ভারতের দক্ষিণের শহর বাঙ্গালোরে রাশিয়া, ভারত ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সাক্ষাত্কার হয়েছে. এই বৈঠকের শেষে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ঘোষণা করেছেন যে, তিনটি দেশই আফগানিস্থানের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে আগ্রহী এবং আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সহায়তা করতে তৈরী, মাদক সংক্রান্ত বিপদ দূরীকরণ এবং এই দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করতে ইচ্ছুক. মন্ত্রী বলেছেনঃ "তিনটি দেশই সহমত হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক ভাবে সক্রিয় প্রচেষ্টা বৃদ্ধি করা উচিত্ মাদক পাচার মোকাবিলার কাজে", এই বিষয়ে বৈঠকে বিশেষ করে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন.

'আফগানিস্থানের পরিস্থিতির প্রতি আঞ্চলিক সমস্যা গুলির মধ্যে বিশেষ করে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে. এই বন্ধুত্ব পূর্ণ দেশটির পরিস্থিতি আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়, আরও উদ্বেগের কারণ আমাদের সীমান্তের কাছে যা ঘটছে. আমরা এই বিষয়ে এর পরও কাজ করবো, মস্কোতে এই বছরের মার্চ মাসে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার বিশেষ অধিবেশনে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল সে গুলিকে মনে রেখে এই কাজ করা হবে".

সের্গেই লাভরভ উল্লেখ করেছেন যে, বৈঠকের অংশগ্রহণকারীদের সব মিলিয়ে মত হল বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট সম্পূর্ণ ভাবে এই বাস্তবকে অনাবৃত করেছে যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্বের কাঠামো বর্তমানের পরিস্থিতির সঙ্গে মেলে না, তাই তিনি বলেছেনঃ

"রাশিয়া, ভারত ও চীন চুক্তি করেছে নিজেদের সমস্ত কাজ সমষ্টি গত ভাবে প্রচেষ্টার মধ্যে এক করে বিশ্বকে বহু কেন্দ্রীয়, গণতান্ত্রিক ও ন্যায় সঙ্গত কাঠামো দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা করবে, যেখানে অর্থনীতি, বিনিময় যোগ্য মুদ্রা, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রভৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হবে".

তিন দেশের এই সহযোগিতা আরও ফলপ্রসূ হতে পারে পারস্পরিক ভাবে লাভজনক জ্বালানী শক্তি সংক্রান্ত ক্ষেত্রে. বৈঠকের শেষে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শক্তির প্রশ্নে সরবরাহ কারী ও গ্রাহক দের স্থায়ী আগ্রহের কথা মনে রেখে আলোচনা করা উচিত্. মস্কো, দিল্লী ও বেইজিং শক্তি সংক্রান্ত ক্ষেত্রে সহযোগিতা, স্বচ্ছতা এবং খোলা প্রতিযোগিতার পক্ষে. এই তিন দেশের মধ্যে বর্তমানে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বাস্তবিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে লাভরভ উল্লেখ করেছেন. কৃষি, স্বাস্থ্য ও বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত ক্ষেত্রে তিনটি দেশের বিশেষজ্ঞরা একসাথে কাজ করছেন, তিনটি দেশের ব্যবসায়ীরাও নিয়মিত যোগাযোগে রয়েছেন. এই অধিবেশনের অংশগ্রহণ কারীরা বাঙ্গালোরে বলেছেন যে, রাশিয়া- ভারত- চীন বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত কাঠামোতে পরিণত হয়েছে. এই কাঠামোর মূল্য বিশেষত বিশ্বাসযোগ্য সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি ফলপ্রসূ ব্যবস্থা এবং বহু কেন্দ্রীয় বিশ্বের নির্মাণে এর গুরুত্ব অনেক. তিনটি দেশের সহযোগিতার ভিত্তি তিন দেশের মানুষের মূল সহযোগিতার প্রয়াস.

<sound>