পাকিস্থানের আণবিক বোমা কি নিরাপদে রাখা আছে? ঐসলামিক চরমপন্থীরা, যারা এই দেশে সক্রিয় আছে, তাদের জন্য কি এই হাতিয়ার নাগালের মধ্যে আছে? বর্তমানে কে বা কারা এই পারমানবিক অস্ত্র ভাণ্ডারের নিরাপত্তা রক্ষা করছে, কতটা তা ভরসার যোগ্য? এই সব প্রশ্নের সম্বন্ধে আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকোভের সঙ্গে আলোচনা করেছেন, তার একটি সংক্ষিপ্ত বয়ান আপনাদের জন্য এখানে দেওয়া হল.

বিগত বেশ কিছু কাল ধরেই বিশ্বের নানা সংবাদ মাধ্যম এবং বিশেষজ্ঞরা আবার সক্রিয় ভাবে আলোচনায় রত এই প্রশ্ন নিয়ে. তার ওপর এই দেশের পরিস্থিতি সবাই কেই উদ্বিগ্ন করে তুলেছে. আমি বলতে চাইছি পাকিস্থানের চরমপন্থী ঐসলামিক জোট গুলির সক্রিয়তা বৃদ্ধি এবং পাকিস্থানের উত্তর পশ্চিমে তালিবান ও আল কায়দার বিরুদ্ধে সরকারি ফৌজের পুরোদস্তুর যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে, সারা দেশ জুড়ে অগণিত সন্ত্রাসবাদী হামলা ও গণহত্যার ঝড়ে এই পারমানবিক অস্ত্র ভাণ্ডারের নিরাপত্তার হাল কি? যেমন, মাত্র কয়েকদিন আগেই ইসলামাবাদের কাছে কামরা শহরে আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদী বিস্ফোরণ করে পাকিস্থানী সেনা বাহিনীর বিমানঘাঁটি ধ্বংস করতে চেয়েছিল. অনেক বিশেষজ্ঞই জানেন যে, এই বিমানঘাঁটির সঙ্গে পাকিস্থানের পারমানবিক অস্ত্র ভাণ্ডারের সরাসরি যোগাযোগ আছে. সোতনিকোভ বলেছেনঃ

"২০০৭ সাল থেকে শুরু করে এই কামরা শহরের বিমানঘাঁটিতে আক্রমণ দ্বিতীয়বার হল. কিন্তু শুধুমাত্র এই বিশিষ্ট ঘাঁটি নিয়ে আলোচনা করলে চলবে না. বিগত কয়েক বছরে পাকিস্থানের সন্ত্রাসবাদীরা দেশের অন্যান্য পারমানবিক প্রকল্প গুলিতেও অনেক বার হানা দিয়েছে. ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে সারগোধার পারমানবিক বোমা যুক্ত রকেটের গোদামে হানা এবং ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে ভাখ শহরে যেখানে পাকিস্থানের পারমানবিক অস্ত্র জোড়া লাগানো হয়, সেখানে হানা. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা কয়েক দিন আগে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তিনি পাকিস্থানের পারমানবিক অস্ত্র ভাণ্ডারের নিরাপত্তা নিয়ে খুবই চিন্তিত, যদিও একই সঙ্গে আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই ভাণ্ডার কোন ক্রমেই ঐসলামিক যোদ্ধা দের হাতে যাবে না. এমনকি পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারী কয়েকদিন আগে তালিবদের হাতে পাকিস্থানের পারমানবিক অস্ত্রের দখল চলে যাওয়া নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছেন এবং আলাদা করে যোগ করেছেন যে, আপাততঃ অস্ত্র ভাণ্ডার পাকিস্থানে নিরাপদেই আছে".

 কিন্তু এটা কি করে সম্ভব? একদিকে বলা হচ্ছে পাকিস্থানের পারমানবিক অস্ত্র ভাণ্ডার নিরাপদে আছে, আবার অন্য দিকে বলা হচ্ছে ঐসলামিক চরমপন্থীদের নাগাল থেকে কি করে রক্ষা করা যেতে পারে. সন্ত্রাসবাদী হামলার বিপদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য পাকিস্থানের সরকার ও সেনা বাহিনী কি ব্যবস্থা করছে? পারমানবিক নিরাপত্তা ও দেশের স্ট্র্যাটেজিক শক্তিকে রক্ষা করার বিষয়ে ভবিষ্যতে কি হতে চলেছে? আন্তর্জাতিক সমাজকে পাকিস্থানের পারমানবিক অস্ত্র ভাণ্ডারের ঐসলামিক সন্ত্রাসবাদী চরমপন্থীদের হাত থেকে নিরাপত্তা নিয়ে ভাবার কোন দরকার আছে কি?

"শুধুমাত্র সাধারন মানুষেরা তাদের নিকট জনের নিরাপত্তা নিয়েই আজ ভাবছে না. পাকিস্থানের পারমানবিক অস্ত্রের নিরাপত্তা নিয়ে আজ ভাবছেন অনেক পন্ডিত লোকেরাই. গ্রেট ব্রিটেনের ব্র্যাডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পাকিস্থান অনুসন্ধান কেন্দ্রের প্রধান প্রফেসর শন গ্রেগোরী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি মন্ত্রকের গুপ্তচর বিভাগের প্রাক্তন প্রধান রোল্ফ মোউভেট লারসেন, পাকিস্থানের পারমানবিক অস্ত্র বিষয়ক নিয়ন্ত্রক দপ্তরের স্ট্র্যাটেজিক পরিকল্পনা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান ও বর্তমানে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়াতে মন্টেরে শহরের নৌবাহিনীর একাডেমীর প্রশিক্ষক এফ. এইচ. খানের সম্মিলিত প্রবন্ধে প্রকাশিত মত অনুযায়ী খুবই আশঙ্কা জনক চিত্র দেওয়া হয়েছে, বলা হয়েছে পাকিস্থানের প্রায় ৬০ টিরও বেশী পারমানবিক বোমা সমেত রকেট উগ্রপন্থীদের হাতে চলে যেতে পারে. জনসাধারনের নাগালের মধ্যে অন্য কোন তথ্য না থাকায়, এই সব অনেক ভিতরের খবর রাখা বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট পড়ে আমরা সত্যই পাকিস্থানের পারমানবিক অস্ত্রের নিরাপদ রক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠতেই পারি".

আগামী কাল কি হতে পারে তা নিয়ে এই আলোচনা আরও চলবে.

<sound>