রাশিয়াতে ভারতের বর্ষ ব্যাপী উত্সবে বর্তমানের সেপ্টেম্বর এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়েছে.

    রাশিয়ার সংবাদ মাধ্যম গুলিতে সেপ্টেম্বরের প্রথম দিনগুলি থেকেই ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সরকারের প্রধান নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তি দের পারস্পরিক সাক্ষাত্কারের বর্ণনা কেন্দ্রীয় আলোচনার বিষয় হয়েছে. ২ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর আমাদের দেশে সফরে এসেছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী প্রতিভা পাতিল. ভারতের উচ্চতম পদাসীনা অতিথির সাথে আলোচনা করেছেন রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ. সাক্ষাত্কার ও আলোচনা হয়েছে রাশিয়ার সরকারের প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রপতির. দুই পক্ষই উল্লেখ করেছেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্ত যৌথ প্রকল্প গুলির উন্নতির প্রচেষ্টা, বিশেষ করে মনোযোগ দিয়েছেন অর্থনীতি ও বাণিজ্যের বিষয়ে. রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষে ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী প্রতিভা পাতিলকে উষ্ণ সাদর অভ্যর্থনা এবং গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে. উচ্চ কক্ষের অধ্যক্ষ সের্গেই মিরোনভ মনে করেন যে, রাশিয়ার ভারতের রাষ্ট্রীয় কাঠামো সম্বন্ধে অভিজ্ঞতার পাঠ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে. তাঁর শ্রীমতী প্রতিভা পাতিলের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের ফল হিসাবে স্থির হয়েছে ভারত ও রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষের প্রতিনিধি দলের সফর বিনিময় হবে.

    ভারতের রাষ্ট্রপতির এই সফরের সাংস্কৃতিক দিকটিও ছিল যথেষ্ট ঘটনা বহুল. শ্রীমতী পাতিল মস্কো এবং সেন্ট পিটার্সবার্গের দর্শনীয় স্থান গুলি দেখেছেন. দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে বিখ্যাত বলশয় থিয়েটারে গিয়েছেন. সেখানে ভারতের প্রখ্যাত শিল্পীদের অনুষ্ঠান হয়েছে. মস্কোর কনসারভেটরীর শিক্ষিকা এবং ভারতীয় সংস্কৃতির বিশেষ কদর যিনি করেন, সেই বিখ্যাত শিল্প বিশারদ মার্গারিতা কারাতীগিনা এই ঘটনাটি নিয়ে তাঁর মত জানিয়েছেনঃ

    "এটি ছিল এক বিশাল, রংয়ে ভরপুর আর আনন্দের অনুষ্ঠান. আমরা দেখতে পেলাম এক বর্তমানের যৌবনের শক্তিমান ভারতকে তার একেবারে নিজস্ব বহু শতাব্দীর শেখা কলা প্রদর্শনী. মস্কো কনসারভেটরীতে ভারত উত্সব বর্ষ উপলক্ষে অংশ নিয়েছেন বহু বিখ্যাত ভারতীয় সঙ্গীত শিল্পী ও বাজিয়েরা. এখনই আমরা পরিকল্পনা করেছি ২০১০ সালে আরও কয়েকটি নতুন অনুষ্ঠানের, সেগুলিতে আমাদের ভারতীয় বন্ধুদের অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছি. তাঁরা আমাদের মস্কো কনসারভেটরীর উত্সব "বিশ্বের ধ্বণি" অনুষ্ঠানে আসবেন যোগ দিতে. পুরো বছর ধরে এই উত্সব হবে. ভারতীয় সঙ্গীতের ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ শুধু আমাদের ছাত্র ও শিক্ষকেরাই দেখান নি, অনেক রাশিয়ার সঙ্গীত প্রেমী মানুষও দেখিয়েছেন এবং আমরা সানন্দে সকলকে এই সুযোগ করে দিতে পারবো".

          শ্রীমতী প্রতিভা পাতিলের সফরের দিনগুলিতে মস্কোতে ২২তম আন্তর্জাতিক বই মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে, এই মেলার প্রধান অতিথি দেশ ছিল ভারতবর্ষ. ভারতের নানা রাজ্য থেকে বইমেলাতে অংশ নিতে এসেছিলেন নামী লেখক, কবি ও প্রকাশকেরা. এঁদের মধ্যে ছিলেন তামিলনাডু রাজ্যের বিখ্যাত লেখিকা কুমারী ফাউস্তিনা বামা.

    "আমি ভারতের জাতীয় গ্রন্থ প্রকাশনালয়ের কাছ থেকে মস্কো আন্তর্জাতিক বইমেলাতে আসার আমন্ত্রণ পেয়ে খুবই খুশী হয়েছিলাম. অল্প বয়সে খুবই উত্সাহ নিয়ে পড়েছি ম্যাক্সিম গোর্কীর রচনা, তাঁর রচিত মা বই টি, যেটি ভারতে বহুল প্রচারিত. ভারতীয়রা আন্তন চেখভ, লেভ তলস্তয়, ফিওদর দস্তয়েভস্কি ও অন্যান্য রাশিয়া ও সোভিয়েত দেশের কবি এবং সাহিত্যিকদের রচনার সঙ্গে পরিচিত. এই কদিন আমাদের সুযোগ হল রাশিয়ার বর্তমানের সাহিত্যিক ও প্রকাশকদের সাথে পরিচিত হওয়ার. আমি রাশিয়ার লেখিকাদের সাথে আয়োজিত গোল টেবিল বৈঠকে অংশ নিয়েছি. এঁদের মধ্যে কয়েকজন গত বছরের দিল্লী বইমেলাতে এসেছিলেন. সেখানের প্রধান অতিথি দেশ ছিল রাশিয়া. রাশিয়া ও ভারতের একে অপরের দেশে আয়োজিত সাংস্কৃতিক বর্ষ সন্দেহাতীত ভাবে দুই দেশের সাহিত্যিক ও প্রকাশকদের মধ্যে মত বিনিময় ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে. সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ বাড়াবে. এই সহযোগিতার জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রকল্প গুলি প্রয়োজনীয় গুরুত্ব ও সফলতার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী প্রতিভা পাতিলের রাশিয়া সফরের দিন গুলিতে", বক্তব্যের শেষে বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন তামিলনাডু রাজ্যের লেখিকা ফাউস্তিনা বামা.

<sound>