ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ, পুলিশের ডিরেক্টর জেনেরাল ও ইন্সপেক্টর দের দিল্লী সম্মেলনে বলেছেন যে, ভারতের জন্য সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হল চরমপন্থী ও সন্ত্রাসবাদী দের হামলা. ওই একই সম্মেলনে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পি. চিদাম্বরম জানিয়েছেন, শুধু এই বছরের প্রথম ছয় মাসে ভারতে ১৩টি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ ধ্বংস করেছে. মন্ত্রী বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর মতে সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হল মাওবাদী ও ঐসলামিক চরমপন্থীদের যৌথ ভাবে সংগঠিত অপরাধ.

    রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ গেন্নাদি চুরফিনের সঙ্গে আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সময়, শুধু মাত্র ভারত নয়, অন্যান্য এশিয়ার দেশগুলিতেও আজ সন্ত্রাস বাদী ও চরমপন্থীদের হামলা আতংকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মনে করেন কি না, প্রশ্ন করলে তিনি বলেছেনঃ

    "ধারণা করতে পারি যে, ঐসলামিক চরমপন্থীরা বর্তমানে নিজেদের অবস্থান জোরালো করতে চাইছে. প্রমাণ হিসাবে দেখতে পাওয়া যায় আফগানিস্থানের শতকরা চল্লিশ ভাগ অঞ্চল আজ তাদের দখলে. পাকিস্থানের আফগানিস্থান সংলগ্ন অঞ্চলও আজ তাদের দখলে. ওরা সিন্ধ ও পাঞ্জাব প্রদেশে, করাচী ও লাহোরে তাদের প্রভাব বিস্তার করতে সমর্থ হয়েছে, তাই প্রতিবেশী দেশ গুলিতে এটা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে. বিশেষত ভারতে, প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের মধ্য এশিয়ার দেশ গুলিতে, এমনকি আমাদের দেশেও. তার ওপরে ঐসলামিক চরমপন্থীরা বিশেষ নমনীয় কৌশলে সুদূর প্রসারী বিরোধী দল তৈরী করছে. শুধু শুধুই তো আর বর্তমানের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বিভিন্ন আঞ্চলিক যুদ্ধ গুলির নাম দিয়েছেন গেরিলা যুদ্ধ, শুধুমাত্র ঐসলামিক চরমপন্থীদের সঙ্গে এ যুদ্ধ আর নয়. এই বিষয়টি আফগানিস্থান ও পাকিস্থানের পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়. অর্থাত্ বর্তমানে আমরা শুধু ঐসলামিক চরমপন্থীদের সঙ্গেই লড়ছি না, চরমপন্থী ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গেই শুধু নয়, বরং অনেক বড় বিরোধী চক্রের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে. পাকিস্থান ও আফগানিস্থানের ক্রমবর্ধমান দারিদ্র ও মাদক চোরা চালান ব্যবসার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি যথেষ্ট ভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে. ভারত ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলিও এর শিকার হচ্ছে. সা.স.স. পরিষদের দলিলেও এর উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের সীমান্তের পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্য এশিয়ার দেশ গুলির দক্ষিণাঞ্চল যে রাশিয়া সহ সমস্ত রাষ্ট্র প্রধানদের বিশেষ উদ্বেগের অঞ্চল তা এই পরিষদের ইকাতেরিনবুর্গের সম্মেলনের পর যৌথ বক্তব্যে বলা হয়েছে. ভারতের জন্য কাশ্মীর ও মুম্বাই এর চরমপন্থী হানার কথা বিচার করলে এই অবস্থার গুরুত্ব যে অত্যন্ত বেশী তা বোঝা যায়".

    কিন্তু ভারত ও পাকিস্থানের বামপন্থী প্রতিক্রিয়াশীল ও ঐসলামিক চরমপন্থী দল গুলির স্লোগান ও লক্ষ্য এক না হলেও তাদের বর্তমানের একে অপরের প্রতি আগ্রহকে কি ভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?

    গেন্নাদি চুরফিনের মতেঃ

    "ওদের মূল একই জমিতে, মানুষের জীবনযাত্রার মান নেমে যাওয়া টাকে বিভিন্ন বিরোধী দল ব্যবহার করছে. এই মাটিতে যদি ওরা কলম চাষের ফলে জুড়ে নাও যায়, তাও বিভিন্ন বিরোধী দল যেমন, বাম পন্থী প্রতিক্রিয়াশীল, ঐসলামিক চরমপন্থী ইত্যাদি দের মধ্যে একটা সাময়িক সমঝোতা হয়ে চলেছে. এই বিষয়টি ইতিহাসে যথেষ্ট বার ঘটেছে, যেমন কয়েক বছর আগের তাজিকিস্থানের গৃহযুদ্ধের সময়, যখন তাজিকিস্থানের বিরোধী ঐক্যের মধ্যে একসাথে ঐসলামিক চরমপন্থীরা তথাকথিত সমাজবাদী গণতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক দলের নাম করে যারা ছিল তাদের সঙ্গে সহাবস্থান করেছিল". (sound)