আগামী কয়েক বছরে রাশিয়ার সামরিক বিমান বাহিনী অনেক গুলি নূতন ও আধুনিক প্রযুক্তিতে উন্নত উড়োজাহাজ পেতে চলেছে, আর ২০২০ সালের মধ্যে আধুনিক যন্ত্রের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৭০ ভাগ. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন, রাশিয়ার সামরিক বিমান বাহিনীর প্রধান আলেকজান্ডার জেলিন. মস্কোর শহরতলি ঝুকভস্ক শহরে চালু হওয়া বিমান ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে এই সব আধুনিক সামরিক বিমানের অনেক গুলিকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে.

    আলেকজান্ডার জেলিন বলেছেন, আজ রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর ভোল পাল্টাতে বিমান বাহিনীতেও রদ বদল করা হচ্ছে, কাঠামোর সঙ্গে যুদ্ধের ক্ষমতাও পাল্টে ফেলা হচ্ছে আগের থেকে অনেক উন্নত যন্ত্র ও অস্ত্র ব্যবহার করে.

    "সোভিয়েত দেশের সময়ের তুলনায় বর্তমানে উড়োজাহাজ ও যুদ্ধের জন্য ব্যবহারের বিমান নির্মাণ শিল্প সামরিক বিমান বাহিনীর বিশেষ বায়না অনুযায়ী এমন সব বিমান ও তার যুদ্ধ করার ক্ষমতা যোগ করেছে, যা আগের চেয়ে অনেক গুণ বেশী ক্ষমতা শালী. যদি এস.ইউ – ২৪ এর সঙ্গে এস.ইউ – ৩৪ এর ক্ষমতার তুলনা করা হয় তবে তফাত তিন গুণ. অর্থাত্ একটি নতুন বিমান তিনটি পুরনো বিমানের সমান. আর যদি উদাহরণ হিসাবে হেলিকপ্টার মি – ২৮ এন কে দেখা হয় তবে তা মি – ২৪ এর সাথে ক্ষমতার বিষয়ে তুলনার বাইরে".

    মাক্স প্রদর্শনীতে বিশেষজ্ঞ দের নজর কেড়েছে যুদ্ধ ক্ষেত্রে অগ্রগামী দুটি সামরিক ফাইটার প্লেন এস.ইউ — ৩৫ ও মিগ – ৩৫. এই দুটি বিমানেরই আধুনিকীকরণ করা হয়েছে এমন ভাবে যে, প্রায় পঞ্চম প্রজন্মের বলা চলে. এক্ষেত্রে রাশিয়ার সামরিক বিমান বহরের প্রধান বলেছেন যে, বিমান বাহিনী পঞ্চম প্রজন্মের দ্বিতীয় বিমানটির পরীক্ষা শুরু করেছে. প্রথম উড়ান হবে নভেম্বর মাসে. আর এস.ইউ – ৩৫ সামরিক বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে যতদিন না পঞ্চম প্রজন্মের বিমান গুলিকে শেষ অবধি শিল্পোত্পাদন যোগ্য করে তোলা যায়. এস.ইউ – ৩৫ বিমানটি নানা রকমের কাজের উপযুক্ত ফাইটার প্লেন আর তার শিল্পোত্পাদন শুরু করার কথা আছে ২০১১ সাল থেকেই. এই বিমানটির বিশেষত্ব হল এ "অ্যাভিওনিক্স" বিমানের চালকদের সাহায্য করার জন্য এমন ভাবে তৈরী করা যে, কিছু কাজ এই সিস্টেম নিজেই চালকের জায়গায় "বুদ্ধি" খাটিয়ে করতে পারে. বিমান টিতে রয়েছে বিভিন্ন ফেজের জালের মতো অ্যান্টেনা দেওয়া রেডিও চালিত অবস্থান নির্ণয়ের ব্যবস্থা আর মোটর গুলিতে উল্টো ভেক্টরে টানার ব্যবস্থা. ফাইটার প্লেন মিগ – ৩৫ তৈরী হয়েছে এক বা দুই জন চালকের জন্য. এই বিমানে পঞ্চম প্রজন্মের তথ্য ও নিশানা স্থির করার ব্যবস্থা আছে, যা একই সঙ্গে রাশিয়ায় তৈরী বা বিদেশে তৈরী ধ্বংস করার অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে. অন বোর্ড ডিফেন্স সিস্টেম এই বিমানটির "আয়ু" অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে. মিগ -২৯ বিমানের সঙ্গে তুলনা করতে গেলে নতুন বিমানটিতে প্রায় দেড় গুণ বেশী জ্বালানী নেওয়া সম্ভব. বিমানের অস্ত্র বহন ক্ষমতা বেড়েছে অনেক. অন বোর্ড সিস্টেমে মিগ -৩৫ বিমান ফাইটার প্লেনে পঞ্চম প্রজন্মের প্রযুক্তির ব্যবহার হয়েছে, প্রধান অংশ রাডার "ঝুক – আএ", বিভিন্ন ফেজের জালের মতো অ্যান্টেনা দেওয়া রেডিও চালিত অবস্থান নির্ণয়ের ব্যবস্থা , যা দিয়ে নজরের বাইরের শত্রুর সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব এবং একই সঙ্গে অনেক গুলি মাটিতে থাকা ও আকাশে থাকা লক্ষ্যকে আক্রমণ করা সম্ভব.

    রাশিয়ার সামরিক হেলিকপ্টার বাহিনীর বর্তমানের মি – ২৪ হেলিকপ্টার গুলির জায়গা নেবে মি – ২৮ এন এবং কে আ – ৫২ "অ্যালিগেটার" হেলিকপ্টার. ২০১২ সালের মধ্যেই বেশ কয়েক দশক এই রকম হেলিকপ্টার দেখতে পাওয়া যাবে এবং ২০১৫ সালের মধ্যে আরও ৬৪ টা নতুন ফাইটার যোগ দেবে সামরিক বাহিনী তে. বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক মূল্যায়ণ অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে রাশিয়ার সামরিক বিমান বহর প্রায় দুশো নতুন বিমান পেতে চলেছে.