পরিষেবা ও নতুন প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে রাশিয়া ও ভারতের সহযোগিতার ভবিষ্যতের বিষয়ে আলোচনা করতে এই বছরের ডিসেম্বর মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ সরকারি সফরে রাশিয়া আসছেন. ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সোমানাহল্লি মালাইয়া কৃষ্ণের মস্কো সফরে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রকাশিত দলিলে এই কথা বলা হয়েছে.রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ তাঁর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যেমন বলেছেন মস্কো ও নয়া দিল্লীর প্রতিনিধিদের নিয়মিত সাক্ষাত্কার – "এমন বিষয়, যার ফলে আমাদের দুই দেশের বহুমাত্রিক ও সফল সম্পর্ক, যা আমাদের অবস্থানের নৈকট্য, সহযোগিতা এবং পরস্পরকে সমর্থন করার মধ্যে আছে, তা আরও উন্নত হবে"."আমরা অনেক রকম বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকি. দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা থেকে শুরু করে, যা আজকের দিনে রাশিয়ার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং আশা করি যে তা ভারতের জন্যও এবং শেষ অবধি আন্তর্জাতিক রাজনীতির বর্তমানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে, যেমন, আঞ্চলিক সমস্যা নিয়ে, আমাদের সম্মিলিত প্রয়াস নিয়ে, যা বর্তমানের বিপদ গুলির মোকাবিলা করার জন্য, যেমন, সন্ত্রাসবাদ, মাদক সংক্রান্ত অপরাধ,  অপরাধী গোষ্ঠীর মোকাবিলা ইত্যাদি. আর অন্যান্য বিষয় গুলি নিয়ে, যেখানে আমাদের যৌথ কর্ম প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের থেকে পরিত্রাণের প্রয়াস করা হয়েছে", — ঘোষণা করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ.নিজের দিক থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সোমানাহল্লি মালাইয়া কৃষ্ণ ঘোষণা করেছেন যে, ভারতের স্বাধীনতার পরে যখন দিল্লী শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বিষয়ে উন্নয়নের প্রয়াস শুরু করেছিল, সেই সময়ে মস্কোর সহযোগিতা ও সমর্থন তাঁর দেশ কখনো ভুলে যাবে না. কিছু দিন আগের ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী প্রতিভা পাতিলের রাশিয়া সফর মনে করিয়ে দিয়ে শ্রী কৃষ্ণ বলেছেন, "যে ভারত রাশিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করতে আগ্রহী. আমরা সকলেই পথ নির্দেশ পেয়েছি এই রকম পথে চলার. আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আমাদের দেশের পররাষ্ট্র নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়". একই সঙ্গে উনি উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া এমন একটি মহান দেশ যে শুধুমাত্র বিশ্বের জন্যই নয় এমনকি বিশেষত এশিয়ার নিরাপত্তার ও স্থিতিশীলতার জন্য এক অনন্য ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে.

আর ক্রেমলিনে তাঁর সাক্ষাত্কারের আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সোমানাহল্লি মালাইয়া কৃষ্ণ পঞ্চদশ রাশিয়া ভারত সরকারি কমিশনের অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন, অধিবেশনে আর্থ-বাণিজ্যিক, বিজ্ঞান – প্রযুক্তি এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে. রাশিয়ার পক্ষ থেকে উপ প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের কর্ম পরিচালনার প্রধান সের্গেই সবিয়ানিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন. তাঁর কথা মতো, আজ ভারত এবং রাশিয়ার সহযোগিতা বৃদ্ধির সময় এসেছে. উল্লেখ যোগ্য ক্ষেত্র যেগুলি থেকে সহযোগিতার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সাফল্য আসতে পারে, তা হল, যোগাযোগ, বীমা এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা, ইনফরম্যাটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং চিকিত্সা শাস্ত্র ও শিক্ষা ব্যবস্থা. এ ছাড়া মস্কো এবং দিল্লী শীঘ্রই দুই সরকারের মধ্যে পারমানবিক শক্তি বিষয়ে সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে.