সন্ত্রাসবাদীদের হুমকি উপেক্ষা করে আফগানিস্থানের জনসাধারন দেশের রাষ্ট্রপতি ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রার্থী নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে সক্রিয় ভাবে ভোট দিয়েছেন. অধিকাংশ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের ভাষায় আফগানিস্থানে যে ভোট পর্ব সম্পন্ন হতে পেরেছে, এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য.

    রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং সন্ত্রাসবাদ বিরোধী জোটের দেশগুলির নেতারা আফগানিস্থানের জনগণ কে রাষ্ট্রপতি ও স্থানীয় প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য প্রথম সফল গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার প্রয়োগের কারণে অভিনন্দন জানিয়েছেন. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা অংশতঃ ঘোষণা করেছেন যে, তালিবদের হুমকি সত্ত্বেও ভোট ভালভাবেই সম্পন্ন হয়েছে. মস্কো থেকেও আফগানিস্থানের নির্বাচন সফল হওয়াকে স্বাগত জানানো হয়েছে. কাবুলের সঙ্গে প্রসারিত ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাসও মস্কো দিয়েছে. প্রথমেই সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা ও মাদকের চোরা চালান বন্ধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা দৃঢ় হবে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য সম্প্রচার বিভাগের মন্তব্যে এই বিষয়ে আজ উল্লেখ করা হয়েছে. এই মন্তব্যে আরও বলা হয়েছে যে, ভোটের সময় সন্ত্রাসবাদীদের সক্রিয়তা সত্ত্বেও আফগানিস্থানের জন সাধারন প্রমাণ করেছে যে, তারা গণতান্ত্রিক সরকার গঠনে আগ্রহী.

৩রা সেপ্টেম্বর এই নির্বাচনের ফলাফল সরকারি ভাবে ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে, তবে এক্সিট পোলের হিসাবে দেখা গেছে যে, একজন প্রার্থী ও জয়ের জন্য উপযুক্ত পরিমান ভোট পান নি. দেশের দক্ষিণ ও পূর্বে হামিদ কারজাই এগিয়ে রয়েছেন আর উত্তরে লোকে বেছেছে প্রাক্তন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডঃ আ. আবদুল্লা কে. এর মানে হল সম্ভবতঃ দ্বিতীয় পালা দরকার হবে. রাজনীতিবিদ ইউরি ক্রুপনভ আমাদের রেডিও স্টেশন কে দেওয়া একটি সাক্ষাত্কারে বলেছেনঃ

    "সন্ত্রাস, মারপিট ইত্যাদি সব কিছু সত্ত্বেও ভোট শেষ অবধি হতে পেরেছে. অন্য দিক থেকে আমরা পরিষ্কার বুঝতে পারছি যে, যখন আফগানিস্থানে শুধু বিদেশী সৈন্যের সংখ্যাই এক লক্ষের কাছাকাছি, তখন গণতান্ত্রিক নির্বাচনের কথা বলা হাস্যকর. আবার আমার মতে গণতান্ত্রিক হতে পারে নি বলে, এই ভোট কে চিহ্নিত করার কোন মানেও হয় না, কারণ এখন প্রধান হল আফগানিস্থানের ক্ষমতায় থাকা বর্তমানের প্রশাসন কে ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে ভাল বলে, একটা আইন সঙ্গত অধিকারে স্থাপন করার প্রয়োজন আছেই. বোধ হয় হামিদ কারজাই ক্ষমতায় থাকবেন, কারণ আমার মতে উনি একমাত্র রাজনৈতিক নেতা, যিনি আফগানিস্থানের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে পরম্পরা মেনে কাজ করে যাচ্ছেন".

    অনে পর্যবেক্ষকেরা ভোটের সময় অনেক কারচুপির উল্লেখ করেছেন, তা সত্ত্বেও এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য হয়েছে একটি যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক ধ্বংসস্তুপের উপর বসে থাকা দেশে নির্বাচন হতে পেরেছে. দেখাই যাচ্ছে, যারা আগে প্রশাসনের ক্ষমতায় সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, তারা বিশ্বাস ফিরে পাবেন সরকারে. আর সরকার আফগানি জনতার বিশ্বাস ফিরে পেলেই তার সাহায্যে দেশকে পূণর্জন্ম ও স্থিতিশীলতা দিতে পারবেন.

<audio>