পাকিস্থানের সরকারি সামরিক বাহিনী আফগানিস্থান ও দক্ষিণ ওয়াজিরস্থানের সীমান্তে পৌঁছেছে. তালিবান ও আল কায়দা বিদ্রোহীদের সঙ্গে গত সপ্তাহে শুরু হওয়া যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি এখন এই রকম.

বিষয় টি বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    পাকিস্থানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ১৬ জন সৈন্যের মৃত্যু হয়েছে এবং ১০৫ জন বিদ্রোহী নিহত. মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই সরকারি বাহিনী তালিব দের প্রতিরোধ ভেঙ্গেছে এবং দক্ষিণ ওয়াজির স্থানকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে সমস্ত স্ট্র্যাটেজিক জায়গা দখল করে প্রায় ১৫-২০ কিলোমিটার পর্যন্ত ভিতরে ঢুকতে পেরেছে. আফগান সীমান্ত বরাবর যে কয়েকটা পাহাড়ী রাস্তা ছিল সেগুলিও সরকারি বাহিনীর দখলে.

    পাকিস্থানের বাহিনীর এই হঠাত্ এবং বিশাল সাফল্য অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য. অনের সামরিক পর্যবেক্ষকই এর কথা উল্লেখ করছেন, তাঁদের মতে সোয়াত বাদঝুর ও খাইবার পাসে যুদ্ধ করে পাকিস্থানী বাহিনী এখন অনেক পরিণত. কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, সামনে এখন অনেক কাজ. দক্ষিণ ওয়াজিরস্থানের তালিবদের সব থেকে যাওয়া ঘাঁটি নির্মূল করতে হবে, তাদের গোপন দল গুলিকেও শেষ করতে হবে. তার ওপরে শীতের আগে কাজ শেষ না হলে বরফ পড়ে পাহাড়ী এলাকায় সামরিক বাহিনীর কাজ আরও কঠিন হবে. বিদ্রোহীরা এই সুযোগে নতুন করে শক্তি যোগাড় করে দল বাঁধতে পারে. আফগানিস্থান থেকেও তালিবেরা সাহায্য পাঠাতে পারে তাদের পাকিস্থানের সমর্থক দের. পাকিস্থানের সামরিক বাহিনীর কম্যাণ্ডার ইন চিফ তারিক মজিদ ন্যাটো জোটের আফগানিস্থানের নেতৃত্বকে এর মধ্যেই দক্ষিণ ওয়াজিরস্থানের দিকের সমস্ত রাস্তা বন্ধের কথা বলেছেন.

পাকিস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে বহুদিন পাকিস্থান ও মধ্য এশিয়াতে কাটিয়ে আসা রাশিয়ার বিজ্ঞানী ও পাকিস্থান বিশারদ ইউলদুজ হালিউলিন বলেছেনঃ

"পাকিস্থানের সামরিক বাহিনীর কাজকর্ম কে বলা যেতে পারে খুবই ন্যায় সঙ্গত. তাঁরা পাহাড়ী এলাকা গুলিকে সন্ত্রাসবাদী মুক্ত করতে চলেছেন, মনে করা যেতে পারে বর্তমানে আফগান সরকারের উচিত্ সীমান্ত বন্ধ করে দিয়ে সেই অঞ্চলে পাকিস্থানকে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করা. তালিব সমস্যা সমাধান হয়েছে এ কথা এখনই বলা যাবে না. পাকিস্থানের সামরিক বাহিনী এখনও দক্ষিণ ওয়াজিরস্থানের পাহাড়ী এলাকায় ঢুকে পড়ে নি, আর সেখানেই সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধ হবে বলে মনে করা হয়েছে. তাই পরবর্তী অধ্যায় পাকিস্থানের সরকারের জন্য হবে আরও জটিল. স্থানীয় জনসাধারনের সাহায্য পেলে তবেই তালিবদের জয় করা সম্ভব হবে".