রাশিয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে অর্থনৈতিক সঙ্কটের পর নতুন করে উন্নতি করার, জার্মানীর ডেকা ব্যাঙ্কের প্রধান অর্থনীতি বিদ উলরিখ কাটের মনে করেন যে, এরকম হওয়ার কারণ রাশিয়ার অর্থনীতি রপ্তানী নির্ভর বলে. সঙ্কটের থেকে উন্নতির পথে সবার চেয়ে প্রথমে রয়েছে জার্মানী, যারা সারা ইউরোপের অর্থনৈতিক উন্নতির প্রশ্নে চালিকা শক্তির কাজ করতে পারে. জার্মানীর ডিয়ে ওয়েল্ট কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে কাটের বলেছেন আর রাশিয়া এই চালিকা শক্তির ইন্ধনের যোগান দিয়ে থাকে.

    রপ্তানী নির্ভরতা অবশ্যই শুধু নিজের ভাল দিক গুলি দেখায় না, খারাপ দিক গুলিও দেখায়. বিশ্বের অর্থনীতির উপর যে দেশ যত বেশী নির্ভর শীল, এই সঙ্কট তাদের জন্য তত বেশীই বেদনা দায়ক হয়েছে. শুধু মাত্র এই কারণেই কাটের ও তাঁর ডেকা ব্যাঙ্কের সহকর্মীরা যে রেটিং বানিয়েছেন, তাতে রাশিয়া পৃথিবীর প্রথম তিনটি সামগ্রিক জাতীয় উত্পাদনের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার নেতৃত্বের দাবীদার দেশ গুলির মধ্যে রয়েছে. রাশিয়ার চেয়ে সামগ্রিক জাতীয় উত্পাদনের হার কম হয়েছে একমাত্র তুরস্কের.

    রাশিয়ার অর্থনীতি বিদ দের মধ্যে জার্মানীর এই বিশারদ দের প্রবন্ধ সক্রিয় আলোচনার তুফান তুলেছে. রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর বিশ্ব অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের কর্মী ইউরি শিপভ ডেকা ব্যাঙ্কের এই রেটিং টিকে বাস্তব অবস্থার প্রতিকৃতি বলতে দ্বিধা করেন নিঃ

    "রাশিয়া তার নিজের জমানো সম্পদ, তহবিল ও নিরাপত্তার বালিশের উপর আশা করে বসে ছিল. সময় মত অর্থনীতিকে বহু ধারাতে বিভক্ত করে নি. তাই যখন বাজ পড়ল, আমাদের সঞ্চয়ে এই তহবিল গুলি ছাড়া আর কিছুই ছিল না".

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের ভিক্টর সুলিয়ান অবশ্য রাশিয়ার সামগ্রিক দেশীয় উত্পাদন সম্পর্কে জার্মানীর বিশেষজ্ঞ দের মতের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত হতে পারেন নি. তাঁর মতে রাশিয়া কে কোন দেশের সঙ্গে তুলনা করা হবে তার উপর সব রেটিং নির্ভর করছে.

    "যদি আমরা বিশ্বের অগ্রগামী অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী দেশ গুলির সামগ্রিক জাতীয় উত্পাদনের হারের কিছু পরিসংখ্যান বিচার করি তবে অবশ্যই রাশিয়া জাতীয় উত্পাদনের কমতির ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা দেশ গুলির একটি হতে পারে, আর যদি যে সব দেশে সঙ্কট হয়েছে সেই সব দেশের সংখ্যা বাড়িয়ে দিই, তাহলে দেখা যাবে অনেক দেশ আছে যাদের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতির হার আমাদের চেয়ে অনেক বেশী. এদের মধ্যে পূর্ব ইউরোপের দেশ গুলি, বাল্টিক সমুদ্র তীরবর্তী দেশ গুলি সবাই রয়েছে, আরও অনেক দেশ আছে অন্যান্য অঞ্চলে".

    যতক্ষণ জার্মানীর বিশেষজ্ঞরা হিসেব করেছেন, কোন দেশ কতটা গভীরে পতিত হয়েছে, ততক্ষণে রাশিয়ার সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়ে কথা বলতে শুরু করে দিয়েছেন. রাশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রধান এলভিরা নাবিউলিনা কয়েক দিন আগেই ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়া অর্থনৈতিক পতনের তলদেশের শেষ বিন্দু থেকে ওপরে ওঠা শুরু করেছে এবং বছরের দ্বিতীয় ভাগে সাড়ে চার শতাংশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন আশা করা যেতে পারে. সঙ্কট থেকে মুক্তি পাওয়ার কথা রাশিয়ার মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বড় নেতিবাদী বিনিয়োগ মন্ত্রী আলেক্সেই কুদরিন ও বলতে বাধ্য হয়েছেন. বিশেষজ্ঞরা রাশিয়ার মন্ত্রী সভার সঙ্কট মুক্তির জন্য নেওয়া পদক্ষেপের নির্ভুলতা নিয়ে যতই তর্ক করুন না কেন, একটা বিষয়কে সবাই মানতে বাধ্য যে, দেশ এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠেছে. আর তা খনিজ তেলের দাম বাড়ার সময়ের জমানো টাকার দৌলতে. কারণ এমনিতেই রাশিয়ার অর্থনীতি ৯০ এর দশকের পতনের থেকে আবার উঠে দাঁড়াবার পথে চলছিল, তাই এই নিরাপত্তার বালিশ না থাকলে যে সঙ্কটের গভীরতা বৃদ্ধি দেশকে আবারও পূর্বের অনিয়মের সময়ে পিছিয়ে নিয়ে যেতে পারত. অবশ্যই সরকার আগের সব ঝঞ্ঝা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন. তাই বুঝতে পেরেছেন যে, অর্থনীতির বহু বিভক্তি প্রয়োজনীয়. আপাততঃ রাশিয়াকে আগের মতই উঠে দাঁড়াতে হবে, অর্থাত্ খনিজ তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মত শক্তি বিক্রয় করেই, সে গুলির দাম আবারও বৃদ্ধির দিকে হামাগুড়ি দিয়ে উঠছে.