৬৪ বছর আগে টোকিও উপসাগরে মার্কিনী মিসৌরি জাহাজে সোভিয়েত ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট বৃটেন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা জাপানের আত্মসমর্পণের দলিল স্বাক্ষর করেন. এর দ্বারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতি টানা হয়.

   ১৯৩৯ সালের পয়লা সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের কথা স্মরণ করা হয় এর প্রাক্কালে পোল্যান্ডে. ৭০ বছর আগে নাত্সী জার্মানি এ দেশের উপর আক্রমণ করে, এবং মানব জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হত্যার লীলাকাণ্ড চালায়, যাতে জড়িত হয়ে পড়ে ৫৭টি দেশ. তার শিকার হয় ৫ থেকে ৭ কোটি মানুষ. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘটার কারণ ও ভুলভ্রান্তি নিয়ে বিতর্ক আজও চলছে. সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা পুনর্বিবেচনার চেষ্টায় রাজনীতিজ্ঞরা কখনও কখনও তা পরিহাসযোগ্য অবস্থায় নিয়ে যান. যেমন, পোল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি লেখ কাচিনস্কি বলেন যে, পোল্যান্ড নাকি ফ্যাশিবাদীদের সফল প্রতিরোধ করেছিল. আর নাকি জিততেও পারত, যদি লাল ফৌজ বাধা না দিত. একই সঙ্গে তিনি জার্মানি ও অন্যান্য দেশের সাথে চেকোস্লোভাকিয়ার বিভাজনে তাঁর দেশের অংশগ্রহণকে এক বড় পাপ বলে অভিহিত করেন.
   পোল্যান্ডের ডানজিগ শহরে স্মৃতি সমারোহে অংশগ্রহণ করে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণের কথায় এসে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেন যে, এ বিপর্যয় শুরু হওয়ার আগে, যার জন্য সারা পৃথিবীকে বিপুল মূল্য দিতে হয়েছে, সমস্ত পক্ষের তরফ থেকেই অনেক ভুল হয়েছিল. রাশিয়া নিজের ভুল স্বীকার করেছে এবং অন্যান্য দেশের তরফ থেকে অনুরূপ স্বীকৃতির আশা করার অধিকার আছে তার, বলেন ভ্লাদিমির পুতিনঃ
   আমি এখানে কোনো কিছুর মূল্যায়ন করছি না, এ জন্য এখন এখানে আসি নি, আমি এসেছি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এবং নাত্সীবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে পোলিশ জনগণের সাহস ও বীরত্বের যোগ্য প্রতিদান দিতে, জোর দিয়ে বলেন পুতিন. তবে, ইতিহাসের বাস্তব মূল্যায়নের কথায় যদি আসতে হয়, তাহলে আমাদের বোঝা উচিত যে, তা এক রঙা নয়, তা বৈচিত্র্যপূর্ণ, এবং অনেকেই বিপুল সংখ্যক ভুল করেছে. আর এ সব ক্রিয়াকলাপ, কোনো না কোনো ভাবে নাত্সী জার্মানির বিশাল পরিসরের আগ্রাসন শুরু করার জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করে. এ নিয়ে আমাদের কাজ করা উচিত, যদি আমরা বাস্তববাদী চিত্র পেতে চাই. আর কেউ যদি এই পুরনো ছাতা-পড়া বান রুটি থেকে নিজের জন্য কিসমিস খুঁটে বার করে নিতে চায় আর ছাতা-পড়া বাকি সবকিছু এ প্রক্রিয়ার এক অংশগ্রহণকারীর জন্য রেখে দিতে চায়, তাহলে এ থেকে ভালো কিছু পাওয়া যাবে না.
   দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হঠাত্ভাবে শুরু হয় নি. স্বীকার করা দরকার যে, ১৯৩৪ সালে এবং ১৯৩৯ সালে নাত্সীবাদীদের শান্ত করার চেষ্টায় তাদের সাথে নানা সন্ধি ও চুক্তি সম্পাদন করা, শুধু রাজনৈতিক দিক থেকেই বিপজ্জনক ছিল না, নৈতিক দিক থেকেও অগ্রহণীয় ছিল, বলেন ভ্লাদিমির পুতিন. এই সব ক্রিয়াকলাপের সমাহারই বিপর্যয় এনে দিয়েছে,- জোর দিয়ে বলেন ভ্লাদিমির পুতিন এবং যোগ করে বলেনঃ
   মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই এ ব্যাপারের প্রতি যে, মোলোতোভ-রিবেনট্রপ প্যাক্ট হিটলারী জার্মানির সাথে সোভিয়েত ইউনিয়নের দ্বারা স্বাক্ষরিত শেষ ইউরোপীয় দেশের সন্ধি-চুক্তি, আর এর আগে সম্পাদিত হয়েছিল ১৯৩৪ সালের পোলিশ-জার্মান চুক্তি. তাছাড়া, দ্বিপাক্ষিক অনাক্রমণ চুক্তিও ছিল, এই প্যাক্টের মতো দ্বিপাক্ষিক ভিত্তিতে. এর আগে, ১৯৩৮ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল মিউনিখ চুক্তি, অথবা যাকে আরও বলা হয়ে থাকে মিউনিখ ষড়যন্ত্র. তা স্বাক্ষরের পরে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে, পোল্যান্ডের তখনকার সরকার চেকোস্লোভাকিয়ার প্রতি চরম দাবি পেশ করে এবং ভেরমাখটের সাথে একই দিনে নিজের সৈন্যবাহিনী এ দেশের ভূভাগে পাঠায়.
   কিছু কিছু ইউরোপীয় দেশের, অন্ততপক্ষে এখন, ঐতিহাসিক বদলা নেওয়ার চেষ্টা ত্যাগ করা উচিত. সমস্ত ঐতিহাসিক খুঁটিনাটি বিবেচনা করা দরকার, পরস্পরের প্রতি নিজস্ব স্বার্থপর দৃষ্টিভঙ্গী না চাপিয়ে, অতীতের সমস্যাবলির উর্ধে উঠে এক সাথে এগিয়ে যাওয়া উচিত. বাস্তব পরিস্থিতি এই রকম দায়িত্বপূর্ণ মিলিত রাজনীতিরই দাবি করে.