পাকিস্থানের সৈন্য বাহিনী দেশের উত্তর পশ্চিমে স্থানীয় তালিবান সমর্থক যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে নতুন সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অপারেশন শুরু করেছে. আফগান সীমান্তের কাছে খাইবার অঞ্চলে যুদ্ধ চলছে.

    বিষয়টি বিশদ করে বলেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    খাইবার পাস দিয়ে এখনকার একমাত্র পদাতিক বাহিনী চলাচলের পথ আছে, আর সেখানে দিয়েই আমেরিকান ও ন্যাটো জোটের সৈন্যরা আফগানিস্থানের জন্য রসদের যোগান দিচ্ছে. কিন্তু এই অঞ্চলেই বর্তমানে তালিব সমর্থক অসংখ্য যোদ্ধা সক্রিয় ভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে. এছাড়াও আল কায়দার যোদ্ধারাও এখানে রয়েছে. মালবাহী গাড়ীর কারাভান আক্রমণ করে তারা আমেরিকা ও ন্যাটো জোটের সামরিক অস্ত্র, রসদ ও অন্যান্য জিনিস পত্র লুঠ ও ধ্বংস করছে আর যৌথ বাহিনীকে দুর্বল করে দিচ্ছে.

    মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, এর আগে পাকিস্থানের সৈন্য বাহিনী সোয়াত উপত্যকা ও তার পার্শ্ববর্তী বাদঝুর ও মোমান্দ অঞ্চলে বড় যুদ্ধ করেছে. সত্য করে বলতে গেলে এই অঞ্চলে তারা যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে তা বলা যায় না. এখনো সেখানে যোদ্ধারা মাঝেমাঝেই মাথা চাড়া দিচ্ছে ও সামরিক বাহিনীকে আক্রমণ করছে. কিছুদিন আগে পাকিস্থানের সামরিক বাহিনী এই অঞ্চলে তালিবান সমর্থক পাঁচ জন নেতৃ স্থানীয় লোক কে ধরতে পেরেছে, তারা সোয়াত উপত্যকা অঞ্চলে কাজ করছিল. পাকিস্থানের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বের প্রতিনিধি মেজর জেনেরাল আতের আব্বা এই খবর দিয়েছেন. ধরা যারা পড়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে মুসলিম খান ও চারজন অন্য তালিব নেতা.

    রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ আজকের পাকিস্থান ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সামরিক অবস্থা সম্বন্ধে পর্যবেক্ষণ করে বলেছেনঃ

    "খাইবার পাসে পাকিস্থানের সামরিক বাহিনীর তালিবান ও আল কায়দা সমর্থক যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান সম্বন্ধে বলতে গেলে বলা যেতে পারে এটি এপ্রিল মে মাস থেকে চালু হওয়া অভিযানের অংশ. দেখাই যাচ্ছে যে, পাকিস্থানের তালিব নেতা বেইতুল্লা মেহসুদের মৃত্যুর পরেও পাকিস্থানের সামরিক বাহিনীকে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে. যোদ্ধারা খুবই সাফল্যের সঙ্গে বিরোধিতা চালিয়ে যেতে পারছে. জানা আছে যে, পাকিস্থানের সামরিক বাহিনীর ঘোষণা মত এই অভিযানের উদ্দেশ্য পাকিস্থানের মাটি থেকে তালিবান আন্দোলনকে সমূলে উত্খাত করা. কিন্তু ঘটনা যা দেখা যাচ্ছে তাতে বলা যেতে পারে এমনকি আফগানিস্থানে থাকা ন্যাটো জোট বা মার্কিন সৈন্য দের জোরালো সমর্থন পেয়েও তারা এটা খুব ভালো ভাবে করতে পারছে না. পাকিস্থানের সর্বত্র তালিবান যোদ্ধারা ছড়িয়ে গেছে, তার মধ্যে খাইবার পাস ওদের দখলে, যেখান দিয়ে করাচী থেকে আমেরিকান ও ন্যাটো জোটের সৈন্যরা পাকিস্থান হয়ে আফগানিস্থানে প্রবেশ করছে. তাই আজ ওয়াশিংটন ও তার ন্যাটো জোটের সঙ্গীরা মস্কো এবং কেন্দ্রীয় এশিয়ার দেশ গুলিকে অনুরোধ জানাতে চাইছে যে তারা সামরিক বাহিনীকে এই দেশ গুলির মধ্যে দিয়ে পাঠাতে চায়. ন্যাটো জোট ও আমেরিকার সৈন্য বাহিনীর নেতৃত্বের কাছে উত্তরের রাস্তা দিয়ে অনুপ্রবেশ বিশেষ করে নিরাপদ মনে হয়েছে কারণ এই পথে তালিব যোদ্ধাদের নতুন করে সামরিক কারাভানের উপর আক্রমণের সম্ভাবনা নেই". (sound)