রাওয়ালপিন্ডি শহরে গত শনিবারে পাকিস্থানের সামরিক বাহিনীর প্রধান ঘাঁটি আক্রমণের পরে ও বেশ কিছু সৈন্যকে বন্দী করে রাখা সপ্তাহভর আতংকের ইতিহাসে সন্ত্রাসবাদীরা একটি অনুচ্ছেদ শেষ করেছে. রবিবার রাতে বিশেষ বাহিনীর ঝটিকা আক্রমণে সম্ভব হয়েছিল বন্দী সৈন্য দের উদ্ধার করে সামরিক বাহিনীর দপ্তর থেকে সন্ত্রাসবাদীদের তাড়ানো.

    বিশদ করে লিখেছেন গিওর্গি ভানেত্সভ.

    সপ্তাহভর সন্ত্রাসবাদী হানা দেশের পরিস্থিতিকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে. গত সোমবারে ইসলামাবাদে কড়া পাহারার রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য বণ্টন দপ্তরের সামনে আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদীর বিস্ফোরণের ফলে কর্মীদের মৃত্যু, পেশোয়ার শহরে শুক্রবারে বাজারে গাড়ী বোমার বিস্ফোরণে সাধারন মানুষের দুঃখজনক মৃত্যু, এসবই এক সন্ত্রাসের ফল.

    কিন্তু সামরিক বাহিনীর প্রধান ঘাঁটিতে আক্রমণ এই সব রক্তাক্ত নিষ্ঠুর সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের সব গুলির চেয়ে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ. পাকিস্থানের সামরিক বাহিনীকে সন্ত্রাসবাদীরা সম্মুখ সমরে আহ্বান করেছে, যে বাহিনী পাকিস্থানের গঠন হওয়ার পরের বিগত ৬০ বছরেরও বেশী সময় ধরে এই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে, যার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে পাকিস্থানের ভারত বিরোধী আণবিক বোমা এবং যারা না কি এই বোমা সুরক্ষিত রাখার গ্যারান্টি দিতে চায়!

    দক্ষিণ ওয়াজিরস্থানে ও দেশের উত্তর পশ্চিমে তালিবান সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে সম্প্রসারিত যুদ্ধ শুরুর জন্যই এই চরমপন্থী দের মাথা চাড়া দেওয়া – বলেছেন বহু পর্যবেক্ষকই.

পাকিস্থান সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞ ও রাশিয়ার প্রাচ্য বিষয়ক বিজ্ঞানী ভ্লাদিমির সোতনিকোভ বলেছেনঃ

    "তেহরিক ও তালিবান দলের বিদ্রোহীরা পাকিস্থানে গত কিছু কাল ধরে যে আতংকের সৃষ্টি করেছে এবং রাওয়ালপিন্ডি শহরের পাকিস্থানের সামরিক ঘাঁটি আক্রমণ করে যে দৃষ্টান্ত দিয়েছে তাতে বোঝাই যাচ্ছে পাকিস্থানের সরকার আগের মতই সারা দেশ জুড়ে সন্ত্রাস ও নৃশংস আক্রমণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উঠতে পারছে না. আর এই নিয়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার পাকিস্থানের কেন্দ্রে রাওয়ালপিন্ডি শহরের সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি দখল করে নিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে, যে পাকিস্থানের সৈন্য দল নিজের ঘাঁটিতেই আর নিরাপদে নেই, তারা দেশের জন্য আর কি করবে. এই সব চরমপন্থী হানার উদ্দেশ্য দেশের পরিস্থিতি বেসামাল করে দেওয়া. পাকিস্থানের সরকারকে এবার অন্ততঃ তালিবান বিদ্রোহীদের সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্রিয়ভাবে নামতে হবে. পাকিস্থানী বাহিনীর আগষ্ট মাসে বেইতুল্লা মেহসুদ কে মারতে পেরে যে উল্লাসের সৃষ্টি হয়েছিল তা তালিবান ও আল কায়দা দলের লোকেরা বুঝিয়ে দিয়েছে যে নিতান্তই সাময়িক. আগামী কয়েক দিনে আরও সন্ত্রাস বাদী হানা বাড়তে পারে, তাই পরবর্তী কালে কি হবে, তা নির্ভর করছে এই দেশের সরকার ও সামরিক বাহিনীর সত্যিকারের অবস্থানের ওপরে".

    আফগান সীমান্তের কাছে পাকিস্থানের উত্তর পশ্চিমের বাদঝুর শহরে আজ সকালে যে সামরিক বাহিনীর তালিবান ঘাঁটি দখলের লড়াই শুরু হয়েছে এবং আগামী কিছু কালের মধ্যেই দক্ষিণ ওয়াজিরস্থানে যে লড়াই শুরু হবে তার উপর পরীক্ষা হবে পাকিস্থানের সরকার ও সামরিক বাহিনী সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে শেষ অবধি ব্যবস্থা নিতে পারবে কি না.