ইরানের ইউরিনিয়াম সমৃদ্ধকরন, আফগানিস্তানের নির্বাচন পরিস্থিতি, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা ও রাশিয়া-যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন- এই সব বিষয়ই হবে রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু.
আজ রবিবার বিকেলে মস্কো সফরে আসবে যুক্তরাজ্যের পররাষ্টমন্ত্রী ডেবিড মিলিবেন্দ এবং সোমবার তিনি আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হবেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভের সাথে্.বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে মস্কোতে এটি প্রথম যুক্তরাজ্যের কোন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরকারী সফর.
এদিকে মস্কো সফরের পূর্বে রাশিয়ার টিলিভিশন চ্যানে ভেসতি ও যুক্তরাজ্যের পত্রিকা ফিনানশিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাত্কার প্রদান করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্টমন্ত্রী ডেবিড মিলিবেন্দ.তিনি বলেন যে, সফরে মূলত এমন কোন বিশেষ সমস্যা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে না বিশেষকরে সর্বশেষ সময়গুলোতে মস্কো ও লন্ডনের সম্পর্ক বিষয়ে.
যদিও মাঝখানে রাশিয়াতে অবস্থিত সকল ব্রিটিশ কাউন্সিল তাদের সকল কার্যক্রম একেবারে বন্ধ করে দিয়েছিল.ঐ পরিস্থিতি এখন কিছুটা হলেও উন্নতি হয়েছে.তবে এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে ব্রিটিশ কাউন্সিল যা ব্রিটিশ শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ যে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে তা কোন মন্ত্রনালয়ের অধীনে নয়.
রাশিয়ার ইনস্টিটিউট অব ইউরোপ বা রাআএন’য়ের সহকারী পরিচালক আলেক্সেই গ্রোমিকা যুক্তরাজ্যের পররাষ্টমন্ত্রীর এই সফর সংক্রান্ত বিষয়ে রেডিও রাশিয়াকে এক বিশেষ সাক্ষাত্কারে বলেন যে, যুক্তরাজ্য ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন অনেকটা নির্ভর করে রাশিয়া-মার্কিন সম্পর্কের ধারা অনুসারে.
সর্বশেষ কয়েক বছরে আমরা যদি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রনীতির দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাব যে তাদের পররাষ্ট্রনীতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অনুরূপ এবং লন্ডন প্রায় সকল বিষয়ে নিজেদের আগ্রহের পজিটিব মনোভাব প্রকাশ করেছে যা ওয়াশিংটন আগ্রহ দেখিয়েছিল.তো এখন যা হচ্ছে তা হল ওয়াশিংটন যখন মস্কোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে ঠিক এখন অনুরূপভাবেই যুক্তরাজ্য এখন রাশিয়ার সাথে নিজেদের সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী.যুক্তরাজ্য ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের রয়েছে বহুবিধ ক্ষেত্র.অর্থনীতি,পারমানবিক অস্ত্রসজ্জা নিয়ন্ত্রন,মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থতি,সন্ত্রাস জঙ্গীদের বিরুদ্ধে ঐক্যমতসহ প্রভৃতি বিষয়ে মূলত রাশিয়া-যুক্তরাজ্য একসাথে কাজ করতে পারে, বললেন আলেক্সেই গ্রোমিকা.
এদিকে যুক্তরাজ্যে দায়িত্বরত রাশিয়ার রাষ্ট্রদুত ইউরি ফেদোতোব বলেন যে দুটি দেশের কুটনৈতিক সম্পর্কও পূর্বের তুলনায় অনেক ভাল.তিনি আশা করছেন যে যুক্তরাজ্যের পররাষ্টমন্ত্রীর রাশিয়া সফরের ফলে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন আরও একধাপ এগিয়ে যাবে .