আমেরিকার পিটসবুর্গে শুক্রবারে জি-২০ দেশের নেতারা মিলিত হতে চলেছেন তৃতীয় বার. তাঁদের আলোচনার মুখ্য বিষয় অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে মুক্তির পথ খোঁজা এবং বিশ্বের অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন. বৈঠকের জায়গা থেকে খবর দিয়েছেন আমাদের বিশেষ সংবাদদাতা মিখাইল কুরাকিনঃ

    "বর্তমানের জি-২০ দেশের শীর্ষ বৈঠক এর আগে শুরু হওয়া আলোচনার ধারা অব্যাহত রেখে বিশ্বের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করবার জন্য নিয়মাবলীর বিষয়ে চলবে. অংশতঃ আঞ্চলিক বিনিময়ের জন্য সংরক্ষিত মুদ্রা ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগের বাজারে নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়ম তৈরী. রাশিয়া নিজের তরফে অনেকগুলি প্রস্তাব আনবে, তার মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সংস্থা গুলির পরিমার্জন এবং অর্থনৈতিক রিপোর্টের বিষয়ে একই ধরনের কাঠামো. এ ছাড়া এই বৈঠকের আগে জনসাধারনের কড়া নজরে ছিল ব্যাঙ্কের কর্মচারীদের বোনাসের বিষয়টি. বারাক ওবামা এই দলে যোগ দিতে পারেন, কারণ আমেরিকাতে বোনাসের উপর শতকরা ৯০ শতাংশ কর নেওয়ার কথা হচ্ছে, ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি নিকোলা সারকোজি বোনাস ব্যবস্থা একেবারেই তুলে দিতে চান. যদিও মনে হয় যে, বৈঠকে বোনাসের ব্যাপারে কোন সঠিক সংখ্যার কথা না বলে কর আরোপের কথা বলা হবে, তাও এই বিষয়টি আর অনির্দিষ্ট ভাবে থাকবে না".

    পিটসবুর্গে অন্যান্য বিষয় গুলিতেও রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ আলোচনার মাধ্যমে বাস্তব সমাধানের আশা করেছেন. বৈঠকের অব্যবহিত আগে উনি বলেছেন, এবারে দায়িত্বজ্ঞান সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে আরও বড় এবং নাটকীয় সঙ্কটের হাতে পড়তে না হয়. এই জন্য জি-২০ বৈঠকের কাঠামোতে গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে এবং পিটসবুর্গের বৈঠকের সিদ্ধান্তকে সকলের জন্য অবশ্য কর্তব্য বলে পালন করতে হবে. শুধুমাত্র এই পথেই অর্থনৈতিক ভাবে উন্নতিশীল ও উন্নত ২০ টি দেশের সিদ্ধান্ত বাস্তবে কাজে রূপান্তরিত হতে পারে এবং বিশ্বের আর্থ বিনিয়োগ ব্যবস্থায় স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে. এই ২০টি দেশের সিদ্ধান্ত আরও ভাল হয় যদি বিশ্বের বাকী সব দেশও কাজ করবার নির্দেশ হিসাবে মেনে নেয়. কিন্তু এর জন্য আন্তর্জাতিক আর্থ বিনিয়োগ ব্যবস্থা, বিশ্ব ব্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক কোষাগারে এত পরিবর্তন আনতে হবে যাতে, সারা বিশ্বের সব দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকে এবং প্রতিটি দেশের বক্তব্যকে মুদ্রা নিয়োগের ক্ষেত্রে ভাল করে শোনা হয়.

    বিশেষজ্ঞরা বলেছেন লন্ডন শীর্ষ বৈঠকের পরবর্তী ছয় মাসে বিভিন্ন দেশের যোগাযোগের মাত্রা বেড়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে আবার জীবনের লক্ষণ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. কিন্তু সম্পূর্ণ ভাবে সেরে ওঠা এখনো অনেক দেরী. সঙ্কট প্রতিরোধ ব্যবস্থা গুলিকে বন্ধ করার সময় এখনো আসে নি. খুবই প্রয়োজন যে, এখন যে ব্যবস্থা গুলি নেওয়া হবে তা যেন বিশ্বকে এই রকম সঙ্কটের মুখে আর পড়তে না দেয়.