থাইল্যান্ডে আজ থেকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলির সম্মেলন – আসিয়ান সংস্থার শীর্ষ বৈঠক শুরু হতে চলেছে. ১০ টি দেশের এই ফোরামে, যারা সমাকলনের পথে চলেছে, তার সংস্থাটির ভিত্তি ২০১৫ সালের মধ্যেই অর্থনৈতিক ভাবে সুদৃঢ় হবে, বলেছেন অধিবেশনের আগে আসিয়ান সংস্থার মহাসচিব সুরিন ফিতসুভান. ২০১৫ সালে আসিয়ান সংস্থার চুক্তি কাজে পরিণত হতে চলেছে. যার ফলে এই অঞ্চলে খুবই উচ্চ স্তরের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমাকলন সম্ভবপর হবে. রাশিয়ার ব্যবসায়ী মহলও এই সমাকলন প্রক্রিয়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে.

    রাশিয়া আসিয়ান সংস্থার দেশ গুলির সঙ্গে প্রসারিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে. রাশিয়ার ব্যবসার জন্য দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বাজার খুবই লোভনীয়. কিছু বিরতির পর আমরা আবার এই অঞ্চলে ফিরে আসছি. যা আগে সময় মত করা হয় নি, তা আবার করতে হচ্ছে. এই অঞ্চলের প্রতি আমাদের আগ্রহ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সরকারি সফর, অন্যান্য দপ্তরের প্রধান দের সফর, প্রতিনিধি দলের বিনিময় ও প্রচুর পর্যটকের যাওয়া আসা দেখেই বোঝা যাচ্ছে. ২০০৫ সালে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে রাশিয়া – আসিয়ান শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল – এই ঘটনাও রাশিয়ার আগ্রহেরই প্রমাণ. তখন প্রথম ব্যবসায়ী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল, সেখানে তত্কালীন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন বক্তৃতা দিয়েছিলেন. ঠিক করা হয়েছিল রাশিয়ার ব্যবসায়ী মহলের প্রধানদের জন্য আসিয়ান দেশ গুলিতে সম্ভাব্য সমস্ত রকম সহযোগিতা করা হবে, যাতে সরাসরি যোগাযোগ এবং কাজ করতে সহযোগীদের সুবিধা হয়. এর পরেই রাশিয়ার কোম্পানীরা ভিয়েতনামে জল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহারের জন্য কয়েকটি প্রকল্প নির্মাণের কাজ করতে গিয়েছিল. মালয়েশিয়ার কোম্পানী রাশিয়াতে মাইক্রো চিপ তৈরী করা শুরু করে. অবশ্যই জটিলতা আছে, কিন্তু সাফল্যও আছে. এই সম্বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অনুসন্ধান কেন্দ্রের একজন অন্যতম কর্মী  ইভগেনি কানায়েভ বলেছেনঃ

    "বর্তমানে আসিয়ান দেশ গুলি ও রাশিয়ার সহযোগিতার বিষয় গুলি সম্বন্ধে আবার বলতে হলে কয়েকটি বিশিষ্ট সাফল্যের কথাই বলা সম্ভব, যা এখনো আলাদা বিষয় হয়েই আছে, কোন ধারাবাহিকতা পায় নি. দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রাধান্য পেয়েছে, সামরিক প্রযুক্তি, জ্বালানী শক্তি, পারমানবিক প্রযুক্তি এবং কিছু অসামরিক উচ্চ প্রকৌশলের প্রযুক্তির বিষয়ে সহযোগিতা. অবশ্যই পর্যটন ও আছে. বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিষয় টি এখনও খুবই ক্ষীণ, সামরিক প্রযুক্তি ছাড়া কিছু সহযোগিতা শক্তির বিষয়ে হয়েছে. রাশিয়ার ব্যবসায় শুধুমাত্র এই দেশ গুলির খনিজ তেল বা গ্যাসের অনুসন্ধানের প্রকল্পে সহযোগিতা করতে চাইছে না, বরং চাইছে ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের যৌথ শক্তি পরিকাঠামো তৈরীতে ঢুকতে. পারমানবিক শক্তি ক্ষেত্রেও কিছু সম্ভাবনা রয়েছে, যেমন রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সহযোগিতা. ইন্দোনেশিয়া রাশিয়া থেকে ভাসমান পারমানবিক বিদ্যুত উত্পাদন কেন্দ্র কেনার কথা নিয়ে খুঁটিয়ে আলোচনা করছে. রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার প্রকল্প "শূণ্য শুরু", যেখানে ইন্দোনেশিয়ার অসামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উপগ্রহ মহাকাশের কক্ষ পথে রাশিয়া থেকে পাঠানো হবে, তাকে আলাদা করে দেখানো যায়. রাশিয়া ও বহু দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশের মধ্যেই বর্তমানে ভিসা ছাড়া বা সহজে ভিসা পেয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা হয়েছে".

    আসিয়ান দেশ গুলির সমাকলন দ্রুত হচ্ছে. এই প্রক্রিয়াতে রাশিয়ার ব্যবসায় আরও বেশী করে প্রবেশ করছে. এই রকম সম্মেলনের উপকারিতা দেখাই যাচ্ছে. বিশেষত বহু কেন্দ্রীয় বিশ্বে, যেখানে অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার পথ খোঁজা চলছে.