দেশের উত্তর পশ্চিমে আফগানিস্থান সংলগ্ন দক্ষিণ ওয়াজিরস্থানে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাকিস্থানের সৈন্য বাহিনী তালিবদের উপর নতুন হামলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে. পাকিস্থানের গুপ্তচর সংস্থার প্রতিনিধি জানিয়েছেন যে, সামরিক বাহিনী তালিবান বিরোধী যুদ্ধের জন্য সমস্ত রকমের ব্যবস্থা করেছে এবং এই যুদ্ধ যে কোন সময়ে শুরু হতে পারে.

বিষয়টিকে বিশদ করে লিখেছেন গিওর্গি ভানেত্সভ.

আগামী যুদ্ধকে সমস্ত আগের যুদ্ধ গুলির চেয়ে বড় বলা যেতে পারে, এপ্রিল মাসের শেষ থেকে পাকিস্থানের সামরিক বাহিনী আজ অবধি যত যুদ্ধ করেছে তালিবদের বিরুদ্ধে, তার তুলনায় এটা হবে সবচেয়ে প্রসারিত. মে মাসে সামরিক বাহিনী সোয়াত উপত্যকার দখল ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল, প্রায় দেড় হাজার তালিব যোদ্ধা মারা গিয়েছিল, তারপর খাইবার পাস দখল করার যুদ্ধ শুরু হয়েছিল. আফগানিস্থান ও পাকিস্থানের মধ্যে স্থলপথের একমাত্র যোগসূত্র. ন্যাটো ও মার্কিন সেনারা এই পথেই আফগানিস্থানে রসদ জুগিয়ে আসছিল আর বিগত কিছু কাল ধরেই তালিব সন্ত্রাসবাদীরা হানা দিচ্ছিল সামরিক কারাভান গুলির উপর অতর্কিতে.

এখন অবধি যা জানা গেছে, তা থেকে বোঝা যাচ্ছে দক্ষিণ ওয়াজিরস্থানে মেহসুদের দলকে তাড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, পাকিস্থানের বোমারু বিমান বাহিনী এই অঞ্চলে কার্পেট বম্বিং করে চলেছে. বর্তমানে সামরিক বাহিনী ওয়াজিরস্থানের ভান শহরে রয়েছে. তাদের জন্য আরও সৈন্য পাঠানো হচ্ছে, তালিব তাড়ানোর খবর পেয়ে স্থানীয় জন সাধারন বাড়ী ঘর ফেলে পালাচ্ছে উদ্বাস্তু ক্যাম্পে. সামরিক বাহিনী সবাই কে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলেছে.

সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে সময় বাছা হয়েছে ঠিক, বেইতুল্লা মেহসুদ মারা যাওয়ার পরে পাকিস্থানের তালিব দের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল চলছে, হাকিমুল্লা মেহসুদ নিজের দলের লোকের হাতেই মারা পড়েছে. তাও তালিবেরা সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে.

এই পরিস্থিতি সম্বন্ধে মন্তব্য করেছেন পাকিস্থান বিশারদ ভ্লাদিমির সোত্নিকভঃ

"এপ্রিলের শেষ ও মে মাসের শুরু থেকে পাকিস্থানের সামরিক বাহিনী তালিবান ও আল কায়দা দলের যোদ্ধাদের সাথে যে সংগ্রাম শুরু করেছে, বর্তমানের দক্ষিণ ওয়াজিরস্থান দখলের লড়াই তারই অংশ. দেখা যাচ্ছে যে, তালিবানের পাকিস্থানি নেতা বেইতুল্লা মেহসুদের নিধনের পরেও সরকারি বাহিনীকে কঠিন সংগ্রাম করতে হচ্ছে, সন্ত্রাসবাদীরা যথেষ্ট বেগ দিচ্ছে সরকারি বাহিনী কে. সামরিক কর্তারা আগেও বলেছেন যে, তাদের লক্ষ্য পাকিস্থানকে তালিবান মুক্ত করা. দক্ষিণ ওয়াজিরস্থানে তালিবেরা ধ্বংস হলে, আফগান পাকিস্থান সীমান্তের পরিস্থিতির পরিবর্তন ভাল দিকেই হবে আর ন্যাটোর পক্ষে তা সুবিধাজনক হবে. তাই আমেরিকা শুধুশুধুই পাকিস্থানকে এই যুদ্ধ করতে বাধ্য করছে না". (sound)