সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী প্রতিভা পাতিলের মস্কো সফরের সময় রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ও প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাত্কার রাশিয়া ও ভারতের সহযোগিতার ক্ষেত্রে এক নতুন উদ্যম এনে দিয়েছে, এর মধ্যে পারমানবিক শক্তি প্রকল্প গুলিও রয়েছে. ভারতের দক্ষিণে কুদানকুলামে নির্মাণ কাজে রত "এটমস্ত্রোইএক্সপোর্ট" কোম্পানীর প্রতিনিধি ওলগা ভাসিলিয়েভার সাথে এই সহযোগিতার দিক গুলি নিয়ে আলোচনা করেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

পারমানবিক প্রকল্প গুলি ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম বিষয়. আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পক্ষ থেকে ভারতের উপর থেকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর রাশিয়া ও ভারতের সহযোগিতা এই ক্ষেত্র টিতে দ্রুত গতিশীলতা অর্জন করেছে. ভারতের নিজস্ব পারমানবিক শক্তি উত্পাদন প্রকল্পের বিষয়ে পরিকল্পনা সুদূর প্রসারী বলে জানা আছে, সংক্ষিপ্ত ভবিষ্যতেই দিল্লী প্রযোজনা নিয়েছে পারমানবিক বিদ্যুত উত্পাদন কেন্দ্রের ক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে. আর, এই সিদ্ধান্ত যাঁরা ভূমিতে আণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করেন তাঁদের জন্য একটি প্রতিযোগিতার পথ খুলে ধরেছে. রাশিয়া আজকের দিনে এই বাজারে এক অন্যতম প্রতিযোগী. ভারতের সঙ্গে প্রথম দেশ হিসাবে রাশিয়া শান্তিপূর্ণ আণবিক শক্তি প্রকল্প চুক্তি সরকারি ভাবে স্বাক্ষর করেছে, বিশেষত কুদানকুলামে প্রকল্পের বিষয়ে.

রাশিয়া ও ভারতের এই সহযোগিতার ক্ষেত্রে বর্তমানের অবস্থা কি রকম এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ওলগা ভাসিলিয়েভা বলেছেনঃ

"কয়েকদিন আগে সেন্ট পিটার্সবার্গের বন্দর থেকে ভারতের উদ্দেশ্য রওয়ানা হয়েছে কুদানকুলামের আণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের আরও যন্ত্রপাতি নিয়ে আরও একটি জাহাজ. এটমস্ত্রোইএক্সপোর্ট চুক্তি অনুযায়ী প্রায় সমস্ত যন্ত্রাংশ সরবরাহ শেষ করে এনেছে. সব মিলিয়ে কুদানকুলামের জন্য ৬৫০০ কিউবিক মিটার মালপত্র পাঠানো হয়েছে.

বর্তমানে কুদানকুলামে প্রথম ও দ্বিতীয় রিয়্যাক্টরের সাথে আরও তৃতীয় ও চতুর্থ রিয়্যাক্টর বসানোর জন্য আলোচনা চলছে. এই দুটি আগের দুটির মতই প্রতিটি ১০০০ মেগা ওয়াট শক্তি উত্পাদনে সক্ষম হবে এবং এদের তফাত সামান্যই কারণ একই জায়গায় নানা ধরনের রিয়্যাক্টর বসানো ঠিক নয়.

রাশিয়ার কোম্পানী এই দেশ থেকে যন্ত্রপাতি পাঠানো ছাড়াও সমগ্র প্রকল্পের নির্মাণের জন্য দলিল ও ড্রয়িং, কাঠামো নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ, তৃতীয় দেশ থেকে যন্ত্রপাতি সরবরাহ, কেন্দ্র চালু করা এবং প্রাথমিক পরীক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে. এই কোম্পানীর বিশেষজ্ঞরা ভারতীয় প্রযুক্তি বিদ দের রাশিয়াতে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, পরিষেবা ও যান্ত্রিক গোলযোগ সারানো কর্মীরাও এখানে প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন".

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, অন্যান্য দেশে যেখানে এটমস্ত্রোইএক্সপোর্ট আণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র বানাচ্ছে, সেখানে যদি শুধু রাশিয়া থেকে পাঠানো কর্মীরাই কাজ করছেন, তবে ভারতে কাজ করছেন মূলতঃ ভারতীয়রা.