রাশিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রনেত্রী শ্রীমতী প্রতিভা পাতিলের রাষ্ট্রীয় সফরের আজ প্রথম দিন. এটি এ দেশে তাঁর প্রথম সফর. তা অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাশিয়ায় ভারতের বর্ষের কাঠামোতে. আমাদের ভাষ্যকার গেওর্গি ভানেতসোভ জানাচ্ছেনঃ

 মস্কোয় শ্রীমতী প্রতিভা পাতিলের আলাপ হবে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভ এবং প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে. তিনি রাশিয়ায় ভারতের বর্ষের অনুষেঠানে অংশ নেবেন, সাঙ্কত-পিতারবুর্গ পরিদর্শন করবেন.
 রাশিয়ার নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচিতব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল- রুশ-ভারত কারবারী সম্পর্কের সমস্যা ও পরিপ্রেক্ষিত. রুশ-ভারত সহযোগিতা এখন রণনৈতিক শরিকানার চরিত্র ধারন করেছে, এবং তা আমাদের দু দেশের জীবনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে. তা সফলভাবে বিকশিত হচ্ছে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি, মহাকাশ অধ্যয়ন, বিমান নির্মাণ, বিজ্ঞান ও প্রতিরক্ষা শিল্প এবং অন্যান্য উচ্চ প্রাকৌশলিক ধারায়. যেমন, রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় ভারতেরদক্ষিণে কুদানকুলামে পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তি কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে. এর ১০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ব্লকের নির্মাণ শেষ হতে চলেছে. গত ডিসেম্বরে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির দিল্লি সফরের সময়, কুদানকুলামে ্নুরূপ ক্ষমতার আরও চারটি ব্লক তৈরীর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে. শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তির ক্ষেত্রে দু দেশের সহযোগিতার অন্যান্য চিত্তাকর্ষক প্রকল্পও আছে. সেগুলির বাস্তবায়ন ভারতের বিদ্যুত্ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তীব্র সমস্যা দূর করবে, এবং তার অর্থনীতির আরও দ্রুত বিকাশ সুনিশ্চিত করবে.
 মহাকাশ আত্তীকরণের ক্ষেত্রেও আমাদের সহযোগিতা সফলভাবে বিকশিত হচ্ছে. রাশিয়া ও ভারত চন্দ্রযান-২ নামে মিলিত প্রকল্পের প্রণয়ন শেষ করেছে. এখন দু দেশের বিশেষজ্ঞরা চন্দ্রযান-২ মহাকাশযান তৈরি করবেন ২০১০ সালের মধ্যে. আমাদের কারবারী সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতা. ভারতে আমাদের দেশের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সংখ্যা বাড়ছে যেমন আমেরিকা, ফ্রান্স, ইস্রাইল ইত্যাদি, তবে তাদের তুলনায় রাশিয়ার নিঃসন্দেহে প্রাধান্য আছে. যেমন, কেনা-বেচার মূলনীতি থেকে আমরা উত্তীর্ণ হয়েছি মিলিতভাবে উচ্চ-প্রাকৌশলিক আধুনিক অস্ত্রসজ্জা উত্পাদনে, যা অন্যান্য দেশ এখনও করছে না. এর একটি শফল দৃষ্টান্ত হল মিলিতভাবে ব্রামোস মার্কা সুপারসোনিক ক্রু-মিসাইল উত্পাদন. ভারতের বিমান ও নৌ বাহিনীর বিকাশেও রাশিয়া বিপুল সাহায্য করছে, ভারতকে রাশিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন লিজিং হিসেবে দেওয়ার ব্যাপারেও সমঝোতা অর্জিত হয়েছে. সেভেরোদভিনস্কের ডকে রাশিয়ার অ্যাডমিরাল গর্শকোভ বিমানবাহী জাহাজের আধুনিকীকরণের পরে তা ভারতকে হস্তান্তর করার কথা. নতুন পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার বিমান তৈরী নিয়েও মিলিতভাবে কাজ চলছে.
 স্বভাবতই, এ রকম বড় ও জটিল ব্যাপারে আমাদের দু দেশের সমস্যাও আছে. যেমন, ফরমাশ পুরণের মেয়াদ পালন, ভারতে সরবরাহ করা রাশিয়ার প্রযুক্তির জন্য যন্ত্রাংশ পাঠানো ইত্যাদি.
 অন্যান্য অসমাধিত সমস্যার মধ্যে আছে ভারতের ঋণ পরিশোধের সমস্যা, যা জমা হয়েছে সোভিয়েত আমলে সামরিক প্রযুক্তি সসরবরাহের দরুণ. তা মীমাংসার নানা ধরন আছে, বিশেষ করে ভারতের অর্থনীতিতে পুঁজি নিযোগের রূপে, অথবা রাশিয়ায় ভারতের পণ্যদ্রব্য সরবরাহের মাধ্যমে. তবে, আপাতত তা মীমাংসিত হয় নি.
 বাণিজ্যক সম্পর্কের বিকাশে সমস্যাবলও যথেষ্ট জটিল. এখনও পর্যন্ত দু দেশের মাঝে প্রধানত কাঁচামালের লেনদেন হত, উচ্চ-প্রাকৌশলিক পণ্যদ্রব্যের পরিমাণ যথেষ্ট কম. হয়ত এ জন্যই আমাদের দু দেশের বিপুল সম্ভাবনার তুলনায় পণ্য আবর্তনের পরিমাণ যথে,্ট কম. গত বছরে তা ছিল প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের মতো, অথচ আগামী কয়েক বছরে তা ১০০০ কোটি ডলার পর্যন্ত বাড়ানোর কথা. কিভাবে এ সবকিছু মীমাংসা করা যায় তা নিয়েই রাশিয়ার নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা হবে.