"রেডিও রাশিয়া" তার আশি বছরের জয়ন্তী পালন করছে. মস্কো থেকে আশি বছর আগে বিশ্বে প্রথমবার নতুন রেডিও স্টেশনের উদ্বোধনী সঙ্গীত বেজে উঠেছিল. এই ভাবেই বিদেশ সম্প্রচারের শুরু হয়েছিল. গত আটটি দশক ধরেই "রেডিও রাশিয়া" সারা পৃথিবীর নানা অঞ্চলে অসংখ্য নানা রকমের লোকেদের জানিয়ে এসেছে এই দেশের জীবনের কথা এবং বিশ্বের নানা সমস্যার বিষয়ে দেশের মতামত, তা শুনতে পেয়েছে এমন কি আমেরিকার ছাত্র বা জার্মানীর গৃহ কর্ত্রী.

২৯শে অক্টোবর ১৯২৯ শুরু হয়েছিল সোভিয়েত দেশের, বা বর্তমানের রাশিয়ার আন্তর্জাতিক রেডিও সম্প্রচারের, সহজে বললে বিদেশ সম্প্রচারের. তখন প্রথম মস্কো রেডিও থেকে শুরু হয় জার্মান ভাষার অনুষ্ঠান, তারপরই ইংরাজী ও ফরাসী ভাষায়. তারপর তিনটে বছর পার করে রেডিও তে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক রেডিও সম্প্রচার শুরু হয়েছিল, নাম তার "বি. বি. সি.", "ভয়েস অব আমেরিকার" জন্ম হতে তখনও ছিল তের বছর বাকি.

এই জয়ন্তী শুধুমাত্র "রেডিও রাশিয়ার" ঘটনা বহুল ইতিহাস মনে করার জন্য নয়, এটা ভবিষ্যতকে উঁকি মেরে দেখার সুযোগ! "রেডিও রাশিয়ার" নতুন ভোর এখনও হতে বাকি আছে বলে মনে করেছেন চেয়ারম্যান আন্দ্রেই বিস্ত্রিতস্কি, কারণ বিদেশ সম্প্রচারের প্রয়োজন বিশ্বে ততদিন থাকবে যতদিন বিভিন্ন দেশ থাকবে. তিনি বলেছেনঃ

"বিদেশ সম্প্রচার অবশ্যই আরও অনেক দিন চলবে, যতদিন নানা ভাষা, নানা দেশ ও নানা রকমের সরকার থাকবে. বিদেশ সম্প্রচারের মানে লুকিয়ে আছে যে বিষয়ের মধ্যে, তা হল বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, তা কোন সরকারই হোক, বা কোন সামাজিক গোষ্ঠী হোক, বিশ্বের অন্য দেশ বা সরকার বা গোষ্ঠী কে রাজনৈতিক ভাবে সহমতে আনতে চায়, নিজের দেশের ভাষায় একেবারে উত্স থেকে খবর জানতে চায় এবং চায় সে তথ্য নিয়ে আলোচনা করতে. বিদেশ সম্প্রচার হল আন্তর্জাতিক ভাবে যোগাযোগের একটি উপায়. অন্য প্রশ্ন হল এই সম্প্রচারের চেহারা বা আবরণ কি রকম হবে. আমি ব্যক্তিগত ভাবে ভাবি যে, রেডিও সম্প্রচার আর সব রকমের তথ্য প্রচারের মধ্যে মিশে যেতে থাকবে আর বিশেষ করে আন্তর্জাতিক তথ্যের মাধ্যম ইন্টারনেটের সাথে মিশবে. বিশ্বজোড়া এই জাল আজ প্রযুক্তি এবং মেধার বিষয়ে রেডিও কে প্রতিযোগিতা করতে ডেকেছে, কিন্তু এর মানে নয় যে, আন্তর্জাতিক ভাবে রেডিও হারিয়ে যাবে. সিনেমা যেমন আজও থিয়েটারকে মেরে ফেলতে পারে নি".

প্রতি দিন রেডিও রাশিয়া শুনতে পাওয়া যায় ৪০ টি ভাষায়, প্রায় কয়েক লক্ষ লোক কে দিনে রাতে ১৪৬ ঘন্টা ধরে দেশে ও বিদেশে কি ঘটছে তার খবর দেয়. রেডিও রাশিয়ার শ্রোতারা বেশীর ভাগই সামাজিক ভাবে কাজের মানুষ আর বয়স তাদের খুব বেশী নয়. উল্লেখ করে আন্দ্রেই বিস্ত্রিতস্কি বলেছেনঃ

