পাকিস্থান ও আফগানিস্থান সংক্রান্ত বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির বিশেষ প্রতিনিধি রিচার্ড হোলব্রুক কে ভারত সফরে আবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে.

বিষয়টি নিয়ে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

পাকিস্থান ও আফগানিস্থান সফরের শেষে এপ্রিল মাসের মত এবারেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির বিশেষ প্রতিনিধি রিচার্ড হোলব্রুক একসাথে ভারত সফর টাও সেরে ফেলতে চেয়েছিলেন. কিন্তু এই বারে ভারত তাঁকে সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে. সরকারি ভাবে দিল্লী জানিয়েছে যে, ভারতে ওনার সঙ্গে দেখা করতে পারে এমন উপযুক্ত কোন লোক এই সময়ে থাকছেন না. অন্য ভাবে বললে, দিল্লী ওঁর জন্য অপেক্ষা করছে না. এই নিয়ে একমাসে দ্বিতীয়বার হোলব্রুক কে দিল্লী প্রত্যাখ্যান করেছে. তাই স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে আসল কারণ কি এই প্রত্যাখ্যানের.

ভারতের সংবাদ সংস্থার খবর ও দেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদদের ঘোষণা গুলি দেখলে বোঝা যায় ভারতের প্রত্যাখ্যানের আসল কারণ. অংশতঃ দিল্লী দেখতে পেয়েছে যে, কাশ্মীরের বিষয়ে হোলব্রুক চেষ্টা করছেন ভারতের পররাষ্ট্র নীতিতে চাপ সৃষ্টি করে পাকিস্থানের অনুকূলে বিষয়টা নিয়ে যেতে. হিন্দু সংবাদ পত্রের স্ট্র্যাটেজিক বিষয় সম্পর্কের প্রধান সম্পাদক সিদ্ধার্থ ভরদরাজন এই কারণ টিকেই মুখ্য বলেছেন. উনি ভারতের সরকারি পক্ষ এবং পর্যবেক্ষকদের মধ্যে অন্যতম প্রতিনিধি, যিনি মনে করেন যে, এই অঞ্চলে পাকিস্থানকে আমেরিকা অন্যতম সহযোগী দেশ হিসাবে মনে করে, তাই ভারতের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ওয়াশিংটন পাকিস্থানের স্বার্থটাই খালি দেখছে. বিশেষত, তাঁর মতে ওয়াশিংটনে খুব করে চাওয়া হচ্ছে যে, ভারত পাকিস্থানকে কাশ্মীরের বিষয়ে ছেড়ে দেয় আর পাকিস্থান তার সৈন্য বাহিনী ভারত সীমান্ত থেকে সরিয়ে নিয়ে আফগান সীমান্তে সেখানকার তালিবদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পাঠায়. রিচার্ড হোলব্রুকের সম্ভাব্য সফর সম্বন্ধে এই কথাই বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রাক্তন সেক্রেটারি ললিত মানসিংহ.

মনে করিয়ে দেওয়া যায় যে, বিগত কিছু কাল ধরেই ভারত পাকিস্থান সীমান্তে পাকিস্থানের প্রশয়ে বেড়ে ওঠা ঐসলামিক চরমপন্থী সন্ত্রাসবাদীরা সশস্ত্র আক্রমণ চালাচ্ছে. দিল্লী এর আগেও বহুবার ইসলামাবাদকে বলেছে যে, পাকিস্থান যেমন দেশের উত্তর পশ্চিমে তালিবদের বিরুদ্ধে অভিযান করছে, ঠিক সেই রকম ভারত পাকিস্থান সীমান্তের কাশ্মীরে চরমপন্থীদের বিরুদ্ধেও করতে. কিন্তু ইসলামাবাদ তা করতে রাজী নয় এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী চরমপন্থীদের প্রশয় দিয়েই যাচ্ছে. তাই রিচার্ড হোলব্রুক মুখে যতই বলুন না কেন যে তিনি ভারত পাকিস্থান সম্পর্কের সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোন অংশ নিতে চান না, শুধু দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের সেতু বাঁধতে চান, তার সেই প্রয়াস দিল্লী সন্দেহের চোখেই দেখেছে.

অবশ্যই পাকিস্থান ও আফগানিস্থান সংক্রান্ত বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির বিশেষ প্রতিনিধি রিচার্ড হোলব্রুক কে ভারত সফরে আবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে মানেই যে, ভারত মার্কিন সম্পর্কে ঠাণ্ডা হাওয়া বইছে তা নয়. কিন্তু তাও আমেরিকান সংবাদ সংস্থাগুলির কয়েকদিন আগের করা ঘোষণা মত, পররাষ্ট্র বিষয়ের মুখ্য সচিব হিলারি ক্লিন্টনের ভারত সফর ও তার ফলাফলকে ভারত মার্কিন সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী বলে যে রকম ধুয়ো তোলার চেষ্টা চলছিল তাতে পরপর দুই বার হোলব্রুক কে দিল্লীর ভারত সফরে প্রত্যাখ্যান বুঝিয়ে দিয়েছে যে, ব্যাপারটা মোটেও অতকিছু নয়.

 এই বিষয়ে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর পূর্ব দেশ গুলির অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের ভারত অনুসন্ধান কেন্দ্রের প্রধান তাতিয়ানা শাউমিয়ান মন্তব্য করেছেনঃ

"অতীতে ভারতের পররাষ্ট্র নীতি সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে যে, ভারত সব রকম দেশের সঙ্গেই নানা রকম ভাবে সম্পর্কের উন্নতি করে চলেছে. তবে কখনোই সেটা রাশিয়া, চীন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কোন একদিকে হেলে যায় নি, আর আমার মতে এটাই ঠিক. ভারত সর্বদাই পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে নিজের দেশের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে কাজ করেছে, তাই এখন নতুন করে অন্য কোন দেশের স্বার্থের কথা ভেবে কাজ করবে বলে মনে হয় না".

<audio>