মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্থানের সঙ্গে গুপ্তচর সংস্থার "আল কায়দা" সংক্রান্ত তথ্য ভাগ করতে রাজী নয়. এই সম্বন্ধে "ওয়াশিংটন টাইমস" সংবাদপত্রকে কয়েকদিন আগে পাকিস্থান সরকারের প্রতিনিধিরা ঘোণা করেছেন. অংশতঃ এই বিষয়টি পাকিস্থানের বেলুচিস্থান প্রদেশের পরিস্থিতি সম্বন্ধে বলা হয়েছে, যেখানে মনে করা হয়েছে যে, "আল কায়দা""তালিবানের" নেতারা লুকিয়ে থাকতে পারে. "সি আই এ গত ২০০৬ সাল থেকে আমাদের এই অঞ্চলের "আল কায়দা" দলের লোকেদের সম্বন্ধে তথ্য ভাগ করা বন্ধ রেখেছে", বলেছেন পাকিস্থানের সরকারি প্রতিনিধিরা এবং এটি একটি কারণ যে জন্য বিদ্রোহী যোদ্ধা দের ধরা সম্ভবপর হচ্ছে না.

         বিষয়টি বিশদ করে বলেছেন সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

আমেরিকান সংবাদপত্র উল্লেখ করেছে পাকিস্থানের সরকারি পদে আসীন কর্মীরা নাম গোপন রাখতে চেয়েছেন, কারণ তাঁদের মতে, "বর্তমানে এই সংবেদনশীল বিষয়ে খুবই জটিল আলোচনা চালু রয়েছে". এরই মধ্যে গত সপ্তাহে পাকিস্থানের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান শাহ মাহমুদ কুরেশী ওয়াশিংটনে এই রকমই একটি প্রশ্নের অবতারণা করেছিলেন. কিন্তু উনি এই বিষয়ে মুখ খুলতে দ্বিধা করেন নি. মাহমুদ কুরেশী তাঁর সরকার ও আমেরিকার সরকারের সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় সহযোগিতাকে আরও ঘনিষ্ঠ করার কথা বলেছেন. "আমরা সহযোগী দেশ এবং আমাদের উচিত একে অপরকে মন্ত্রণা দেওয়া এবং দেখা যাতে এই সক্রিয় সহযোগিতা আমাদের দ্বিপাক্ষিক লক্ষ্যে উপনীত হতে সাহায্য করে".

সুতরাং প্রশ্ন হল আমেরিকার ও পাকিস্থানের গুপ্তচর সংস্থার একে অপরকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে কি বাধা থাকতে পারে এবং কেন তারা একে অপরকে তথ্য বিনিময় থেকে বিরত. এই প্রশ্নের উত্তরে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর বিশ্ব অর্থনীতি ও সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের মার্কিন পাকিস্থান সম্পর্ক বিষয়ের বিশারদ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ বলেছেনঃ

"পাকিস্থানের সরকারি প্রতিনিধি বা সামরিক বাহিনীকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য মনে করতে পারেনি, বিশেষত যারা পাক আফগান সীমান্তের কাছে সন্ত্রাসবাদী দমনে ব্যস্ত রয়েছেন. তাঁরা মনে করেন, যদি "আল কায়দা" বা "তালিবান" নেতাদের গতিবিধি বা তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা মার্কিন প্রশাসন নিচ্ছে তা পাকিস্থানের নেতৃ বৃন্দের হাতে পড়ে তবে তা অনায়াসে "তালিবান""আল কায়দার" নেতাদের কাছে পৌঁছে যেতে পারে, অর্থাত্ সন্ত্রাসবাদীদের কাছে.

দুঃখের বিষয় হল যে, এ রকম আগেও হয়েছে, আর পাকিস্থান তা স্বীকার করেছে. এটা সত্য যে, যে সমস্ত লোকেরা এ রকম কাজ করেছে তারা আজ আর পাকিস্থানের গুপ্তচর সংস্থায় কাজ করে না বলে জানানো হয়েছে. তা সত্ত্বেও আমেরিকার মতে পাকিস্থানের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে গুপ্তচরদের ও তালিব দের মধ্যে পুরনো যোগাযোগ এখনও বজায় রয়েছে".