"আমরা চেষ্টা করে থাকি যাতে "রেডিও রাশিয়া" তথ্যের ভাণ্ডার হয়, যেখানে শ্রোতারা শুধু বর্তমানের খবরই শুনতে পাবেন না, বরং রাজনৈতিক আলোচনা বা বিতর্ক করতে পারবেন, বিশ্লেষণ করে বুঝতে ও বোঝাতে পারবেন. আমাদের রেডিও কোম্পানী শ্রোতাদের রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পেশাদারী মতামত দেওয়ার ক্ষমতা রাখে. যেমন কোন আমেরিকান ছাত্র, সে যদি রাজনীতি নিয়ে পড়াশোনা করে, বা দর্শন কিংবা সমাজ বিজ্ঞানের ছাত্র হয়, সে অবশ্যই "রেডিও রাশিয়ার" অনুষ্ঠান থেকে অনেক ইন্টারেস্টিং তথ্য পাবে. সে রাশিয়ার নেতৃস্থানীয় রাজনীতিবিদদের বক্তব্য তাদের মুখ থেকে শুনতে পাবে, দল নেতা বা অর্থনীতিবিদ দের বক্তব্য শুনতে পারবে. আর ধরা যাক জার্মানীর কোন গৃহকর্ত্রী, এখানে রাশিয়ার রান্নার পদ্ধতি সম্বন্ধে জানতে পারবেন, যা আমাদের কাছে সত্যিই আছে অনেক অথবা শুধু রাশিয়ার সামাজিক জীবনের গল্পও শুনতে পারেন. বলা যেতে পারে যে, অনেক সময়ই গৃহ কর্ত্রীরা ছাত্রদের চেয়ে বেশী অনুসন্ধিত্সু হয়ে থাকেন এবং তাঁদের কাছে রাজনীতি থেকে সংস্কৃতি সবই আগ্রহের বিষয় হতে পারে. আমার যেমন, নিজের জন্য ইন্টার অ্যাক্টিভ সার্ভিস ভাল লেগেছে, যা "রেডিও রাশিয়ার" ইন্টারনেট সাইটে আছে, সেন্ট পিটার্সবার্গের রাজ বাড়ী আর বর্তমানের চিত্র সংগ্রহ শালা "হার্মিটেজ নিজে রং করে দেখুন", তা করে দেখা যাবেই বা না কেন? করে দেখতে পারা যাবে কি করলে সুন্দর দেখতে লাগবে. এটা একটা খেলার মত, যা মানুষের সব সময়ই ভাল লেগে থাকে".

  আজকের রেডিও রাশিয়া এক আধুনিক মাল্টি মিডিয়া তথ্য প্রচার মাধ্যম. বিশ্বের নানা জায়গার লোকের সাথে সারাক্ষণ যোগাযোগ রেখে চলেছে বলে মনে করেছেন আন্দ্রেই বিস্ত্রিতস্কি, তিনি বলেছেনঃ

"আমরা আমাদের শ্রোতা ও গ্রাহকদের নতুন সাইট http://rus.ruvr.ru মাধ্যমে নানা ধরনের পরিষেবা মাল্টি মিডিয়া ফরম্যাটে দিয়েছি, "রেডিও রাশিয়া" কোম্পানী এই নতুন সাইটের চারপাশে নানা রকম সামাজিক ইন্টারনেটের সাইটের জাল দেখতে পাবে বলে আশা করেছে. সর্বাধুনিক খবর হল আমাদের মোবাইল রেডিও সার্ভিস চালু হয়েছে. এখন সব ভাষায় "রেডিও রাশিয়া" থেকে খবর, যে গুলি থেকে ইন্টারনেট যোগাযোগ পাওয়া যায়, সে রকম মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শোনা যাবে. খুব তাড়াতাড়ি আমরা পরিকল্পনা করছি শব্দ ছাড়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফোটো ও ভিডিও দেখানোর ব্যবস্থা করতে.

আজকের "রেডিও রাশিয়া" বিশ্বের অন্যতম রেডিও যা লোকে শোনে. "বি.বি.সি.", "ভয়েস অফ আমেরিকা", "জার্মান ওয়েভ" এবং "আন্তর্জাতিক ফরাসী রেডিও" র সাথে বিশ্বের প্রথম পাঁচটি রেডিও পরিষেবার একটি".

এই দিন গুলিতে সারা পৃথিবী থেকে "রেডিও রাশিয়ার" আশি বছর উপলক্ষে সম্বর্ধনা এসে পৌঁছচ্ছে. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি "রেডিও রাশিয়ার" কাজকে উল্লেখ করে এই কোম্পানীর সমস্ত কর্মীদের জাতীয় রেডিও সম্প্রচারে উন্নতি এবং কর্ম ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন.

<sound>