নিউইয়র্কে দিমিত্রি মেদভেদেভ চীনের চেয়ারম্যান হু জিন টাও এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইউকিও হাতোইয়ামার সঙ্গে দেখা করেছেন. রেডিও রাশিয়ার সমীক্ষক ইগর দেনিসভ এই সাক্ষাত্কারের বিষয়ে কিছু তথ্য জানিয়েছেন.

    রাশিয়া ও চীন শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ রেখেছে. এই বছরের গরমে হু জিন টাও এর মস্কো সফরের সময় দুই নেতার দেখা হয়েছিল এবং তাঁরা আলোচনাকে অগ্রসর করেছেন বর্তমান সাক্ষাত্কারে.

    মস্কো শীর্ষ বৈঠকের সময় আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে যে ধারণা করা হয়েছিল তা বাস্তবায়িত করা হয়েছে. নিউইয়র্কে দিমিত্রি মেদভেদেভ ও হু জিন টাও চীনের উত্তর পূর্বের রাজ্য গুলির সঙ্গে রাশিয়ার সুদূর পূর্ব ও পূর্ব সাইবেরিয়া অঞ্চলের সহযোগিতা সংক্রান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন. দুই প্রতিবেশী দেশের এই সহযোগিতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ. রাশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদ ভিচেস্লাভ সেলিভেরস্তভ বলেছেনঃ

    "আমাদের সহযোগিতার যা ভবিষ্যত তা দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, এই সম্পর্কের উন্নতি খুবই দ্রুত গতিতে হচ্ছে, দুই দেশের নেতারা তা অনেকবার বলেছেন. আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি সম্পর্কের উন্নতিতে খুবই জরুরী. দুই দেশের ভৌগলিক নৈকট্য এবং অর্থনীতির পরিপূরক পরিস্থিতির বিচারে রাশিয়া ও চীন বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট নিরাময়ে বেশী ভাল করে কাজ করতে পারে".

    দুই দেশের সহযোগিতার বিষয় গুলি ছাড়া হু জিন টাও ও দিমিত্রি মেদভেদেভ তাঁদের আলোচনাতে আন্তর্জাতিক বিষয় সম্বন্ধেও আলোচনা করেছেন. এই বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক পরিকল্পনার বিষয়েও কথা হয়েছে. বহুপাক্ষিক আলোচনাতে উত্তর কোরিয়াকে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে.

    দক্ষিণ কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের বিষয়ে কথা হয়েছে জাপানের প্রধানমন্ত্রী হাতোইয়ামার সঙ্গে. দিমিত্রি মেদভেদেভ হাতোইয়ামার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাত্কারে বলেছেন, রাশিয়া জাপানের সঙ্গে সমস্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত এবং সর্বাপেক্ষা কঠিন বিষয় গুলিতে সমাধান সূত্র খুঁজতে তৈরী. হাতোইয়ামা বলেছেন, তিনি আশা করেন যে, দক্ষিণ কুরিল সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হবে ও রাশিয়ার সাথে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে. প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন যে, "আমরা আমাদের প্রজন্মেই এই সমস্যা গুলি সমাধান করতে বাধ্য এবং এই ভাবে রাশিয়া ও জাপানের নতুন সম্পর্ক তৈরী করতে বাধ্য". রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি মুখপাত্র আন্দ্রেই নেস্তেরেঙ্কো বর্তমানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষমতা সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেনঃ

    "জাপান ও রাশিয়ার সমস্ত ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার মতো ক্ষমতা রয়েছে, বর্তমানের বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্কটের সময়ে এর গুরুত্বও অনেক বেশী, আমাদের উচিত্ হবে সাহসিকতার সঙ্গে বাস্তবে প্রযোজ্য পথের সন্ধান করা, যাতে দুই পক্ষেরই নতুন করে বিশ্বাস যোগ্যতা, একে অপরকে বোঝার ক্ষমতা এবং কার্যকরী সহযোগিতার মাধ্যমে যে কোন ধরনের, এমনকি খুব জটিল সমস্যারও সমাধান করার সুবিধা হয়".

         রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির রাষ্ট্রসংঘের সাধারন সভার ভিতরে চীন ও জাপানের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে বসা আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে যে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র নীতিতে এশিয়ার দিকে নজর আগের মতই খুবই গুরুত্বপূর্ণ.

<audio>