আজ সারা বিশ্বের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ইন্টারনেটের ৪০ তম জন্মদিন. এই মহান আবিষ্কার আজ সমস্ত জায়গায় আছে আর বর্তমানে কয়েক শ কোটি লোক ইন্টারনেট ছাড়া বেঁচে থাকার কথা ভাবতেই পারে না. বিজ্ঞানীরা এখনই আশংকা প্রকাশ করছেন যে, অদূর ভবিষ্যতে ইন্টারনেটের এই দ্রুত উন্নতির ফলে আমরা বুঝতেই পারবো না কোথায় বাস্তব এবং কোথায় কল্পনা. আর আমরা মনেই করতে পারবো না, যে ইন্টারনেট আবিষ্কার হয়েছিল আমাদের সামনে সারা বিশ্বের দ্বার খুলে যাওয়ার জন্য নয় বরং উল্টোটাই…

    ১৯৫৭ সালে যখন সোভিয়েত দেশ থেকে প্রথম পৃথিবীর কৃত্রিম উপগ্রহ ছোঁড়া হয়েছিল, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর মনে করেছিল যে, যুদ্ধ হলে তার খবর পাঠাবার জন্য একটা ভরসা করার মতো ব্যবস্থা করতে হবে. ১৯৬৯ সালে মার্কিন বিজ্ঞানীরা দুটি কম্পিউটার কে সাফল্যের সঙ্গে জোড়া লাগাতে পারলেন – এই ভাবে শুরু হয়েছিল আরপানেট ব্যবস্থা. কিন্তু ১৯৯১ সালে শুরু হতে পেরেছিল বিশ্ব জোড়া জালের বিস্তার.

    রাশিয়া এর তিন বছর পরে এই ব্যবস্থায় যোগ দিয়েছিল. ১৯৯৪ সালে প্রথম রাশিয়ার জাতীয় ডোমেইন .রু চালু হয়. মজার ব্যাপার হল রাশিয়ায় ইন্টারনেটের একজন প্রথম পথযাত্রী হলেন সঙ্গীত পরিচালক আলেকজান্ডার শুলগিন. তিনি প্রথম রাশিয়াতে সঙ্গীত শিল্পী ভালেরিয়ার জন্য একটি শো বিজনেস সাইট তৈরী করেছিলেন, আর নব্বই দশকের শেষের দিকে প্রথম ভালেরিয়ার গানের ইন্টারনেট অ্যালবাম প্রকাশ করেছিলেন. নতুন বাস্তব তাঁর জন্য এতই আকর্ষণীয় হয়েছিল যে, তিনি নতুন মিডিয়া স্পেস এর বিশেষজ্ঞ হলেন, যাতে একই সঙ্গে সাইট, মাল্টিমীডিয়া, কম্পিউটারের খেলা, অ্যানিমেশন, ডিজিট্যাল ভিডিও এবং সিনেমা রয়েছে.

    শুলগিনের দৃঢ় বিশ্বাস যে, "সেই সময়ের আর বাকী নেই যখন মানুষ নিজেই হবে নতুন মিডিয়ার অংশ. নতুন মিডিয়া স্পেস মানুষকে নিজে থেকেই সৃষ্টি, জমা আর তথ্য জানাতে সাহায্য করবে. মহাশূন্যের মতই এর কোন শেষ নেই… ভবিষ্যতে ইন্টারনেট অভূতপূর্ব উন্নতি করবে, পাশাপাশি এক কল্পনার জগত থাকবে, সেখানের বাস্তব প্রতীক ও নায়কদের নিয়ে. টেলিভিশনের কেন্দ্রীকরণ শুরু হবে ডিজিট্যাল পরিবহনে. যে সমস্ত ঐতিহাসিক মিডিয়া আছে তারাও নিউ মিডিয়া স্পেসের সঙ্গে জুড়ে যাবে. মানুষ সিনেমা রিয়্যালিটি শো তে অংশ নিতে পারবে নিজেই. এতদূর অবধি যাবে যে, শুধুমাত্র ছবিই দেখতে পাওয়া যাবে না, স্বাদ গন্ধও টের পাওয়া যাবে. কাল্পনিক বাস্তবের কোন বেড়া থাকবে না, তাই তার সম্ভাবনারও শেষ নেই".

         এই রকম ঘটার সব ইঙ্গিতই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, উচ্চ প্রযুক্তি এত দ্রুত বাড়ছে যে আর পাঁচ বছরের মধ্যেই ইন্টারনেট একদম নতুন ধাপে উঠে যাবে. বিশ্ব জোড়া জালের স্রষ্টা টিম বের্নার লী তাঁর ডেইলী টেলিগ্রাফ কাগজকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেনঃ "ইন্টারনেটের পরবর্তী অধ্যায় সেমান্টিক জাল, যখন মানুষের প্রত্যাশার থেকে বেশী কিছু ইন্টারনেট দিতে পারবে. কম্পিউটার বুঝতে শিখবে তথ্যের উদ্দেশ্য, মানুষের মধ্যের জটিল সম্পর্ক কে চিনতে ও মূল্যায়ণ করতে শিখবে, ভৌগলিক অবস্থান ও তথ্যের মধ্যের সম্পর্ককে চিনতে পারবে এবং সব মিলিয়ে এমন ভাবে তথ্য পরিবেশন করবে, যাতে খোঁজ করলে তার ফল পাওয়া যাবে খুবই মূল্যবান এবং অন লাইন থাকা অবস্থায় কাজ করা সহজ হবে". কাল্পনিক ও বাস্তবের ব্যবধান কমে এমন হবে যখন মানুষের কাছে বাস্তব ও কল্পনার কোন তফাত থাকবে না, বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেছেন যে, ইন্টারনেট হবে আন্তর্জাতিক এবং তাতে কম হবে ইংরাজী ভাষার প্রভাব. যেমন "Weird Magazine" এ এক বিশেষজ্ঞ খুবই সঠিক এক ঠাট্টা করেছেনঃ "ভবিষ্যতের ইন্টারনেট পরবে জাপানী কিমোনো, কথা বলবে ভারতীয় উচ্চারণে আর তার শরীর থেকে বেরোবে ব্রাজিলের কামনাময় ঔজ্জ্বল্য".