জাপান মনে করে পূর্ব এশিয়া সহযোগিতা পরিষদ সৃষ্টি করা সম্ভব. জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী কাত্সুয়া ওকাদা তাঁর আসন্ন চীন সফরের আগে এই ঘোষণা করেছেন. বিশদ করে জানিয়েছেন আমাদের রেডিও রাশিয়ার সমীক্ষক ইগর দেনিসভ.

কাত্সুয়া ওকাদা চীন চলেছেন যে সব উদ্দেশ্য নিয়ে তার মধ্যে আছে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী দের সাথে দেখা করে আগামী ১০ই অক্টোবর বেইজিং শহরে একটি ত্রি দেশীয় সম্মেলনের আয়োজন করতে. টোকিও মনে করে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সহযোগিতা অনেক দূর ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব হয়েছে তাই পরিবেশ সংরক্ষণ, জ্বালানী শক্তি সরবরাহ, স্বাস্থ্য সংরক্ষণের বিষয় গুলিতে সহযোগিতার পরিমান আরও বাড়ানো প্রয়োজন. নতুন পরিষদের এই কারনেই প্রয়োজন. ওকাদার মতে নতুন পরিষদের সভ্য হতে পারে জাপানের সঙ্গে আরও দশটি আসিয়ান দেশ, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও নিউজিল্যান্ড.

বহু বছর ধরেই আঞ্চলিক পরিষদ গঠনের কথা চলছে, কিন্তু এখনো অবধি নতুন পরিষদের মূল নীতি ও কাঠামো সম্বন্ধে একমত হওয়া সম্ভব হয় নি. প্রতি বছরই চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও আসিয়ানের সদস্যরা মিলিত হন এবং এই সম্মেলন গুলিতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ থেকে শক্তি, পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সংরক্ষণ নিয়ে কথা হয়েছে. পর্যবেক্ষকেরা জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই নতুন পরিষদের সৃষ্টিতে উদ্বিগ্ন কারণ সেখানে তাদের যোগ দান আশা করা হয় নি.

রাশিয়া পূর্ব এশিয়ার প্রথম সম্মেলনে অংশ নিয়ে এর সদস্য পদের জন্য আবেদন জানিয়েছিল, বর্তমানে রাশিয়া পর্যবেক্ষক দেশ হলেও এর কাজে সক্রিয় অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে. মস্কো মনে করে এই পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলির সম্মিলিত প্রচেষ্টা একটি ইতিবাচক ঘটনা এবং অর্থনৈতিক দিক থেকেও ভাল. রাশিয়া একই সঙ্গে প্রসারিত ভাবে জ্বালানী শক্তির বিষয়ে আলোচনা করতে চেয়েছে এবং সেখানে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অন্যান্য আসিয়ান দেশগুলিকে, যারা প্রচুর জ্বালানী শক্তি ব্যবহার করে তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে বসতে চেয়েছে. সাখালিনের খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্পাদনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা এর প্রমাণ. সাখালিন এনার্জি কোম্পানীর উপ প্রধান ইগর ইগনাতিয়েভ এশিয়ার দেশ গুলির সাথে সহযোগিতা সম্বন্ধে আস্থা প্রকাশ করে বলেছেনঃ

"এই রকম সব বড় প্রকল্প তৈরী করতে পেরে আমরা বিশ্বের বাজারে সম্পূর্ণ অন্য মাপের ভূমিকা নিতে পেরেছি, আমাদের এই প্রকল্প একই সঙ্গে রাশিয়া সহ জাপান ও কোরিয়ার জ্বালানী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়, কারণ আমাদের প্রকল্প শতকরা ৮৬ ভাগ তৈরী এবং প্রায় পুরো গ্যাসই অনেক দিনের জন্য বিক্রী হয়ে রয়েছে, এই গ্যাস পাঠানো হবে জাপানে ও কোরিয়াতে, অর্থাত্ এই প্রকল্পের ফলে রাশিয়া এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমগ্র জ্বালানী সরবরাহের শতকরা সাত ভাগের দখল পাচ্ছে. আমাদের দেশ এশিয়ার প্রতিদিনের জ্বালানীর প্রয়োজন বৃদ্ধিকে সরবরাহ করার জন্য অনেক গুলি দিকে নির্দিষ্ট সহযোগিতার কথা বলেছে এবং তার ফলে এই অঞ্চলের উন্নতি স্থায়িত্ব পাবে". (sound)