শুক্রবার থেকে লন্ডনে জি -২০ দেশগুলির অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক গুলির প্রধান পর্যায়ের দুদিনের বৈঠক বসছে. এই বৈঠক ডাকা হয়েছে এই বছরের ২৪-২৫ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবুর্গে শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতির প্রধান বিষয় গুলির আলোচনার জন্য.

    বৈঠকের আলোচ্য বিষয় গুলিকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য পরবর্তী ব্যবস্থা, ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার পরিমার্জন ও বিশ্ব অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণে নতুন কাঠামো নির্মাণ. জি-২০ দেশ গুলির নতুন বৈঠকের আগে বিশ্বের অর্থনীতি পর্যবেক্ষকদের মধ্যে বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের মোকাবিলাতে রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে বাগবিতণ্ডা চালু হয়েছে.

    বিশ্বের বাজারে অর্থনৈতিক উন্নতির ক্ষেত্রে লক্ষ্যনীয় সক্রিয়তা, শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভাল লক্ষণ এবং যোগাযোগের উন্নতি ছাড়াও এশিয়ার বাজারে উন্নতির বিষয়ে স্থিতিশীলতা দেখতে পেয়ে লোভনীয় এক ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে, আপনা হতেই বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি সম্ভব. সুতরাং রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে হস্তক্ষেপ করার সময় শেষ হয়েছে এবং রাষ্ট্রের যাবতীয় পরিকল্পনা গুটিয়ে ফেলার পালা এসেছে. এই রকম একটি সংবাদ পাওয়া গেছে জার্মানী ও ফ্রান্স থেকে. বিশেষত গ্রেট ব্রিটেনের অর্থ দপ্তরের প্রধান অ্যালিস্টার ডারলিং ঘোষণা করেছেন যে, অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে সবচেয়ে বিপজ্জনক হল সব কাজ শেষ এই রকম ধারণা. আমরা এখনও এক সঙ্কট মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি, আমাদের সামনে এখনও অনেক বাধা আছে, তাই কোন দেশেরই এখন ঢিলে হওয়ার সময় নেই. রাশিয়াও একই রকম ধারণা পোষণ করে, তাই রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ অল্প আগেই এই বিষয়ে ঐতিহাসিক ঘটনার উদাহরণ দিয়ে ঘোষণা করেছেনঃ

    "বিশ্বের অর্থনৈতিক সঙ্কট একই সঙ্গে কয়েকটি প্রধান প্রশ্ন আমাদের সামনে উপস্থিত করেছে. বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট কোন অসুখের কষ্ট ছাড়াই পার হওয়া সম্ভব কি না? আমরা মনে করতে পারি ১৯৩০ সালের ঘটনা. তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সঙ্কটের দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণ ছিল অনেক পর্যবেক্ষকের মতেই সরকারের সময়ের আগেই নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার. যদি এই শিক্ষা এখন মনে করা হয় তবে, এখন রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে প্রয়োগ করতে হবে জি -২০ দেশ গুলিকে, যাতে এই ২০টি দেশের প্রচেষ্টা বর্তমানের কাঠামোর জন্য কয়েকটি মানদণ্ড নির্ণয় করে তার "সফট ল্যাণ্ডিং" এর ব্যবস্থা শুধু না করে. বরঞ্চ এই কাঠামোর আমূল পরিবর্তন করার জন্য ভিত্তি তৈরী করা দরকার, যা বর্তমানের বিশ্বের অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগের বাজারের পক্ষে প্রয়োজনের উপযুক্ত হয়".

         ঠিক করে বলতে গেলে বলা যায়, যে, বর্তমানের বিশ্বে জি -২০ গঠনের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে যে, বিশ্বে পরিবর্তন এসেছে, কাজের বাজারের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এশিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল অথবা নতুন অর্থনৈতিক শক্তি কেন্দ্র যেমন, ব্রিক দেশ সমূহ – ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন. লন্ডনের জি-২০ দেশের বৈঠকের আগে তাই ব্রিক দেশ গুলির অর্থ মন্ত্রীরা আলোচনাতে বসেছেন, যা শেষ হলে আশা করা হচ্ছে একটি সম্মিলিত ঘোষণা প্রকাশিত হবে.