"মহান মুঘল সম্রাটদের সময়ের ভারতের জড়োয়া গয়নার শিল্প" – নামে এক দারুণ সুন্দর প্রদর্শনী শুরু হয়েছে সেন্ট পিটার্সবার্গের বিশ্ব বিখ্যাত হার্মিটেজ মিউজিয়ামে, গয়না গুলি এসেছে কুয়েতের জাতীয় যাদুঘর থেকে.

    প্রায় চারশো সোনা, হীরে, জহরত, মণি ও মুক্তার জড়োয়া গয়না রাখা হয়েছে দর্শকদের জন্য. ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকের মহান মুঘল সম্রাটদের শাসন কালের সময়ে ভারতের গহনা শিল্পীদের রচিত এই সব অনবদ্য উদাহরণ বড়ই মনোমুগ্ধকর. সেন্ট পিটার্সবার্গের আগে কুয়েতের যাদুঘরের এই সব গয়না দেখানো হয়েছে পৃথিবীর আরও নানা শহরে, তার মধ্যে মস্কোও রয়েছে. মস্কো ক্রেমলিনের যাদুঘরের ডিরেক্টর জেলফিরা ত্রেগুলোভা, যিনি মস্কোতে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন, তিনি বলেছেনঃ "এই সংগ্রহটি কে নিশ্চিত করেই মহান মুঘল সম্রাটদের সময়ের ভারতের জড়োয়া গয়নার শিল্পের সেরা নিদর্শন বলা চলে".

         জেলফিরা ত্রেগুলোভা বলেছেন, "মুঘল সম্রাটেরা তাঁদের রাজত্ব কালে ভারতের সমস্ত জায়গা থেকে সেরা জড়োয়া গয়না নিজেদের স্তুতি বাক্য বা খ্যাতির প্রামাণ্য খোদিত অবস্থায় সংগ্রহ করেছিলেন. মূল্যবান খনিজ পাথরের প্রতি এই সময়ে আগ্রহ ছিল সম্পূর্ণ অন্য রকমের, তখনকার শিল্পী ও রসিকেরা মূল্যবান ও দূর্লভ এই পাথর গুলিকে সেগুলির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য বজায় রাখতে প্রায় কিছুই পরিবর্তন করতেন না". প্রদর্শনীতে সোনা ও মূল্যবান গয়না ছাড়াও কম দামী পাথর যেমন, নেফ্রাইটিসের তৈরী জিনিস ও রাখা হয়েছে. অংশতঃ তরলের জন্য বাটি. এস্থেটিক সৌন্দর্য্যের দিক থেকে এই দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিস গুলিও সমান রকম শিল্পের নিদর্শন হতে পেরেছে. তখন জিনিস গুলির যে অংশ অন্যদের চোখে পড়ত না, সে জায়গা গুলিও প্রদর্শন যোগ্য জিনিস গুলির মত কারুকার্যে ভর্তি থাকত. যেমন, বাটির নীচের দারুণ খোদাই করা কাজ.

    ৮ই নভেম্বর পর্যন্ত হার্মিটেজে কুয়েতের এই প্রদর্শনী চলবে. প্রথম দিন থেকেই পিটার্সবার্গের সাধারণ মানুষ প্রদর্শনীর প্রতি এত আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যে, কর্তৃপক্ষ অনেক রাত পর্যন্ত হার্মিটেজের এই হল টি খুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন.

    কিন্তু সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল বিশ্বের অন্যতম মিউজিয়াম হার্মিটেজের নিজেরও মুঘল জড়োয়া গয়নার সংগ্রহ রয়েছে, যদিও সেটা খুব বড় নয়, তাও তাতে ৩০ টি অতি মূল্যবান জড়োয়া গয়না রয়েছে. এখানে ১৭টি বিশেষ কারণে ব্যবহারের জিনিস রয়েছে, যেমন, গোলাপ জলের জন্য কলসী, থালা আর বোতল. সব কটিই সোনার তৈরী ও বলা যায় মূল্যবান পাথর দিয়ে বিছানো অথবা নানা রংয়ের এনামেলে আবৃত. হার্মিটেজে যে রকম আছে, ঠিক সেই রকম থালা বাসন পৃথিবীর আর কোথাও নেই বলে বিশেষ করে বলা হয়ে থাকে. যদি কুয়েতে এই সংগ্রহ শুরু হয়ে থাকে ১৯৭০ সালে – কুয়েতের শাসক পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে, তবে রাশিয়ার হার্মিটেজের সংগ্রহের সময়কাল অনেক দিন আগের. অভাবনীয় হল অষ্টাদশ শতকে রাশিয়ার সম্রাজ্ঞী দ্বিতীয় ইকাতেরিনার ব্যক্তিগত সংগ্রহের গহনা ও মূল্যবান জিনিসের হিসাবে এগুলির উল্লেখ রয়েছে.