছেছে সেই সব দেশের কাছে একটি উদাহরণ সৃষ্টি করা. কিছুতেই আর হিসেব থেকে বাদ দাওয়া যাচ্ছে না যে সত্য, তা হল বর্তমানের পৃথিবীতে বহু রাষ্ট্র আছে, যারা অদূর ভবিষ্যতে পারমানবিক অস্ত্রে শক্তিধর হতে চলেছে. এর অর্থ হল, রাষ্ট্রসংঘের পারমানবিক অস্ত্র প্রসার নিরোধ করার জন্য আয়োজিত আগামী বছরের বসন্তের কনফারেন্সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার উদাহরণ দিয়ে বাকী দেশ গুলিকে আহ্বান জানানো সম্ভব হবে বিশ্বকে পারমানবিক অস্ত্র মুক্ত করতে, এই দেশ গুলির মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ গুলি ছাড়াও ভারত, পাকিস্থান এবং ইজরায়েল রয়েছে.