রাষ্ট্রসংঘকে বাস্তবের বিশ্ব সমাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ো নিতে হবে. এর মানে হল সংস্থার প্রভাব বৃদ্ধি, রাষ্ট্রগুলির মধ্যে মধ্যস্থতা করার ভূমিকাকে অটুট রাখা এবং সংস্থার মূল দলিলে গৃহীত প্রধান নীতি ও তত্ত্ব গুলি পালন করা. রাষ্ট্রসংঘের ৬৪তম সাধারন সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ যে বক্তৃতা দিয়েছেন তার একটি অন্যতম বিষয় ছিল এইটা.

    রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের উপ প্রধান পাভেল জোলোতারেভ মনে করেন যে, এই রকম ভাবে বিষয়টির উত্থাপন করার প্রয়োজন এসেছে ও তা কার্য কারণ সংগতঃ

    "এ কথা সত্য যে, এই সংস্থার জন্ম হয়েছিল অন্য সময়ে, তার কাজ ছিল অন্য. সময়ের পরিবর্তন হয়েছে, আমরা এখন উন্নতির যে অধ্যায়ে রয়েছি, তাকে বিশ্বায়ন বলা হয়ে থাকে. বিগত সময়ের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমানের পরিস্থিতি মেলে না. এই অধ্যায়ে বিশ্বের নিয়ন্ত্রণের জন্য এক নিয়ামক সংস্থার প্রয়োজনীয়তা আছে".

    বর্তমানের নতুন রকমের বিপদ ও যুদ্ধ আহ্বান গুলির মধ্যে, যেগুলির এই ২১শের শতকে মানব জাতি সম্মুখীন হচ্ছে, সে গুলির সব দেশীয় ও জাতীয় স্বার্থকে অক্ষুণ্ণ রেখে ঐকতানে সমাধানের জন্য রাষ্ট্রসংঘের মত সংস্থার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে. আর প্রাথমিক ভাবে অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার জন্যও এর প্রয়োজন আছে. শুধুমাত্র সামগ্রিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সে রকম কোন অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগের নীতি গ্রহণ করা সম্ভব, যা সকলকেই বর্তমানের মত ঝাঁকুনির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে.

    আসলে আন্তর্জাতিক শক্তির নিরাপত্তা প্রসঙ্গেও বহুপাক্ষিক ইনস্টিটিউট গুলি বিশেষত রাষ্ট্রসংঘ সৃষ্ট গুলিকে বাদ দিয়ে কিছু করা সম্ভব নয়. সেন্ট পিটার্সবার্গের জি -৮ দেশের শীর্ষ বৈঠকে তিন বছর আগে এই ধরনের সহযোগিতার আইনের ভিত্তি তৈরী করা হয়েছিল. দিমিত্রি মেদভেদেভ তাঁর রাষ্ট্রসংঘের বক্তৃতায় বলেছেন যে এই সহযোগিতার লক্ষ্য হল শক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে সমস্ত একই পাশে আবদ্ধ দেশগুলির স্বার্থের ঐকতান ঘটানো – উত্পাদক, পরিবাহক ও ভোক্তাদের মধ্যে.

    রাষ্ট্রসংঘ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও পারমানবিক অস্ত্রের প্রসার রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে. রাশিয়া চায় পরীক্ষা যোগ্য ও ফেরত অযোগ্য আণবিক অস্ত্র প্রসার রোধ চুক্তি স্বাক্ষর করতে. স্ট্র্যাটেজিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিও রাশিয়া ও আমেরিকার রাষ্ট্রপতিরা নতুন ভাবে গ্রহণ করতে আগ্রহী এবং জুলাই মাসেই ঘোষণা করেছেন যে, নতুন চুক্তিতে বর্তমানের আণবিক বোমার পরিমান ১৫০০ থেকে ১৬৭৫ করা হবে এবং রকেটের সংখ্যা ৫০০ থেকে ১১০০ করা হবে.

    কিন্তু সময় এসেছে যখন রাশিয়া ও আমেরিকার সঙ্গে আণবিক অস্ত্র প্রসার রোধ চুক্তিতে যোগ দেওয়া চাই অন্যান্য দেশগুলিরও. মেদভেদেভের কথা মতো সব পক্ষের পক্ষে ক্ষমতা উপযুক্ত বাস্তব কাঠামো তৈরী করার দরকার. আজ রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠক হবে, যার মূল বিষয় হবে আণবিক অস্ত্র প্রসার রোধ. এই বৈঠক নিশ্চিত ভাবেই অস্ত্র প্রসার নিয়ন্ত্রণে নতুন মাত্রা দেবে.